১৫ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উইলসের ছাত্রী রিশা হত্যায় ওবায়দুলের ফাঁসি

উইলসের ছাত্রী রিশা হত্যায় ওবায়দুলের ফাঁসি

কোর্ট রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশা (১৪) হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি ওবায়দুল হকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামির ৫০ হাজার টাকা অর্থদ-ও হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এ রায় ঘোষণার আগে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আদালতের সামনে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেন। এ সময় রিশার মা-বাবা ও ভাই এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। ওই আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেছেন, আসামি আপীল করলে সাতদিনের মধ্যে করতে হবে।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনের ফুট ওভারব্রিজে ওবায়দুল হক রিশাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ২৮ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রিশার মৃত্যু হয়।

রিশার মা তানিয়া রাজধানীর রমনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় এবং দ-বিধির ৩২৪/৩২৬/৩০৭ ধারায় হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন। রিশার মৃত্যুর পর এর সঙ্গে হত্যার ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।

ওই বছরই ৩১ আগস্ট নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারগাঁও থেকে ওবায়দুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ওবায়দুলের ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ডের এক পর্যায়ে ওবায়দুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। সেখানে রিশা প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে খুন করে বলে ওবায়দুল উল্লেখ করেন। রিশা রাজধানীর বংশাল থানাধীন সিদ্দিকবাজার এলাকার রমজান হোসেনের মেয়ে। ওবায়দুল দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মীরাটঙ্গী গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। সে রাজধানীর ইস্টার্ন মল্লিকা শপিংমলের বৈশাখী টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন। ঘটনার ৬ মাস আগে ওই টেইলার্সের স্কুলের ড্রেস বানাতে রিশা মায়ের সঙ্গে গিয়েছিল। সেখানে দেয়া মোবাইল নম্বর পেয়ে রিশাকে বার বার উত্ত্যক্ত করে ওবায়দুল।

মামলাটি তদন্তের পর ২০১৬ সালের ১৪ নবেম্বর ওবায়দুল হককে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক আলী হোসেন। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার ওবায়দুল হকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।