১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্যালিয়েটিভ কেয়ার

বার্ধক্য এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের জীবনের আকাক্সক্ষা যখন অন্তিম পর্যায়ে, সে সময় তাদের কিছুটা শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাময়ের উপশম দেয়াটা মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কাজ। আর সেই মানব সেবামূলক কাজটি সম্পাদন করতে পারে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবা দান কার্যক্রম। জীবনের অন্তিম সময়ে উপনীত যারা, যেখানে সেরে ওঠার কোন সম্ভাবনা থাকে না, তাদের প্রতি সামাজিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে সেবা কার্যক্রম একটি বিশেষ উদ্যোগ। সম্প্রতি পালিত হলো বিশ্ব প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস। দিনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জীবন যতই সুন্দর আর পরিপাটি হোক তা কখনও চিরস্থায়ী নয়। আর মৃত্যু যতই ভয়াবহ, শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতার নির্ণায়ক অসুন্দর হোক না কেন, সেটাই জীবন চক্রের নিয়তি ও বিধান। কোন এক সময় বার্ধক্য, জরা, অনিরাময়যোগ্য রোগের আবর্তে পড়া মানুষগুলোর জীবনে যে সঙ্কট আর স্থবিরতা চলে আসে, তাতে কিছু শান্তি, মানসিক শক্তি, বাস্তবকে মেনে নেয়ার প্রত্যয় এবং রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও স্বস্তি প্রদানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার একটি স্পর্শকাতর স্বাস্থ্য সেবা, যা রোগীকে সুস্থ করতে বিশেষ সহায়ক না হলেও সামাজিক ও পারলৌকিক চেতনাকে অনেকটা সংহত করে বিপন্ন প্রাণ সংশয়কে প্রশমিত করতে পারে। অসুস্থ ও বয়স্ক রোগী যাদের জীবনের আলো প্রায় নিভে যাওয়ার অবস্থায় তেমন রোগী মানসিক প্রশস্তিতে অনেকটা মেনে নেয়ার ক্ষমতা এবং স্বাভাবিক করে দেয়া যায় বলে বিজ্ঞ চিকিৎসকরা মনে করেন। বাংলাদেশে বছরে ৬ লাখ মুমূর্ষু রোগীকে এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবা প্রদান অত্যন্ত জরুরী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও উপেক্ষিত মৃত্যুপথযাত্রীদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি, শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সেবা প্রদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। যখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় ভরে ওঠে, সে সময় রোগীর চিরতরে চলে যাওয়াকে মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। রোগী নিজে যেমন আতঙ্ক আর আশঙ্কায় জীবনের শেষ দিনগুলোকে পার করতে সংশয়ের আবর্তে পড়ে, সেই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে চিকিৎসা বিজ্ঞান মানসিকভাবে অসহায় ও দুর্বল রোগীকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের মাধ্যমে তার বেদনা এবং সংশয়কে প্রশমিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় অনেক বয়োবৃদ্ধের মৃত্যুঝুঁকি কমে আসছে। তার পরেও কোন এক সময় তাকে অন্য ভুবনে চলে যাওয়াটাই একটি নিয়ম। সেই দুঃসহ পথযাত্রায় মৃত্যুর প্রহর গোনা মানুষদের মানসিক নিরাময়তা প্রদান করা স্বাস্থ্য সেবার অন্যতম দায়িত্ব। আর এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেবায় পৃথিবীর ৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত শোচনীয়, ৭৯তম। অর্থাৎ আমাদের দেশে এই সেবা প্রকল্প চালু থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় এত অপ্রতুল যে, মানগত দিক থেকে বিশ্বের সর্বনিম্ন। এমন আশঙ্কাজনক অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তৈরি হতে হবে, যা এই সেবা ব্যবস্থার মান আরও বাড়িয়ে সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হয়। এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি স্বাভাবিক ও সহজলভ্য করতে হাসপাতালগুলোকেই বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এই সেবা প্রদানের মান বৃদ্ধি করতে হবে। এই সেবা শুধু মুমূর্ষু ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, তার চারপাশের নিকট জনেরও এই মানসিক প্রশান্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া