১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাণিজ্যিকভাবে পোষা পাখি পালনকারীর সংখ্যা বাড়ছে

  • মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

আমাদের দেশে দুই ধরনের পাখি দেখা যায়। এক ধরনের পাখি বনে বসবাস করে, সেখানেই তাদের প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি হয়। এই পাখি ধরা, বিক্রি, বাজারজাতকরণ প্রচলিত আইনে নিষেধ। প্রকৃতির অলঙ্কার এই পাখিগুলো প্রকৃতির ভারসম্য রক্ষা, বন সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। বাসাবাড়ি কিংবা রাজধানীর কাঁটাবনে গেলে আরেক ধরনের পাখি সকলের নজর কাড়ে। বাহারি রঙের এইগুলো হলো খাঁচার বিদেশী পোষা পাখি। লাভবার্ড, ফিঞ্চ, ককাটেল, টারকুইজিন, ম্যাকাও ইত্যাদি প্রজাতির আর্কষণীয় পাখি। খাঁচায় বসবাস এবং সেখানের ডিম বাচ্চা করে এরা বংশ বৃদ্ধি করে থাকে। গত এক দশকে খাঁচার পাখি বাংলাদেশে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। কিছু মানুষ শখে পালন করে বটে। তবে বাণিজ্যিকভাবে পোষা পাখি পালনকারীর সংখ্যা নিহায়তই কম নয়। শিক্ষার্থী ও গৃহবধূদের অবসর সময় পোষা পাখির সঙ্গে ভালোই কাটছে। নিঃসঙ্গতা, অবসাদ, গ্যাজেট আসক্তি দূর করনে পোষা পাখি ভূমিকা রেখে চলছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে পোষা পাখির প্রচুর সম্ভাবনা বিদ্যমান। দেশে দুর্লভ পাখি ম্যাকাও ডিম বাচ্চা করাতে সফল হয়েছেন সিলেটের রনিরাজ আহমেদ নামে এক পাখি পালক। ম্যাকাও ছাড়াও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় আরও অনেক প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে অহরহ ব্্িরড (ডিম বাচ্চা) হচ্ছে। প্যারাকেট (একটু) বড় সাইজের পাখি রফতানির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগেই। কারণ এই পাখির চাহিদা বাংলাদেশে কম হলেও বিশ্ব বাজারে বেশি। দেশীয় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ভালই হচ্ছে। বাড়তি পাখি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হতে পারে। পাকিস্তান, নেদারল্যান্ড, থাইল্যান্ড প্রচুর পোষা পাখি রফতানি করে। তাদের জাতীয় আয়ে পোষা পাখি রফতানি ভাল অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের পোষা পাখি রফতানির সম্ভাবনা আটকে আছে। রফতানির বন্ধ দুয়ার খুলে দিলে দেশ লাভবান হবে। পোষা পাখি একটা শিল্প হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। রফতানি বন্ধ থাকায় পারতপক্ষে দেশ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধভাবে পোষা পাখি ঠিকই অন্য দেশে পাচার হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এমন আট দশটি পাখির চালান সীমান্তে আটক হয়েছে। পোষা পাখি রফতানির জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। অপরদিকে নির্বিচারে পোষা পাখি আমদানি করা হচ্ছে। নিম্নমানের অল্প দামের এই পাখি কিনে মানুষ প্রতাড়িত হচ্ছে। কোয়ালিটি সম্পন্ন যে পাখিগুলো যেমন লাভবার্ড, গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ, বাজরিগার আমাদের দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। সেগুলোর আমদানি দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। অন্যথায় দেশী খামারিরা পথে বসতে বাধ্য হবেন। এই সম্ভাবনাময় শিল্পের বিকাশ শুধু ব্যাহতই হবে না। সামাজিক অশান্তি, মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাবে। কারণ যুব সমাজের বিরাট একটা অংশ পোষা পাখি পালন করে ভাল সময় কাটাচ্ছে। পোষা পাখি শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেবার এখই সময়। সরকারী গাইডলাইন, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পোলট্্িরর মতো এই শিল্প প্রতিষ্ঠা পাওয়া কেবল সময়েরই ব্যাপার। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এমনটাই মনে করেন।

নির্বাচিত সংবাদ