১৬ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিহারীদের আবাসন

জেনেভা ক্যাম্পে মানবেতর অবস্থায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিহারীদের জীবনধারণ সম্পর্কে উপেক্ষা আর উদাসীনতাই প্রদর্শন করে গেছে বিগত সরকারগুলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের কারণে উপমহাদেশের মুসলমান ও হিন্দুরা ভারত-পাকিস্তানে আলাদা হয়ে যায়। ওই সময় ভারতের দিল্লী, কর্ণাটক, কেরালা, রাজস্থান, তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন রাজ্যের অনেক মুসলমান প্রতিবেশী মুসলিম দেশে বাস করতে আগ্রহ দেখায়। আগ্রহীদের তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কৌশলে বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে থাকার ব্যবস্থা করে। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে উর্দুভাষী বিহারীরা পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালেও মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তারা পাকিস্তানের পক্ষে সশস্ত্র লড়াই করে। তারা বাংলাদেশে নয়, পাকিস্তানে বসবাসের পক্ষে অপশন দেয়। নিজেদের দাবি করে পাকিস্তানী হিসেবে। দেশ স্বাধীনের পর উর্দুভাষী পাকিস্তানীদের জাতিসংঘের মাধ্যমে ‘জেনেভা ক্যাম্পে’ বসবাসের সুযোগ করে দেয়া হয়। বলা হয় তারা পর্যায়ক্রমে পাকিস্তানে চলে যাবে। পরবর্তী সময় পাক সরকার উর্দুভাষীদের সে দেশে ফিরিয়ে নিতে না চাইলে তৈরি হয় জটিলতা।

তবে বিহারীদের আবাসনের জন্য সরকারের সদিচ্ছাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা আখের গোছানোর পাঁয়তারা করছেন কিনা এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে জেনেভা ক্যাম্পের বিহারীদের পুনর্বাসনের জন্য জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা থেকে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে জেনেভা ক্যাম্প সরিয়ে নিতে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। অথচ ৬৪ একর জমিই যথেষ্ট বলে মনে করছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি)। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০ মে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ‘স্বল্প আয়ের মানুষের উন্নত জীবন ব্যবস্থা’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সময় সিদ্ধান্ত হয় মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের জন্য আলাদা একটি প্রকল্প নেয়া হবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ৬৪ একর জমির ওপর ১৪ তলা বিশিষ্ট ৫৮টি আবাসিক ভবনে ৬ হাজার ৩২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয় পরিকল্পনা কমিশনে। অথচ পরবর্তীকালে চূড়ান্ত পর্যায়ে স্থান পরিবর্তন করে আরও বড় পরিসরে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্প ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে পুনর্গঠিত ডিপিপি পাঠানো হয়।

কোথায় এক হাজার আর কোথায় মোটে চৌষট্টি একর! কেন এত বেশি জমির প্রস্তাব করা হয়েছে সেটি অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে সরকারী কেনাকাটায় কয়েকটি পুকুর চুরি নিয়ে দেশে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও ছিল এসব নিয়ে সোচ্চার ও ব্যঙ্গবিদ্রুপে পরিপূর্ণ। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে আসবাবপত্র ও বালিশ; গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের জন্য বই এবং ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের জন্য পর্দা কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে দেশবাসী বিরক্ত। এরকম একটি বাস্তবতায় বহুগুণ বেশি জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের নেপথ্যে কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে কিনা সেটি অবিলম্বে খুঁজে বের করা দরকার। এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে নেতিবাচক কিছু পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।