২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলা দিনপঞ্জি

বাংলা পঞ্জিকার আরেক দফা সূক্ষ্ম সংস্কার করা হয়েছে। তবে ব্যাপক প্রচার না হওয়ায় একদিন পরে অনেকে সচেতন হন। এমনকি বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও তারিখের হেরফের ঘটে যায়। পরদিন সে পত্রিকাগুলো সংশোধন করে নেয়। বাংলা একাডেমির বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ক্যালেন্ডার সংস্কারের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানালেও বহু লোকের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। ইংরেজী ক্যালেন্ডারের বয়স দু’হাজার পেরুলেও একটিবারের জন্যও সংস্কার করা হয়নি। অথচ বিগত ৭০ বছরে কয়েক দফা বাংলা পঞ্জিকায় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ‘অঘটন’ ঘটে যায় নববর্ষ উদযাপন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস পালন নিয়ে। বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ করেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের কোটি জনতা। ফলে দেখা যায় বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে দুটি ভিন্ন দিনে নববর্ষ পালিত হচ্ছে। কেননা দুই দেশ দুটি ভিন্ন পঞ্জিকা অনুসরণ করছে। এবার অবশ্য ভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের বাংলা এবং ইংরেজী তারিখের সাযুজ্য রাখতে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কার করেছে সরকার। যার ফলে এ বছর আশ্বিন মাস এসেছে ৩১ দিন নিয়ে। অর্র্থাৎ হেমন্ত ঋতু পিছিয়ে গেছে ২৪ ঘণ্টা।

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখব যে, ১৯৫০-এর দশক থেকে বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার শুরু হয়। প্রথমে ভারত সরকার প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহাকে প্রধান করে ভারতবর্ষে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি গঠন করে। ১৯৫২ সালের নবেম্বর মাসে ড. মেঘনাদ সাহা এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সেপ্টেম্বর ১৯৫৪ সালে পঞ্জিকা সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করেন। ড. সাহা-কমিটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিচার-বিবেচনা করে ভারতীয় পঞ্জিকা শকাব্দ পুনর্বিন্যাস করেন, সেইসঙ্গে তিনি তার রিপোর্টে বাংলা পঞ্জিকার সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ঢাকার বাংলা একাডেমি ১৯৬৩ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি পঞ্জিকা-সংস্কার কমিটি গঠন করে। এ কমিটি মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. সাহার সংস্কার প্রস্তাবের মর্মানুযায়ীই বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকা সংস্কারের প্রস্তাব করে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত প্রতি মাস ৩১ দিন ও আশ্বিন থেকে চৈত্র প্রতি মাস ৩০ দিনে গণ্য করা হবে এবং যে বছরে লিপ-ইয়ার বা অধিবর্ষ হবে সে বছরে চৈত্র মাস হবে ৩১ দিনে।

আশির দশকে বাংলা একাডেমি কর্তৃক একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বাংলা পঞ্জিকায় আরেক দফা পরিবর্তন আসে। তাতে বলা হয়, মাসের দিন নির্ধারণের পূর্বোক্ত পদ্ধতি বলবৎ থাকবে। তবে গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অধিবর্ষে যে বাংলা বছরে ফাল্গুন মাস পড়বে সেই বাংলার বছরকে অধিবর্ষ গণ্য করা হবে। অধিবর্ষে চৈত্র মাসের পরিবর্তে ফাল্গুন মাস ৩১ দিন হবে। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী রাত ১২টায় তারিখ পরিবর্তন হবে। বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত বাংলা সালের এ সংস্কার সব সরকার গ্রহণ করেছে এবং এতদিন তা সারাদেশে সরকারীভাবে চালুও ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে দৃশ্যমান হওয়া নতুন ক্যালেন্ডারে আগামী ১০০ বছর মাতৃভাষা, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস বাংলাবর্ষের যে তারিখে ঘটেছে ইংরেজী ক্যালেন্ডারের সঙ্গে তার হেরফের ঘটবে না।

নির্বাচিত সংবাদ