১৬ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যখন তখন খোঁড়াখুঁড়ি ॥ রাজপথ থেকে অলিগলি

 যখন তখন খোঁড়াখুঁড়ি ॥ রাজপথ থেকে অলিগলি
  • ষোলো বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি নীতিমালা;###;খোঁড়াখুঁড়ি শেষে রাস্তা মেরামতের কাজ পড়ে থাকে মাসের পর মাস ;###;গর্ত খানাখন্দে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা;###;দেখার কেউ নেই

মশিউর রহমান খান ॥ ষোল বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির সময়োপযোগী নীতিমালা। রাজপথ থেকে অলিগলি সর্বত্র চলছে যখন তখন নিয়ন্ত্রণহীন রাস্তা কাটা-খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। শীত কিংবা বর্ষা সকল ঋতুতেই বিপুল জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল ঢাকার বুক চিরে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মযজ্ঞ চলছেই। শুধু তাই নয়, কাজ শেষে রাস্তা মেরামতের কাজ ফেলে রাখা হয় মাসের পর মাস। রাজপথ-অলিগলিতে গর্ত খানাখন্দে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। দিনের পর দিন এই নাগরিক দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।

যখন তখন অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে নাগরিক দুর্ভোগ অনেক পুরনো সমস্যা। নাগরিক সেবা দানকারী ওয়াসা, টেলিফোন, বিদ্যুত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানই মূলত এই কাজ করে থাকে। সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করে সাধারণত রাস্তা কাটা হয়ে থাকে। কাজ শেষে সিটি কর্পোরেশন থেকে রাস্তা মেরামত করা হয়। প্রয়োজনে রাস্তা কাটা হলেও মেরামত কাজ পড়ে থাকে দিনের পর দিন। নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করলেও এ নিয়ে তেমন কারো মাথাব্যথা দেখা যায় না। সম্প্রতি ঢাকা ওয়াসা নগরীর অধিকাংশ রাস্তা কেটে তাদের পাইপলাইন বসানোর কাজ করেছে। গত কয়েক মাসেও এসব রাস্তা মেরামতের কোন উদ্যোগ নজরে আসেনি। মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা রয়েছে বলে মনে হয় না।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির এই সমস্যা নিরসনে সবাই একমত। বার বার এ নিয়ে আলোচনা হয়। কোন কোন সময় গ্রহণ করা হয় কিছু সিদ্ধান্ত। কাজের কাজ কিছুই হয় না। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির এই দুর্ভোগ থেকে নাগরিকদের মুক্তি মিলে না। অপরিকল্পিত রাস্তা কাটা বন্ধ করার জন্য ২০০৩ সালে সড়ক খনন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা গত ষোল বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত হলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে যায়। এর মধ্যে সিটির আয়তন বৃদ্ধি পায়। রাস্তা খননের বিড়ম্বনাও বৃর্দ্ধি পায়। বছরজুড়ে দিনরাত যে কোন সময় সড়ক খননের কাজ বন্ধ করা হবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বারবার ঘোষণা দিয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরনো নীতিমালা বাতিল করে যুগোপযোগী করার জন্য ২০১৮ সালে উদ্যোগ নেয়া হয়। সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নানামুখী মতের কারণে এই নীতিমালা আর প্রণীত হয়নি। বর্তমানে কোন নীতিমালা না থাকায় একটি রাস্তা মাসের পর মাস ফেলে রেখে একই ঠিকাদারকে অন্য রাস্তা খনন করতে দেখা যায়। কাজ শেষে কোনমতে ইট বালু দিয়ে দায়সারা গোছের মেরামত করেই ফেলে রাখা হচ্ছে মাসের পর মাস। এ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও কোনপ্রকার জবাবদিহিতা লক্ষ্য করা যায় না। জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা ওয়াসা নীতিমালার বিষয়ে কিছু আপত্তি তুলেছে। যা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে সময়োপযোগী একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকাার মন্ত্রণালয়। দিন বা রাতে কিংবা বছরের কোন সময়ে রাস্তা খনন করা যাবে না, খনন করা গেলেও কোন পদ্ধতিতে কখন রাস্তা খনন করা হবে এর বিস্তারিত তথ্য সংযোজন করে খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ এগিয়েছে অনেকটা। এর পর দশ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এটি আলোর মুখ দেখেনি। সূত্র জানায়, খসড়া নীতিমালাটি তৈরির জন্য ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের মত পাওয়া যায়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের আপত্তিও রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অনেকটা ঝুলেই আছে খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ। এর ফলে যত্রতত্র ও নিজেদের চাহিদামতো নাগরিকদের কাছে কোন প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ঢাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির সকল সড়ক কেটেই যাচ্ছে। আর এসব সড়ক একবার কাটার পর তা নতুন করে মেরামতে সিটি কর্পোরেশন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা কারও যেন কোন দায়বদ্ধতাই নেই।

ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৮ নামের এই নীতিমালা প্রণয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নগর উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করেছে। এতে বলা হয়, বর্ষাকালে বিশেষ করে মে জুন জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরের ৫ মাস রাস্তা খনন করা যাবে না। দিনের বেলায় কোন রাস্তা খোঁড়া বা কাটার কাজ করা যাবে না। কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া খনন করা হলে মূল খরচের পাঁচগুণ হারে জরিমানা ফি আদায় করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি সাপেক্ষে শুধুমাত্র রাতের বেলায় যখন রাস্তায় যানবাহন কম থাকে তখন সকল প্রকার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে সকল প্রকার অভিজ্ঞ ঠিকাদার দিয়ে খনন কাজ করতে হবে। অনুমতি প্রদান, খনন ও রাস্তা পুনর্বাসনের কাজ সর্বোচ্চ তদারকি করতে ওয়ান স্টপ সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে খনন কাজ শুরুর তারিখ ও শেষের তারিখও সাইনবোর্ড দিয়ে সাইটে জানাতে হবে। খনন কাজে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেলকে সহায়তার জন্য একাধিক মনিটরিং সেল কাজ করবে। সিটি কর্পোরেশন সেলে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। মাসের পর মাস রাস্তা খননের নামে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। রাতের বেলায় খনন কাজ করার পর ওই দিন বা রাতের মধ্যেই আধুনিক খনন সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি দিয়ে পুনর্বাসন কাজ শেষ করে রাতের মধ্যেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। খননের পূর্বে রাস্তাটি যে অবস্থায় ছিল খননের পর সম্পূর্ণ আগের মতোই সরকারের পিপিআর মেনে উপযুক্ত করে ঝকঝকে তকতকে রাস্তা তৈরি করে দিতে হবে। নীতিমালায়, রাস্তায় যে এলাকায় সড়ক খনন করা হবে সেই এলাকায় নাগরিকের সুবিধার্থে কমপক্ষে ৭ দিন আগেই সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার, মাইকিং করা, স্থানীয় নাগরিকদের সহায়তা চেয়ে প্রচারপত্র বিলি, কেবল অপারেটরের মাধ্যমে প্রচার, কাজ শুরুর কমপক্ষে ৩ দিন আগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা, একইসঙ্গে নাগরিকদের এ নিয়ে কোন প্রকার অভিযোগ বা পরামর্শ প্রদান করতে সিটি কর্পোরেশন ও খননকারী সংস্থার নাম ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নাম্বার সাইনবোর্ড আকারে কাজ শুরুর স্থানে প্রদান করতে হবে।

নতুন নীতিমালায় সকল ইউটিলিটি সার্ভিসের লাইন ফুটপাথের নিচে সার্ভিস ডাক্ট নির্মাণ করে বা সড়কের একপাশে স্থানান্তর করতে হবে। বিশেষ করে প্রধান প্রধান সড়কের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পরিকল্পিত সকল নতুন সড়কের উভয় পাশের ফুটপাথে সার্ভিস ডাক্ট নির্মাণ করে ইউটিলিটি সার্ভিস সেবার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া প্রতিটি রাস্তা খননের চুক্তির নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে। অন্যথায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। রাস্তা খোঁড়ার সময় অবশ্যই যান চলাচলের জন্য একপাশে ব্যবস্থা রাখতে হবে। রাস্তা খননের সময় গর্তের আশপাশে রাখা মাটি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন সকল আবর্জনা বা মাটি সরিয়ে ঠিকাদার বা সংস্থার জামানত থেকে ব্যয় হিসেবে দ্বিগুণ অর্থ কেটে নেবে। প্রতিটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের এপ্রিল মাসের আগেই কোন কোন রাস্তা কাটা হবে তার তালিকা প্রদান করবে। এরপর কোন রাস্তা কাটার তালিকা জমা দিলে তার অনুমতি দেয়া হবে না। বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিসের তথ্য সংরক্ষণ করে জিআইএস বেইজড সার্ভে করে ইউটিলিটি সার্ভিসেস এস বিল্ট নক্সা প্রণয়ন করতে বলা হবে। এজন্য রাজধানীর সকল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আংশিক বা পুরো জামানত বাজেয়াফত করবে সিটি কর্পোরেশন। খননকালে যদি কোন সংস্থার ভূ-গর্ভস্থ লাইনের ক্ষতি হয় তাহলে যৌথ পরিমাপের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ বিল প্রদান করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান পূর্ববর্তী কাজের বিল পরিশোধ না করলে বা ক্ষতিপূরণ প্রদান করলে সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন কোন খনন কাজের অনুমতি দেয়া হবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র সাপেক্ষে প্রদান করা যেতে পারে।

নতুন নীতিমালায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তা খোঁড়ার কাজ শেষ না হলে আইনানুযায়ী জরিমানা প্রদান করতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া যে কোন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান চাইলেই যে কোন রাস্তা খননের অনুমতি দিতে পারবে না সিটি কর্পোরেশন কর্তপক্ষ। এজন্য উক্ত রাস্তার এস বিল্ট নক্সা, স্পেসিফিকেশন, প্রয়োজনে এ সব রাস্তার দলিলসহ যাবতীয় তথ্যাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই কেবল রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি দেবে সিটি কর্পোরেশন। তবে এজন্য সিটি কর্পোরেশনকে তার সীমানার সকল সেবাদানকারী সংস্থা কর্তৃক হস্তান্তরকৃত সড়কের এস বিল্ট নক্সা সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদন করার বিশ কর্মদিবসের মধ্যেই রাস্তা খননের অনুমতি দেয়া হবে। কোন কোন যন্ত্রপাতি দিয়ে রাস্তা খনন করা হবে ও কত দিন ও কি পরিমাণ রাস্তা খনন করা হবে তার তথ্য রাস্তার উপরে সাইনবোর্ড দিয়ে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সূত্র জানায়, খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সড়ক খননের আবেদন বিবেচনার সময় উক্ত সড়কের নিচের পানি, পয়ঃপ্রণালী, ড্রেনেজ, গ্যাস, বিদ্যুত, টেলিকমিউনিকেশন, অপটিক্যাল ফাইবার ইত্যাদি ভূ-গর্ভস্থ সার্ভিস ব্যবস্থায় ইনস্টলেশন এলাইনমেন্ট সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তবেই কেবল অনুমতি প্রদান করা হবে।

নীতিমালায় সংস্থা কর্তৃক বছরের জমা দেয়া তালিকার বাইরে কোন সড়কই খনন করতে দেয়া হবে না। তবে অতি জরুরী কোন বিষয়ে বা বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমতি সাপেক্ষে রাস্তা খনন করতে হবে। বছরে কমপক্ষে ২ বার সকল সেবাদানকারী সংস্থা ও ট্রাফিক পুলিশসহ সকলকে নিয়ে বার্ষিক খনন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া কোন রাস্তার পুরোটাই একসঙ্গে কাটা যাবে না। সর্বোচ্চ ১৫ দিনে একটি ভাগ করে কাজ শেষ করার পর পরবর্তী ১৫ দিনের কাজ শেষ হবে বিশেষ ক্ষেত্রে ১ মাসের জন্য অনুমতি প্রদান করা হবে। এছাড়া সড়ক উন্নয়নের পূর্বেই সকল প্রকার ইউটিলিটি সার্ভিস গ্রহণ করতে হবে। তবে নাগরিক সচেতনতায় সিটি কর্পোরেশন সচেতনতা গড়ে তুলতে চিঠি প্রদান ও মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করবে। কোন প্রতিষ্ঠান রাস্তা খননের পর উক্ত রাস্তার গর্তের মাঝে বালি দিয়ে ভালভাবে ভরাট করতে হবে ও ব্রিক সলিং ও হেরিং বন্ড দিয়ে যথাযথভাবে যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে। এছাড়া কাজ শেষে সারফেস ড্রেন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা, খননের সময় সংস্থা বা সাইটে সংশ্লিষ্টদের দেখাতে অনুমতিপত্র সঙ্গে রাখবে। এ সকল কাজ ট্রাফিক বিভাগ নজরদারি করবে। জামানতের অর্থ ১৫ দিনের মধ্যেই ঠিকাদারদের ফেরত দেয়া হবে। অতি প্রয়োজনে ওয়ান স্টপ সেলের সঙ্গে আলোচনা করে সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশকে জানাতে হবে।

বর্ষাকালে রাস্তা খনন করতে হলে মূল ক্ষতিপূরণসহ অতিরিক্ত ৫০ ভাগ ফি জমা দিতে হবে। যুক্তিসংগত কোন কাজ শেষ করতে দেরি হলে কমপক্ষে ৫ দিন আগে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম সাতদিনের জন্য কোন জরিমানা করা হবে না। তবে এর বেশি দেরি হলে একভাগ হারে জরিমানা আরোপ করা হবে। নীতমালার শর্ত পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। কোন সংস্থার অতি জরুরী মেইনটেনেন্স কাজের জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিয়মানুযায়ী খনন কাজ করা যাবে।

কম সময়ে অধিক কাজ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রোড কাটার পাওয়ার স শোভেল সিস্টেম, হাইড্রোলিক এক্সেভেটর, মোবাইল পাইল ড্রাইভিং রিগ, হাইড্রোলিক ফিটার, হেভি ডিউটি মোবাইল জেনারেটর, ওয়াকিটকি লেবার ইকুইপমেন্ট যেমন, হেলমেট, হ্যান্ড গ্লোভস, গামবুট, এপ্রোন, লাইট ইত্যাদি সমৃদ্ধ হতে হবে। যা ঠিকাদারদের সঙ্গে করা চুক্তিতে উল্লেখ করবে সিটি কর্পোরেশন। কোন সংস্থার সেবা বন্ধ না হয় সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান করতে হবে। রাতের কাজের সময় অতিরিক্ত আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। কাজ শুরুর কমপক্ষে ৩ দিন আগে সংশ্লিষ্ট থানা ও ডিসি ট্রাফিককে জানাতে হবে। ওয়ান স্টপের মাধ্যমে দ্রুত কাজ করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও প্রধান প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব করে ওয়াসা, বিদ্যুত ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া খনন ও পরবর্তী মেরামত কাজ মনিটরিংয়ের জন্য ৩ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল থাকবে। মূলত যখন তখন নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাস্তার খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে নতুন এ নীতিমালাটির কঠোর বাস্তবায়ন করা গেলে সড়ক খননের ফলে সারাবছরের সৃষ্ট জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর যত্রতত্র ও এমনকি বর্ষাকালেও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে একটি সময়োপযোগী বাস্তবসম্মত খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমানে ২০০৩ সালের সড়ক খনন নীতিমালায় সকল খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। ঢাকা মহানগরীর সড়ক খনন নীতিমালা-২০১৮ নামে সরকার খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশনের মতামত চাওয়া হয়েছে। নীতিমালাটি হবে জনবান্ধব । এর শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ নানা প্রকার শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। খসড়া নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে সড়ক খননের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এ মাসেই একটি সমন্বয় সভা ডাকা হবে। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে সবার সঙ্গে অলোচনা সাপেক্ষে অতি দ্রুতই এটি চূড়ান্ত করা হবে।