১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোচিং বন্ধ ২২ দিন

আগামী ২ থেকে ১১ নবেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে জেএসজি ও জেডিসি পরীক্ষা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ থেকে এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ২২ দিন বিভিন্ন কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও প্রশ্নফাঁসের মতো অনাকাক্সিক্ষত বিষয়কে ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেন, নকলমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতেই সরকার এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর আগে পরীক্ষা সংক্রান্ত হরেক রকম দুর্নীতিসহ কোচিংনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম যে অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায় সে থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে চলতি বছরের নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তাতে অনেক অনিয়ম, বিশৃঙ্খল এবং বিপন্ন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুরো শিক্ষা কার্যক্রমকে অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত করতে এমন সব অনিবার্য কর্মপ্রক্রিয়া সরকার গ্রহণ করে। পরীক্ষার সামগ্রিক পরিবেশকে সুষ্ঠু ও শিক্ষার্থীবান্ধব করে তুলতে সরকার আন্তরিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোন পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে বিলম্ব করলে তাও জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রে আর কেউ মুঠোফোন ব্যবহার করা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ ছাড়াও কেন্দ্র সচিবের ব্যবহার করা ফোনটি সাধারণ ফোনের মতোই থাকবে। অভিভাবকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর পরামর্শ, কোন রকম প্রলোভন বা গুজবকে তোয়াক্কা না করে সন্তানদের মঙ্গল কামনায় তাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচীতে সহযোগিতা করা সবার স্বার্থে জরুরী।

তবে সরকারী নির্দেশ সত্ত্বেও অনেকে বাইরে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে কোচিং সেন্টার চালু রাখার খবর সংশ্লিষ্টদের কাছে আছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বক্ষণিক নজরদারি পরিস্থতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। শুধু কোচিং সেন্টার নয়, নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই বন্ধের কঠোর হুঁশিয়ারি যদি মানা না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিতে দেরি করবে না। কোচিং বাণিজ্যকে নতুনভাবে কোনমতেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া যাবে না। আগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চরম অরাজক অবস্থাকে সামাল দিতে কোন অসুবিধা হয়নি। কোচিং সেন্টার বন্ধ হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিস্থিতি বিপরীতে চলে যাওয়ার কোন সুযোগ দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে সরকারের সজাগ-সতর্ক দৃষ্টি পরীক্ষা কার্যক্রমকে সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পর্যায়ে পরিচালনা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডাঃ দীপু মনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন, কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরতে সরকারের সব ধরনের কর্ম প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এখানে অভিভাবকদের দায়-দায়িত্বও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেন শিক্ষামন্ত্রী। সন্তানদের ভবিষ্যত গড়ে তুলতে কোন অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষা সংক্রান্ত সব অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধ করা অসম্ভব কিছু নয়।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া