১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হবে নিরাপদ খাবার পানি

ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হবে নিরাপদ খাবার পানি
  • ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ॥ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াসার পানি ব্যবহারে সবার মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিল কমানোর চিন্তা থেকে হলেও পানি অপচয় করবেন না। কম পানি ব্যবহার করলে বিলও কম আসবে। আমরা বর্তমানে কেবল ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহরেও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে জেলা ও উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের কাছে নিরাপদ খাবার পানি পৌঁছে দেয়া।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের যশলদিয়ায় পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১), ঢাকার সাভারের তেতুলঝরায় ওয়েল ফিল্ড কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (ফেজ-১) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে এসব কথা বলেন। প্রথম দুটি প্রকল্পের যথাক্রমে ৪৫ কোটি ও ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ এবং শেষের প্রকল্পটির ৫০ কোটি লিটার পানি শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবার জন্য নিরাপদ পানি’ সরকারের স্লোগানকে ধারণ করে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর বস্তিগুলোতে আইনসম্মত ও নিরাপদ পানি সংযোগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে। পর্যায়ক্রমে সব বস্তি পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা না কমালে আমাদেরকে গুরুতর পরিণতির মোকাবেলা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় জলাধার নির্মাণ এবং বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সেচ কাজে বৃষ্টি ও ভূপরিস্থ পানি ব্যবহারের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৪ হাজার ৭শ’ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব নদীর নাব্য বজায় রাখা ও তা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করতে নদী খননের কাজ চলছে। তিনি বলেন, পরিস্রবণের মাধ্যমে ৭ হাজার পুকুর লবণাক্ততামুক্ত হয়েছে। এছাড়া লবণাক্ত অঞ্চলে ৩২ হাজার ৬শ’ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, মানুষের নগরমুখী প্রবণতা বন্ধ করতে গ্রামের জনগণের কাছে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে তার সরকার কাজ করছে। সবার জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, স্যুয়ারেজ এবং ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে আমাদের সরকার তিনটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই এ্যান্ড স্যুয়ারেজ এ্যাক্ট, ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই এ্যান্ড স্যানিটেশন এ্যাক্ট ২০১৪ পাস এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানিনীতি এবং ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন এ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়।

এমডিজির সফল বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজি-২০৩০ এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬ নম্বর হচ্ছে, সবার জন্য স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা। আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজি সমন্বিত করেছি এবং এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।

নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে অতীত সরকারগুলোর কিছুই না করার তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, আমরা ঢাকা মহানগরীকে ‘পানি সঙ্কটের’ মধ্যে পাই এবং এই সঙ্কট কাটাতে আমরা সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নির্মাণ করি। পুনরায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরে একই পরিস্থিতি পাই এবং আমরা তখন সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ২ ও ৩ নির্মাণ করি। তার সরকার ২০৪১ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরবরাহ বিভাগের সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি-জিমিং, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটাতে এই ৩ প্রকল্প এবং বিগত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখানো হয়।