২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জমিদাতার চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় মাদ্রাসা মাঠে পুকুর খনন

সংবাদদাতা, নান্দাইল, ময়মনসিংহ, ১০ অক্টোবর ॥ মাদ্রাসা সুপারের ছয় নিকট আত্মীয়ের চাকরি স্থায়ী হলেও বিপত্তি ঘটে জমিদাতার দফতরি পদ নিয়ে। এর জেরেই মাদ্রাসার মাঠে তৈরি করা হয়েছে পুকুর। আরেক পাশে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। এ অবস্থায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এত কিছুর পরও কোন সুরাহা করতে পারছে না মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে নান্দাইল পৌর সদরের কাটলিপাড়া কেডিএস আলিম মাদ্রাসায়।

সরেজমিন মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, নান্দাইল পৌরসভার কাটলিপাড়া মহল্লায় নান্দাইল-রসুলপুর পাকা সড়কের পাশে মাদ্রাসাটি অবস্থিত। পূর্বে অন্যত্র থাকলেও ১৯৮৫ সালে এই জায়গায় এটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন কাটলিপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলি, নজরুল ইসলাম ও আব্দুল হেলিম মাদ্রাসার জন্য ৬ কাঠা (৬০ শতক) জমি দান করেন। শর্ত ছিল প্রত্যেকের পরিবার থেকে একজন করে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিতে হবে। শর্ত অনুযায়ী দুই পরিবারের একজনকে কম্পিউটার শিক্ষক ও অন্যজনকে নাইট গার্ড পদে চাকরি দেয়া হয়। কিন্তু বাদ পড়েন জমিদাতা আইয়ুব আলীর এইচএসসি পাস পুত্র হাসিম উদ্দিন। হাসিম ১৯৯০ সালে ওই মাদ্রাসায় দফতরি পদে যোগদান করেন। বিনা বেতনে ১৩ বছর চাকরিও করেন তিনি। অবশেষে স্থায়ী না হওয়ায় ২০০২ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে চলে যান। সূত্র জানায়, চাকরি না হওয়ার ক্ষোভে মাদ্রাসার মাঠে তার জমির একঅংশে গভীর গর্ত করে পাড় ছাড়াই পুকুর খনন করেন হাসিম উদ্দিন। বাকি অংশে মৌসুমে ধানের বীজতলা এবং অন্য সময় সবজি চাষ করেন। এজন্য এক যুগের বেশি সময় ধরে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন মাঠে সারা বছরই পানি জমে থাকে। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না।

সম্প্রতি ওই পুকুরের পাশেই অত্যাধুনিক একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। কিন্তু গর্তের পাশে ওই ভবনে পাঠদান কষ্টকর হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

মাদ্রাসা মাঠে পুকুর দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিম উদ্দিন জানায়, বিগত ১৩ বছর চাকরি করার পরও সরকারী বেতন ভাতাদির (এমপিও) ব্যবস্থা করে দেননি তৎকালীন সুপার হুসাইন আহমেদ। অথচ এই সময়ে তার পুত্র, পুত্রবধূ, মেয়ের জামাই, ভাইয়ের মেয়ের জামাই, বোন জামাই ও ভাইয়ের শ্যালককে মাদ্রাসায় বিভিন্ন পদে চাকরি দেয়া হয়েছে। তারা সরকারী বেতন ভাতাও পাচ্ছে। শুধু আমার বেলায় এত বিপত্তি কেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের শর্ত ভঙ্গ করেছে। এখন আর আমার জমি মাদ্রাসাকে দেব না। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী মৌলবী সাবেক সুপারের পুত্র আবুল মনসুর বলেন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে বেতন ভাতাদি হতে একটু দেরি হয়। এটা সহ্য না হওয়ায় হাসিম চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। এতে মাদ্রাসার তো কিছু করণীয় নেই। মাদ্রাসার বর্তমান সুপারিন্টেন্ডেন্ট সাবেক সুপারের জামাতা ওয়াকিব মিয়া বলেন, হাসিম উদ্দিন চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও যাদের চাকরি দেয়া হয়েছে তাদের সবার সরকারী বেতন হয়েছে।