২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এইচএসসির পর উচ্চশিক্ষা ॥ স্বপ্ন যাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

  • আব্দুল্লাহ আল মামুন

এক এক করে ১২টি বছর অধ্যয়নের পর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন বুনে। হয়তো সেই স্কুল বা কলেজ জীবন থেকেই তারা দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করার কাক্সিক্ষত স্বপ্ন লালন করে থাকে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সবাই চায় পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে। কিন্তু ক’জনইবা পারে তার লালিত স্বপ্নকে স্বার্থক করতে। একে তো শিক্ষার্থীর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা সীমিত। এছাড়াও থাকে নানা প্রতিবন্ধকতা। তাই নিজের সেই লালিত স্বপ্ন পূরণের জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা এবং অধ্যবসায়।

ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দোরগোড়ায়। যেখানে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন হাজারো শিক্ষার্থী। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম হওয়ায় সবার ইচ্ছা পূরণ হবে না। আবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এবং কৌশলের জন্য কাক্সিক্ষত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ মিলতে পারে অনেক শিক্ষার্থীর। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে প্রতিযোগিতা একটু বেশি হয়। আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯/২০২০ স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। এবার রাজশাহী বিশ্বাবদ্যালয়ে ৩টি ইউনিটের অধীনে সকল অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৬০ মার্কের লিখিত এবং ৪০ মার্কের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। ‘এ’ ইউনিটের আওতায় কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও চারুকলা অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট; ‘বি’ ইউনিটের অধীনে বিজনেস স্টাডিজ ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং ইউনিট ‘সি’ এর অধীনে বিজ্ঞান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান, কৃষি ও প্রকৌশল অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার একটু ভিন্ন ধারায় ভর্তি পরীক্ষা হলেও ভয়ের কোন কারণ নেই। ‘এ’ ইউনিটের জন্য বাংলা, ইংরেজী ও সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। ইংরেজীর জন্য পূর্বে পড়া বিষয়গুলো বার বার চর্চা করতে হবে। সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ভাল করার জন্য সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জানতে হবে। বাংলায় শেষ মুহূর্তে ভাল প্রস্তুতির জন্য উচ্চমাধ্যমিকের বোর্ড বইয়ের পাশাপাশি মুনীর চৌধুরীর লিখিত নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ বইটি চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ‘বি’ ইউনিটে ভাল করতে হলে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে আসা বিষয়গুলো সম্পর্কে ভাল ধারণা রাখতে হবে এবং যারা বিভাগ পরিবর্তন করে পরীক্ষা দেবে তাদের সাধারণ গণিত এবং আইকিউ (বুদ্ধিমত্তা প্রশ্ন) ভাল জানতে হবে। ‘সি’ ইউনিটের জন্য উচ্চমাধ্যমিকের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয় ভাল করে পড়তে হবে এবং সংক্ষেপে গণিত করার কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। যেহেতু পরীক্ষার বেশিদিন নেই তাই শেষ মুহূর্তে নতুন বিষয় না পড়াই ভাল এবং যতবার সম্ভব পূর্বের পড়া বিষয়গুলো রিভিশন দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত সালের প্রশ্ন থেকেও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন আসার সম্ভাবনা থাকে। তাই পূর্বের ভর্তি পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোই চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত। পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের সময় সম্পর্কে সচেতন হয়ে প্রত্যেকটি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। কোন প্রশ্ন সম্পর্কে না জানা থাকলে ঐ প্রশ্নে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা যাবে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভীত হওয়া কিংবা হতাশ হওয়া যাবে না। এবার নেগেটিভ মার্ক না থাকায় সব প্রশ্ন উত্তর করে আসা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর করার পর অন্যগুলোর উত্তর করা শ্রেয়। পরীক্ষার হলে কারও সঙ্গে কথা বলা বা এদিক-ওদিক না তাকানো উচিত।

এই বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীর উপকূলে মতিহারের সবুজ চত্বরে ৭৪০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের কেমব্রিজ বলা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশের কল্যাণে এবং মুক্তিযুদ্ধ পূর্ব এবং পরবর্তী সকল আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অগণিত মানুষ জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে সকল ক্ষেত্রে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করছে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে এবং মনুষ্যত্ব অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই সময়কে কাজে লাগিয়ে আগামী রাবিয়ান হওয়ার পূর্ণ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এই প্রত্যাশা।

নির্বাচিত সংবাদ