২০ অক্টোবর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রিটেনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী টিউলিপ-রুশনারা

  • আল নাহিয়ান

টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। যিনি একাধারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং শেখ রেহানা ও শফিক সিদ্দিকীর জ্যেষ্ঠ তনয়া। ব্রিটিশ লেবার পার্টি এবং কো-অপারেটিপ পার্টির বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদ ২০১৭ সালে ব্রিটেনের লেবার পার্টির ছায়াশিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন, ব্রিটেনের ৫৬তম সাধারণ নির্বাচনে হ্যামস্টেড এ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে ২০১৫ সালে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং রিজেন্ট পার্কের কাউন্সিলর এবং ক্যামডেন কাউন্সিলের কালচার এ্যান্ড কমিউনিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্প্রতি লন্ডনের শীর্ষ এক হাজার প্রভাবশালীদের নামের তালিকায় উঠে এসেছে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক এবং বেথনালগ্রিন ও বো আসনের এমপি, সিলেটের বিশ্বনাথের মেয়ে রুশনারা আলীর নাম। তালিকাটি প্রকাশ করেছে লন্ডনের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড। তালিকায় আরও কিছু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকের নাম রয়েছে। তারা হলেনÑ প্রখ্যাত বাংলাদেশী-ব্রিটিশ নৃত্যশিল্পী আকরাম খান ও মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সেক্রেটারি জেনারেল হারুন খান। তালিকাটি বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত করা হয়। প্রতিবছর ৩২টি ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে নির্বাচিত করা হয়। এবারও এই তালিকায় যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখা লন্ডনের এক হাজার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেশ কয়েকটি শ্রেণীতে বিভক্ত করে তাদের নাম ঘোষণা করেছে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকাটি। তার মধ্যে ওয়েস্টমিনস্টার শ্রেণীতে শীর্ষে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।

উল্লেখ্য, টিউলিপ সিদ্দিক সিরীয় শরণার্থীদের সহায়তা করতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানানোয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। অন্যদিকে ইরাকে বিমান হামলার ব্যাপারে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত প্রস্তাবে রুশনারা আলী না ভোট দিয়েছিলেন। এমনকি শিক্ষা ও যুববিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর পদ থেকে তার পদত্যাগের খবরও পাওয়া যায় গণমাধ্যমে। এমনি নানাবিধ মানবিক ও সামাজিক কর্মকা-ই হয়ত আজ তাদের এই অবস্থানে আসতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনে নারীর যে ক্রমবর্ধমান সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা শুধু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চেহারাই পাল্টে দিচ্ছে না বরং লিঙ্গ সমতায়নে তাদের সফলতার মানচিত্রের রেখাকে দিন দিন প্রসারিত করে চলেছে। তাছাড়া সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী নারীদের সারিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নারীদের সুদৃঢ় অবস্থান আমাদের মনে এমন এক অনুভূতির সৃষ্টি করেছে, যা বাঙালী নারী জাগরণ ও মুক্তির স্পন্দন মিশ্রিত সুমধুর জয়ধ্বনিতে বারংবার অনুরণিত হচ্ছে। জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার যে স্বপ্ন আমরা সবসময় দেখি; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি মাইলফলক। তাদের অগ্রযাত্রার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যথাযথ সমর্থন ও আনুষঙ্গিক সর্বাত্মক সহায়তায় আমাদের আমাদের সকলের সচেতন দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।

নির্বাচিত সংবাদ