১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতে আইন প্রণয়নে গুরুত্ব সাবের হোসেনের

খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতে আইন প্রণয়নে গুরুত্ব সাবের হোসেনের

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সবার জন্য খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

বুধবার বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় যুব জমায়েত, আলোচনা ও শোভাযাত্রা করে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। ঢাকার পাশাপাশি সব মহানগর ও জেলা শহরে একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সাবের হোসেন চৌধুরী ছিলেন ঢাকার আয়োজনের প্রধান অতিথি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “শুধু সবার জন্য খাদ্যর অধিকার নয়; নিরাপদ খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার। দেশের কয়েক কোটি মানুষের খাবারের অধিকার নিশ্চিত না করে মধ্যম আয়ের কিংবা উন্নত রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায়না।”

আয়োজক সংগঠনকে খাদ্য অধিকার আইনের একটি খসড়া প্রস্তাব করার পরামর্শ দিয়ে তিনি খাদ্য অধিকার আইন নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলে আলাপ আলোচনা শুরু করবেন বলে জানান।

“তবে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইনের একটি খসড়া তৈরি করলে এর জন্য কথা বলা সহজ হবে,” বলেন সরকারদলীয় এই সাংসদ।

সবার জন্য খাবারের নিশ্চিয়তার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাবের হোসেন বলেন, “সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, কেবল ঢাকা শহরে প্রতিদিন পাঁচ হাজার টন খাবার অপচয় হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করার ব্যাপার রয়েছে। এই হারে যদি খাবার অপচয় হয় তাহলে বছরে কী পরিমাণ খাবার নষ্ট হচ্ছে? খাবার অপচয় রোধ করতে সব মহলে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।”

খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

এমএম আকাশ বলেন, খাদ্য অধিকার আইন একটি ন্যায্য দাবি। দক্ষিণ এশিয়ায় ইতোমধ্যে ভারত ও নেপাল এই আইন পাস করেছে। ধান উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়ে গেছে।

“শর্করার বাইরে আমিষসহ অন্যান্য খাদ্য উপাদান গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের মানুষ এখনও পিছিয়ে আছে। তাই মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার ব্যাপারে রাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।”

কাজী খলীকুজ্জামান বলেন, দেশে এখনও তিন কোটি ৫৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এর মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ অতি দরিদ্র। এই জনগোষ্ঠী প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পায়না। এখনও প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা সাত লাখ বেড়েছে। খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করে এই সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ