১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাগেরহাটে ১৩শ’ অর্জুন গাছ কাটায় ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ কচুয়া উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের গজালিয়া সড়কে মূল্যবান ঔষধি অর্জুন গাছ নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। গত ১৫ দিনে প্রায় ১৩শ’ অর্জুন গাছ কাটা হয়েছে। সুফলভোগী স্থানীয় জনগণ ও অংশীদার ইউপির অগোচরে সামাজিক বন বিভাগের লোক পরিচয়ে কতিপয় ব্যক্তি এ গাছ কাটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গাছের মালিকানায় অংশীদার স্থানীয় মানুষ- যারা গত ২০ বছর ধরে গাছগুলোর পরিচর্যা করেছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদ এখনও তাদের ন্যায্য পাওনা পায়নি। ভবিষ্যতে পাবে কি-না তাও নিশ্চিত নয়। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা উপকারী এ গাছ রক্ষার আবেদন করছেন। সামাজিক বনায়নের গজালিয়া সমিতির সভাপতি ছানাউল্লাহ বাচ্চু বলেন, ‘২০০০ সালের দিকে অর্জুন গাছগুলো লাগানো হয়। সমিতির ৯০ সদস্য প্রত্যেকর বাড়ির সামনের গাছগুলো পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন। গজালিয়া বাসস্ট্যান্ড হতে বিষেরখোলা সেন্টার ভায়া আলিয়া মাদ্রাসা ও মোচন শেখের বাড়ি হতে আবদার মাতবরের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ জুড়ে ছিল অর্জুন গাছ। প্রায় ৪৫-৫০ ফুট লম্বা নয়নাভিরাম গাছগুলো হঠাৎ করে কাটা শুরু হয়েছে। তাদের প্রত্যেক সদস্যকে গাছের মালিকানা অংশের ৫৫ ভাগ টাকা দেয়ার কথা। গাছ কাটতে বাধা দিলে বন বিভাগের কর্মকর্তা চিন্ময় মধু তার অফিসে প্রত্যেকের ছবি, মালিকানা দলিলের কপি ও জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে বলেন।’

বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বন কর্মকর্তা চিন্ময় মধু জানান, নিয়মমাফিক তিনটি লটে প্রায় ১৩শ’ গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে। এটা গত অর্থবছরের বরাদ্দে ছিল। গাছের মালিকানায় যাদের অধিকার আছে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। কচুয়ার সরকারী শহীদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক যমুনা গোলদার বলেন, ‘মহামূল্যবান ঔষধি গাছ অর্জুন লোব্লাডপ্রেসার, রক্ত আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাঁপানিসহ অন্তত ১৪ রোগের চিকিৎসায় অর্জুন গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি অবশিষ্ট গাছগুলোকে সংরক্ষণের দাবি জানান।