১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুতে বিনিয়োগ

এগারো মাস আগে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফরের সময় সে দেশের বাদশা বলেছিলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য পিআইএফ (পাবলিক ইনভেস্ট ফান্ড) টিম পাঠাবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে সৌদি আরবের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এ্যাকোয়া পাওয়ার। এর আগে সৌদি প্রতিষ্ঠানটি এগারোটি দেশে বিনিয়োগ করলেও একক কোন দেশে এটিই তাদের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ, যার পরিমাণ আড়াই বিলিয়ন ডলার। সই হওয়া এমওইউতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কোন একটি স্থানে একটি তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সম্ভাব্যতা জরিপ করবে এ্যাকোয়া। এ জরিপের ভিত্তিতে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হবে। দেশের কক্সবাজারের মহেশখালী অথবা পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুত হাবে এই জরিপ চালানো হবে। কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে এমওইউতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি বিল্ড ওন অপারেট ভিত্তিতে আইপিপি হিসেবে নির্মাণ করা হতে পারে। অথবা বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগেও নির্মাণ করা হতে পারে। তবে সবকিছুই নির্ধারণ হবে জরিপ শেষ হওয়ার পর।

বিদ্যুত হচ্ছে অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বাংলাদেশে অসাধারণ সাফল্য এসেছে এই খাতে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর আগে একই ধরনের দুটি বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এরমধ্যে একটি কেন্দ্র নির্মাণের জন্য মার্কিন জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই)-এর সঙ্গে পিডিবি সমঝোতা করেছে। অন্যটি নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)-এর সঙ্গে জার্মান সিমেন্স কোম্পানি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। সমঝোতা অনুযায়ী জিই ও পিডিবি মহেশখালীতে এবং এনডব্লিউপিজিসিএল ও সিমেন্স পায়রাতে কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করবে। দুুটি কেন্দ্রেরই অর্ধেক মালিকানা থাকবে সরকারের হাতে। এখানে মোট সাত হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপন্ন হবে।

চলতি বছরের মার্চে বিদ্যুত জ্বালানি ও জনশক্তিসহ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। অবকাঠামোসহ কয়েকটি উৎপাদনশীল খাতে সৌদি আরবের কাছে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চেয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী অর্থনীতির এই দেশটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। এসব চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশে বড় ধরনের সৌদি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অন্যতম সৌদি আরব। সারা দুনিয়ায় তাদের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির সুদীর্ঘ ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। রয়েছে ঐতিহ্যগত ও সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সৌদি বিনিয়োগ প্রায় হয়নি বললেই চলে। আশা করা যায় এখন থেকে সৌদি বিনিয়োগ আসবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ হজযাত্রী মক্কা-মদিনা ভ্রমণ এবং শ্রমশক্তি বিনিয়োগ করেও অবদান রাখছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ দুই দেশকেই দেবে নতুন মাত্রা। আমরা আশা করতে পারি, বাংলাদেশে যেভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের উন্নতি সাধিত হচ্ছে, তাতে বড় বড় কয়েকটি দেশ চলতি অর্থবছরেই আমাদের বিদ্যুত খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

নির্বাচিত সংবাদ