১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উইং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উইং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার বিশেষ উইং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইমলাম এমপি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ উইং গঠনে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করছে। যার প্রধান করা হবে একজন অতিরিক্ত সচিব বলেছেন মন্ত্রী। এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে ডেঙ্গু সহ সকল মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে শিশুদের জানানোর জন্য পাঠ্যপুস্তকে বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তবে শহর ও গ্রামে যেহেতু ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পারে তাই এটি প্রতিরোধে সরকারের অন্যন্য মন্ত্রনালয়কে সাথে নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় মূল সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি। এদিকে ডেঙ্গুকে স্থায়ীভাবে প্রতিরোধ করতে ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না তা ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত বাংলাদেশে বাহিত রোগ: সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’-শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি। সেমিনারে কি নোট পেপার উপস্থাপন করেন সিজিএসের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মনজুর আহমেদ চৌধুরী। সেমিনার সঞ্চালনা করেন করেন সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি। তবে সপ্তাহে একদিন দুদিন বা সিজন নয় এখন থেকে সারা বছর এ নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় একা নয় ডেঙ্গু প্রতিরোধের সাথে সাথে যেহেতু স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় পরিবেশ মন্ত্রনালয় সহ বিভিন্ন ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে সাথে পাবলিক এ্যায়ারনেস বাড়াতে হবে তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে করতে বা চিরতওে নির্মূল করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সাথে নিয়ে আন্ত্যমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যতায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তেই থাকবে।

তিনি বলেন, একসময় এ রোগ বর্ষাকালে হয় বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি দেখা গেছে, ডেঙ্গু রোগ শীতকালেও হতে পারে। এছাড়া সিজনারী কাজ কওে সফলতা পেলে পওে তার গুরুত্ব না থাকায় পূনরায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। তাই সবাইকে সচেতনতা তৈরীর পাশপাশি সারাবছরই এ নিয়ে সরকার কাজ করতে চায়।

তাজুল ইসলাম বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার জন্য মূল সমস্যা ছিলো অসমন্বয়। শুধুমাত্র সকল মন্ত্রনালয়ের মধ্যে সঠিক সমন্বয় না থাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তবে ভবিষ্যতে তা হতে দেয়া যাবে না। এছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণেল আশা অনুযায়ী সকল কিছু সরকারও করতে সক্ষম হয়নি।

তবে আমাদেরকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ডেঙ্গু প্রতিওেরাধে করণীয় নির্ধারণ করে তা রুখতে কাজ করতে হবে। তিনি আমেরিকার উদাহারণ দিয়ে বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বিশ্বব্যাপি। এমনও হয়েছে শুধুমাত্র একবছরেই ডেঙ্গু রোগে আমেরিকায় ১ হাজার জন মৃত্যু হয়েছে।এছাড়া এবছরই উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ডসহ বিশ্বেও বিভিন্ন দেশে অনেক লেঅকের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেই তুলনায় এ বছর বাংলাদেশে মৃত্যুব হার তুলনামূলক বেশী ছিলো।

তাজুল ইমলাম বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে ও শহওে একমাত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ই সরাসরি সম্পৃত। তাই আমাদের মন্ত্রনালয়ই কেবল ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে সক্ষম। তবে সাদা বা কালেঅ ময়লা পানি নয় সকল বদ্ধ পানি ফেলে দিতে হবে।

এছাড়া সকল প্রকার বর্জ্য থেকেও মশার জন্ম হয় বলে গ্রাম থেকে শহর সব স্থানে মশার উৎপাদনস্থল ধ্বংস করে দিতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ঠিক রাখতে আমরা শহর থেকে শুরু কওে গ্রাম টপর্যন্ত যাবো। মন্ত্রী বলেন, আমরা শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণথ করতে বর্জ্যেেক পুড়িয়ে বিদ্যুত উৎপন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। অতি দ্রুত এর কাজ শুরু করা হবে। মন্ত্রী ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানে সবাইকে তাদের নিজ নিজ স্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে লাইন মিনিস্ট্রি ঠিক করতে হবে। এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করা জরুরি। আমাদের দেশে এ নিয়ে কোন রিসার্চ নেই বা রিসার্চেও ডেভেলপ নেই তাই শুধু আলোচনা নয় ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত ভাবে কাজ করতে হবে।

একইসাথে ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যায় কি না তাও ভাবতে হবে। এজন্য আন্ত:মন্ত্রনালয় সভায় এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এছাড়া ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সারাবছর বিভিন্ন বিষয় গবেষণা করে তার বাস্তবায়ন করা ও শহর ও গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখার কৌশল নেয়া উচিত।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ডা. কামরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শরীফ আহমেদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন, জাপান বাংলাদেশ প্রেন্ডশীপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা.সরদার এ নাঈম, প্রফেসর কবিরুল বাশার চৌধুরি, ডা: তাহমিনা আক্তার প্রমুখ।

নির্বাচিত সংবাদ