১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল ॥ বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে নড়াইলে বরেণ্য চিত্রকর, মাটি ও মানুষের শিল্পী এসএম সুলতানের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সকালে শিল্পীর মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। এছাড়া কোরআনখানি, মাজার জিয়ারত, দোয়া মাহফিল, চিত্রাঙ্কন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন আয়োজিত এসব কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবীর টুকুসহ সহ বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিল্পীর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠিত হয় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযাগিতা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক ক্ষুদে শিল্পী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রংতুলির রঙ্গিন আঁচড়ে রাঙ্গিয়ে তোলে নিজ নিজ ক্যানভাস।

চিত্রা নদী পাড়ের ‘লাল মিয়া’ বরেণ্য চিত্রকর, মাটি ও মানুষের শিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৮ সালে ভর্তি হন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। এ সময়ে ছবি আঁকার হাতেখড়ি তার। সুলতানের আঁকা সেই সব ছবি স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি আর্কষণ হয়।

চিত্রশিল্পের খ্যাতি হিসেবে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদকসহ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা।