১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রূপপুর বালিশকাণ্ডে ১৬ কর্মকর্তা সাসপেণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বালিশ, বিছানা ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমসহ গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ও বিল প্রদানের সঙ্গে জড়িত থাকায় ১৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের করা রিটের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয়া গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

হাইকোর্টে দখিলকৃত প্রতিবেদন অনুসারে সাময়িক বরখাস্ত অন্য কর্মকর্তারা হলেন- মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ আবু সাঈদ, মোঃ শাহিন উদ্দিন, মোঃ জাহিদুল কবীরর, মোঃ রফিকুজ্জামান, সুমন কুমার নন্দী, মোঃ ফজলে হক, মোঃ রওশন আলী, মোঃ আমিনুল ইসলাম, মোঃ রুবেল হোসাইন, মোঃ তারেক, আহম্মেদ সাজ্জাদ খান, মোঃ মোস্তফা কামাল, মোঃ তাহাজ্জুদ হোসেন ও এ কে এম জিল্লুর রহমান।

১৯ মে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন। রিট শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং একই সঙ্গে এই ঘটনায় গঠিত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে চলতি সপ্তাহে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। ২০ অক্টোবর এই মামলার ওপর শুনানির কথা রয়েছে। এর আগে ২১ জুলাই বালিশকা-ে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা দেখতে চান হাইকোর্ট। সরকারকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল।

অস্বাভাবিক ব্যয় করার বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই ও বিল প্রদানের সঙ্গে জড়িত ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে অবসর সুবিধা ভোগকারী গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শফিকুর রহমানও রয়েছেন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতবেদনে বলা হয়েছে, চারটি ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তি মূল্য একশ ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারী কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।