২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চতুর্থ বাঙালীর নোবেল

চতুর্থ বাঙালী হিসেবে এবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য একই সঙ্গে তার ফরাসী স্ত্রী এস্থার ডাফলো এবং মাইকেল ক্রেমারও এবার অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। এই ত্রয়ীর গবেষণামূলক কর্মকা- মূলত দারিদ্র্য বিমোচন ও দূরীকরণের নিমিত্ত। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সাহিত্যে রীবন্দ্রনাথ ঠাকুর, অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন এবং শান্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কারের গৌরবে ভূষিত হয়েছেন। অভিজিৎ চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পাওয়ায় বাঙালী হিসেবে আমরা পুলকিত ও গর্ববোধ করতেই পারি।

এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ১৯০১ সাল থেকে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের উইল মোতাবেক তার নামানুসারে পাঁচটি বিষয়ে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়Ñ পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা, সাহিত্য ও শান্তিতে। সেখানে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে কিছু উল্লেখ করেননি। ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিসের রিক্সব্যাংক তাদের ৩০০তম বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনের জন্য একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করে। এই অর্থ দিয়ে নোবেলের সম্মান রক্ষার্থে একটি নতুন পুরস্কার অর্থনীতিতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। অর্থশাস্ত্রে প্রথম নোবেল পুরস্কারের সম্মান লাভ করেন জ্যান টিনবারগেন ও রযাগনার ফ্রিস ১৯৬৯ সালে। উল্লেখ্য, সুইডেনের রয়্যাল একাডেমি অব সায়েন্স পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি তত্ত্বাবধান করে থাকে।

প্রথম বাঙালী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পান অমর্ত্য সেন ১৯৯৮ সালে। প্রধানত দুুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্র্যের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদানের জন্য নোবেল পান ভারতীয় এই অর্থনীতিবিদ। বলা যায়, তারই ধারাবাহিকতায় এবার নোবেল পেয়েছেন অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বাঙালী হিসেবে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বর স্ইুডেনের রাজধানী স্টকহোমে আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হবে এবারের পুরস্কার।

অভিজিৎ বিনায়কের স্ত্রী ফরাসী মহিলা এস্থার ডাফলো অর্থনীততে নোবেলপ্রাপ্ত বিশ্বের দ্বিতীয় নারী। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানত দারিদ্র্য বিমোচন ও দূরীকরণে গবেষণাসহ অবদান রাখার জন্য এই ত্রয়ীর এবারের নোবেল পুরস্কার। ২০১৩ সাল থেকে অভিজিৎ ও এস্থার যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি এ্যাকশন ল্যাবটি’ গড়ে তোলেন বিশ্বের দরিদ্রদের নিয়ে গবেষণার জন্য। তাদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান ও স্বীকৃতি দিয়েছে নোবেল কমিটি। তাদের একটি গবেষণার ফল হিসেবে ভারতের ৫০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ে প্রতিকারমূলক প্রশিক্ষণ পেয়েছে। এই দম্পতি বাংলাদেশেও এসেছিলেন ব্র্যাকের দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচী ‘গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম’ পর্যবেক্ষণে। তৃতীয় ব্যক্তি মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন ডেভেলপিং গেটস অধ্যাপক হিসেবে। মাত্র দুই দশকে এই তিনজনের গবেষণা পদ্ধতি দারিদ্র্য দূরীকরণের পদক্ষেপসহ উন্নয়ন অর্থনীতির রূপরেখা পাল্টে দিয়েছে বলে নোবেল কমিটির অভিমত।

উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পেলেও তার কাজও মূলত দারিদ্র্য দূরীকরণে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা হিসেবে। এও সত্যি যে, বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূর করা তথা দারিদ্র্য নির্মূল করা একেবারে সম্ভব কিনা, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক ও সন্দেহ আছে। এও স্বীকার্য যে, নানাবিধ সামাজিক উদ্যোগ সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে। সে অবস্থায় পার্থিব ধন-সম্পদের সুষম বণ্টনসহ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করার জন্য মানুষকে আরও বহুদূর যেতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ