১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চান না বুয়েট শিক্ষার্থীরা

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ চান না বুয়েট শিক্ষার্থীরা
  • আজকের মধ্যে দশ দফা পূরণ না হলে ক্যাম্পাসের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘোষণা ;###;অনিশ্চয়তায় ১৪ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ’ দাবির অবস্থান থেকে সরে এসে এবার ‘দলীয় ও সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি’ বন্ধের দাবি তুলেছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আজকের মধ্যে উপাচার্যকে দশ দফা পূরণে সময় বেঁধে দিয়ে তারা ঘোষণা করেছেন, অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। এদিকে কোটা ও সড়ক আন্দোলনের মতো বুয়েট ইস্যু পুঁজি করে মাঠে সক্রিয় হচ্ছে জামায়াত-শিবির। এমন পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ১৪ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে। তবে বুয়েট আন্দোলনকে ঘিরে শিক্ষক, এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের তৎপরতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, আগের ঘটনায় তারা কোথায় ছিলেন?

বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট ২০১৯’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের পর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বুয়েটে আবরার হত্যাকা- ছাড়াও এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, তখন শিক্ষক ও এ্যালামনাই এ্যাসোসিয়েশন কোথায় ছিলেন? তখন তারা কেন আন্দোলনে নামেনি? কেন এখন সকলে মিলে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন? এটি আমার কাছে রহস্যজনক। তবে বুয়েটের চলমান অস্থিরতা বুয়েট প্রশাসনের মাধ্যমে নিরসন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না। ভিসির পদত্যাগ করা, না করাটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে না। এটি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, বুয়েটের ছাত্ররা যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে তাতে আমাদের কিছু করার নেই। বুয়েট প্রশাসনের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুয়েটে ছাত্রলীগ ছাড়াও সেখানে অন্যান্য শক্তিশালী ছাত্রসংগঠন রয়েছে। এর আগে তাদের কখনও আন্দোলনে নামতে দেখা যায়নি। বুয়েটের ছাত্রসংগঠন থাকবে কি থাকবে না সেটি বুয়েট প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া হবে না।

ভিসির পদত্যাগ দাবির বিষয়ে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ভিসির আর কয়েক মাস মেয়াদ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সরানো হবে কি হবে না সেটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় নেই। তবে আবরার ঘটনায় আমি লজ্জিত। মেধাবী এমন একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে মারায় দেশের মানুষ মর্মাহত।

জাতীয় প্রেসক্লাবে অপর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, সস্তা ভারত বিষয়ক রাজনীতির কারণে আবরার ফাহাদ হত্যাকা- হয়নি। তবে দেশের কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতাকর্মীরা এটিকে বিভিন্ন খাতে ঘোরানোর চেষ্টা করছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। তারা নিজেদের স্বার্থরক্ষায় এটিকে রাজনৈতিক লেবেল দেয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা তাদের কাছে আশা করব, একে রাজনৈতিক ইস্যু করে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য।

তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নজির আগে কখনও ছিল না। এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিজের তত্ত্বাবধানে ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিয়েছেন।

তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, বিষয়টি সার্বিক পর্যালোচনা করার জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলবে। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ থাকবে না বলেই আশা রাখছি।

চতুর্থ দিনেও আন্দোলন বুয়েটে ॥ আগের দিন দিনের মতো বৃহস্পতিবারও সকালে সকালে শিক্ষার্থীরা বুয়েট শহীদ মিনারে জড়ো হন। এতদিন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাদের বক্তব্যে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুললেও বৃহস্পতিবার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে এবার ‘দলীয় ও সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি’ বন্ধের দাবি তুলেছেন। একই সঙ্গে আজকের মধ্যে উপাচার্যকে দশ দফা পূরণে সময় বেঁধে দিয়ে তারা ঘোষণা করেছেন, অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য দুদিন আগে আমাদের মধ্যে এলেও আমাদের কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। আমরা আশা করব, ভিসি স্যার কাল (শুক্রবার) দুইটার মধ্যে আমাদের মাঝে আসবেন, তিনি সবার সঙ্গে কথা বলবেন। যদি তা না হয়, তাহলে বুয়েটের সব বিল্ডিংয়ে তালা ঝুলবে।

এর আগে মঙ্গলবার উপাচার্য সাইফুল ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে ‘নীতিগতভাবে’ তাদের দাবির সঙ্গে একমত জানালেও তখনকার আট দফা মেনে নেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দেয়ায় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা বন্ধসহ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনরতরা। পরদিন শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি বাড়িয়ে ১০টি করেন। এগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেয়া সময়ের আগে ওইদিনই পদ ছাড়েন প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান।

কিন্তু বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাননি, তাই তাদের দাবি দশটিই থাকছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কর্মসূচীতে ছিল ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ইস্যু। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ চাই না। আমরা চাই সাংগঠনিক যে রাজনীতি সেটি বন্ধ হোক। গণমাধ্যমে বিভিন্ন টকশোতে যারা কথা বলছেন তারা যেন এই পার্থক্যের জায়গাটা বুঝে নেন সেটিও অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, বছরের পর বছর সাংগঠনিক রাজনীতির নামে জোর করে মিছিল-মিটিংয়ে নেয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে আমরা সেটি আর এগোতে দিতে চাই না। বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

এদিকে ছাত্ররাজনীতি নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীনদের ‘গু-ামি’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নূর। কেবল তাই নয় বুয়েট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুরো সময় তিনি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক পদযাত্রা কর্মসূচীর আগে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশে ভিপি নূর বলেন, শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীনদের গু-ামি বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতির স্বার্থে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি খারাপ নয়, এই দেশের সৃষ্টি হয়েছে ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। যে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পিটুনিতে আবরারের মৃত্যু, তার জন্য সেই ছাত্রলীগেরই শোক মিছিলকে হাস্যকর বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আবরারের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোক শোভাযাত্রা করে ছাত্রলীগ। এর কিছুক্ষণ পরই নূরের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী পদযাত্রা করেন ক্যাম্পাসে।

এক সময়ে ছাত্রলীগে যুক্ত নূর বলেন, যাদের হাতে রক্তের দাগ, যারা আবরারকে খুন করেছে, তারা নাকি আবার শোক মিছিল করেছে, এটা হাস্যকর। রাজপথ তাদের দখলে- এই ভয় দেখানোর জন্য একটি শোডাউন দিয়েছে ছাত্রলীগ। এই ছাত্রসমাজ পুলিশের বুলেট মোকাবেলা করেছে, আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, আবরারসহ সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সকল ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা শুনি, মা হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার করবেন আবার দেখি আবরারের পরিবারের ওপর আঘাত। এটা আমাদের স্পষ্টভাবে মেসেজ দিচ্ছে। আজকে ছাত্রদের প্রতিবাদ থামানোর জন্য নানা ধরনের কথার ফুলঝুড়ি ফোটানো হচ্ছে।

ছাত্রদের আন্দোলনের কারণেই ঢাবি প্রশাসনের টনক নড়েছে জানিয়ে নূর বলেন, গতকাল বুধবার আপনারা দেখেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, মাস্টার্স শেষ হয়ে গেলে ১৫ দিন পর হলে শিক্ষার্থীরা থাকতে পারবে না। এটি একটি ভাল সিদ্ধান্ত, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত এমনিতেই নেয়া হয় নাই। শিক্ষাঙ্গনে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ চায় টিআইবি ॥ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও একই দাবি জানান। তিনি বলেন, আবরার হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের লালিত মরণব্যাধির লক্ষণ মাত্র। এর প্রতিকার সরকারেরই হাতে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে। বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবের ইতিহাস স্মরণ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীরাই বারবার সোচ্চার হয়েছেন, কার্যত জাতিকে পথ দেখিয়েছেন, সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন।

আজ তাদেরই উত্তরসূরিদের ব্যবহার করা হচ্ছে হীন রাজনৈতিক স্বার্থে। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের প্রক্রিয়ায় তারা অন্যতম সহযোগীতে পরিণত হয়েছে। দলীয় রাজনীতিকে যুক্ত হয়ে শিক্ষকরাও ছাত্রদের সুপথ দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। আমাদের প্রত্যাশা এবং দাবি, এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করুন। দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের সব কার্যক্রম বন্ধ করুন; সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে ছাত্র সংগঠন বিকশিত হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করুন; শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক-কমকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের দলীয় রাজনীতি বন্ধে কঠোর উদ্যোগ নিন এবং সকল ধরনের দলীয় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও যোগসাজশ বন্ধ করুন।

আবারও সক্রিয় শিবির ॥ সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোন আন্দোলন ঘিরে বরাবরই সক্রিয় হয়ে ওঠে জামায়াত শিবির চক্র। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকা-ের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিভিন্ন দাবি যখন ধীরে ধীরে মেনে নেয়া হচ্ছে তখন আরও একবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও বেনামি অনলাইন পোর্টাল।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরুতেই বুয়েটে আবরার হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আশ্রয়ে নিয়ে আসার বিষয়েও সংকল্পবদ্ধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য যথাযথ তদন্ত, র‌্যাগিং বন্ধ এবং বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার বক্তব্য বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধে সেখানকার প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন। তবে এরই মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ সকল দাবি মেনে নেয়ার পরও আন্দোলন দীর্ঘায়িত করতে আবারও নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে জামায়াত-শিবির।

আবরার হত্যাকা-ের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে খুব দ্রুত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে আরও একবার রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা করছে সরকারবিরোধী বিশেষ এ গোষ্ঠী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এরই মধ্যে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির। এ সময় অনলাইনেও সক্রিয় হয় ছাত্র শিবির।

২০১২ সালে বুয়েট থেকে আটক হওয়া ছাত্র শিবিরের এক কর্মীর কম্পিউটার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল শিবির নেতাকর্মী ও সদস্যদের একটি তালিকা। যেখানে পাওয়া যায় মো আনামুল হকের নাম। বুধবার যার একটি স্ট্যাটাস বেশ ভাইরাল হয় যা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হয় বেশ কিছু গণমাধ্যমে। তিনি অবশ্য শিবির কর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে ইচ্ছুক নন।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যখন আলোর মুখ দেখাচ্ছে সেখানে বিষয়টি নিয়ে আবারও গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে বড় সংঘাতের শঙ্কা করছেন অনেকেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ আন্দোলন যেখানে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তখন ‘সরকার পতনের ডাক’ দিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে রাজপথে নেমেছে ছাত্র শিবির। আবরার হত্যার বিচার চাই ব্যানার হাতে তারা সরকার, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছে ঢাকার অন্তত ৬টি স্থানে, এছাড়া সিলেট, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিবিরের ব্যানারে মিছিল হয়েছে।

এর পাশাপাশি বুধবার দুপুর থেকে সক্রিয় হয়ে ওঠে শিবিরের ‘বাঁশেরকেল্লা’, ‘মিডিয়া ওয়াচ’ ও ‘ভিশন ২০২১’-এর মতো ফেসবুক পেজগুলো। পেজগুলো থেকে ‘সংবাদ২৪৭.নেট’ নামের একটি পোর্টালের সংবাদ বারবার শেয়ার করা হয় যেখানে মো আনামুল হকের ফেসবুক স্ট্যাটাসের পাশাপাশি আরও অনেক নির্যাতনের কথা বলা হয়। যদিও আনামুল ছাড়া অন্য কারো নাম সেখানে ব্যবহার করা হয়নি। বলা হয়েছে তারা প্রত্যেকে ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। এ ছাড়াও এই পেজ ও পোর্টালগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যের খ-াংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলাকালেও একইভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সহিংস আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছিল এই জামায়াত শিবির নিয়ন্ত্রিত পেজগুলো। যেখান থেকে আওয়ামী লীগ অফিসে নারী শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ করাসহ হত্যার বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়। এবারো তেমনভাবেই প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আবাসিক হলে দীর্ঘদিন ধরে চলে নির্যাতনের বিষয়ে এ সকল পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বুয়েটের বেশ কিছু শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, হলের কক্ষে ডেকে নিয়ে নির্যাতন বা এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম। গণরুমে সিনিয়ররা জুনিয়রদের ডেকে নিয়ে মাঝে মধ্যে বকাঝকা করে বা চর থাপ্পর দেয়। এটা দেখে এসেছি যা বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু রুমের ভেতরে নিয়ে এমন মারধরের খবর খুব একটা পাওয়া যায় না। যতবার রুমে মারামারি হয়েছে তার খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা ॥ আবরার হত্যাকা-ের ঘটনায় ক্যাম্পাসে টানা আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৪ অক্টোবর এই পরীক্ষা হওয়ার কথা। দাবি মেনে না নিলে ১৪ অক্টোবরের ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। তবে জানা গেছে, কার্যকর কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষা ঘোষিত সময়ে আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতিসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।