১০ অক্টোবর ২০১৯

পাসপোর্ট সঙ্কট

দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে পাসপোর্টের বই পেতে যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলছে। বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোয় এমন সঙ্কট বিরাজ করছে। সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সময়ের ব্যাপারে নতুন পাসপোর্ট কিংবা নবায়ন করতে স্বাভাবিক যে সময়টুকু লাগে তার চেয়ে দুই তিন গুণ সময় পার করেও তা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন আবেদনকারীরা। প্রতিদিন ঢাকা এবং আঞ্চলিক কার্যালয়ে অসংখ্য আবেদনকারী পাসপোর্টের অপেক্ষায় নাজেহাল হচ্ছেন। সবচাইতে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তাদের দেশে এসে মেয়াদ পার হওয়া পাসপোর্টের নবায়ন কিংবা নতুন করার আবেদন নিয়ে ধর্ণা দিলেও সময়মতো তা পেতে অনেক অসুবিধার আবর্তে পড়তে হচ্ছে। সবচাইতে বেশি সঙ্কট ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরের কার্যালয়ে। ভিসা এবং টিকেট সঙ্কটে পড়া অনেক মানুষ উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে রোগী এবং শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা অন্তহীন। আঞ্চলিক অফিসের পাসপোর্ট প্রার্থীদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকার মূল অধিদফতরে। ফলে ঢাকার আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট অফিসে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা যাচ্ছে। অনেকে পাসপোর্ট পেলেও আবার না পাওয়ার সংখ্যাও কম নয়।

গত জুলাইয়ে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল সেটার কারণেই বইয়ের সঙ্কট তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরেও ই-পাসপোর্টের কোন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হওয়ায় এমআরপি বইয়ের সঙ্কট বেড়ে যায়। ডিসেম্বরে ই-পাসপোর্ট দেয়ার উদ্বোধন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ই-পাসপোর্টের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বর্তমানে সারাদেশে বইয়ের অপর্যাপ্ততায় সমস্যা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। বিপাকে পড়ছে পাসপোর্ট গ্রহীতারা। তবে বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক আশ্বস্ত করেছেন পাসপোর্টের সঙ্কটাবস্থা প্রায় কেটে গেছে। অধিদফতর জরুরী ভিত্তিতে ২০ লাখ বই আমদানি করেছে বলেও তিনি জানান। সে সব বই ও আনুষঙ্গিক কাগজপত্র দেশে এসে গেছে। ঢাকা ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাসপোর্ট বইয়ের যে ঘাটতি ছিল, তাও পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় বইটি হাতে পেতে তেমন অসুবিধা হবে না।

তবে এর বাইরেও অভ্যন্তরীণ আরও কিছু সঙ্কট আবেদনকারীদের পোহাতে হয়। দালাল চক্রের হয়রানি, পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যাপারেও বিভিন্নভাবে নাজেহাল হতে হয়। তার ওপর যদি বই সঙ্কট থাকে তাহলে আবেদনকারীদের অবস্থা কোন পর্যায়ে ঠেকে তা সহজেই অনুমেয়। তাই পাসপোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আরও নজরদারিতে এনে এর নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।