১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান

প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনাময় অঞ্চল বাংলাদেশ তেল-গ্যাস উত্তোলনে বিদেশী সংস্থা কিংবা সাহায্যের প্রত্যাশী হলেও দেশীয় কোম্পানির দীর্ঘদিনের সেবা ও কর্মোদ্যোগের ব্যাপারটিও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে দেশের স্থলভাগের ব্লকগুলোতে তেল-গ্যাসের উৎপাদন ও উত্তোলন নিয়ে বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নতুন করে নানাভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের বাইরের কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে তদ্বির শুরু করেছে। কিন্তু সরকার ব্যাপেক্স ও পেট্রোবাংলাকে তেল-গ্যাস আহরণের ব্যাপারে আরও শক্তিশালী করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যে সব জায়গায় দেশীয় কোম্পানিগুলোর অভিজ্ঞতায় প্রযুক্তিগত ঘাটতি রয়েছে সেখানে বিদেশী সংস্থাকে সহযোগী শক্তি হিসেবে বিবেচনায় আনা যেতে পারে। যেমন, দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং সমুদ্রের তলদেশে গ্যাস-তেল উত্তোলনে বিদেশী সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সঙ্গত।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে সরকার গৃহস্থালির কাজেও গ্যাস সরবরাহ করতে বিশেষ উদ্যোগী ছিল। ফলে বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ পারিবারিক জ্বালানি সঙ্কট মেটালেও এর অপব্যবহারে গ্যাসের মজুদ ক্রমান্বয়ে কমে আসতে থাকে। নতুন গ্যাস উৎপাদনেও নানাবিধ সঙ্কট মোকাবেলা করতে হয়। ফলে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকে। একবিংশ শতাব্দীর সূচনাকাল থেকে শিল্প-কারখানায়, বিদ্যুত সরবরাহে গ্যাসের প্রয়োজনীয়তা বাড়তে থাকলে এর অপ্রতুলতায় সরকার বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগ প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন করে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে শুধু আমদানি নির্ভর হলেই সঙ্কট মিটবে না। তার জন্য প্রয়োজন অভ্যন্তরীণ কর্মপ্রকল্পে দেশীয় গ্যাস সম্পদকে নতুন মাত্রা দেয়া। আর এখানেই দেশীয় গ্যাস সরবরাহ কোম্পানিকে প্রযুক্তিগত ও অভিজ্ঞতার আলোকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পোন্নত দেশ জাপানের মিতসুই অয়েল এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি বাংলাদেশের ৮ এবং ১১নং ব্লক থেকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছেনি। তবে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞরা বলছেন, বাপেক্সের মতো শক্তিশালী কোম্পানি থাকতে দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া নিজেদের স্বার্থেই জরুরী। বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্বমূলক অবস্থায় চলে গেলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অযাচিত হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকেই যায়। এতে দেশের স্বার্থ বিঘিœত হতে পারে। পেট্রোবাংলাও এক্ষেত্রে উৎপাদনে যৌক্তিক অংশীদারিত্ব নিতে পারে। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদের পর্যাপ্ততা নিয়েও সংশয় থেকে যায় বিদেশী প্রভাবের কারণে। গ্যাস সঙ্কট মোকাবেলায় বসতবাড়ির বিষয়টি এখনও ভাবনা-চিন্তার বাইরে। আমদানিকৃত সিলিন্ডার গ্যাসই রান্নার যথার্থ সহায়ক জ্বালানি। তাই সমুদ্রসহ পার্বত্য এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধানে একতরফা বিদেশী নির্ভরশীলতাকে যথাসম্ভব পাশ কাটাতে হবে। দক্ষ এবং সক্ষম মানব সম্পদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ে অভিজ্ঞতা এবং কর্মক্ষমতাকে এক সঙ্গে জোরালোভাবে মেলাতে হবে। জনস্বার্থ বিবেচনায় গণসচেতনতাও এক আবশ্যিক কর্মোদ্যোগ।