১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার কাউন্সিলর রাজিব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বাড়ি থেকে মোহাম্মদপুরের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজিবকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার র‌্যাব-১ এর একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীত পাশের ৮নং সড়কের ৪০৪ নং বাড়িতে ঘিরে রাখে। পরে সোয়া ১১টার দিকে ওই বাড়িতে ঢুকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানান, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিবকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর থেকে বসুন্ধরার ওই বাড়িটিতে আত্মগোপন করেন। বাড়িটি তার আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেঃ কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম জানান, সি ব্লকের আফতাব উদ্দিন রোডের ওই বাড়ি থেকে রাজীবকে আটক করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও বাসায় তল্লাশি করা হচ্ছে। র‌্যাব জানায়, বসুন্ধরায় ওই তল্লাশি শেষে মোহাম্মাদপুরের কার্যালয় ও মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে রাজীবের ডুপ্লেক্স বাড়িতে তাকে নিয়ে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়ির নিচতলার গ্যারেজের পাশেই ছোট্ট এক কক্ষে সস্ত্রীক ৬ হাজার টাকা ভাড়া থাকতেন তারেকুজ্জামান রাজীব। তখনও তিনি কোন ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন না। এখনও করেন না। এখন মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর সড়কের ৩৩ নম্বর প্লটে রাজীবের ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকে বাড়িতে সস্ত্রীক থাকেন।। জানা গেছে, পাঁচ কাঠা জমির ওপর বাড়িটি করতে খরচ হয়েছে ছয় কোটি টাকা। রাজীবের বাড়ির জমি নিয়ে রয়েছে অভিযোগ। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাজীব যেখানে বাড়িটি করেছেন। সেই জমির মালিক ছিলেন বারী চৌধুরী। এই জমির কিছু অংশে পানির পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জমিটি কৌশলে নিজেই নিয়ে নেন কাউন্সিলর। তারা অভিযোগ করেন, গত চার বছরে রাজীব ৮-১০টি নামীদামী ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনেছেন। মার্সিডিস, বিএমডাব্লিউ, ক্রাউন প্রাডো, ল্যান্ডক্রুজার ভি-৮, বিএমডাব্লিউ স্পোর্টস কারসহ নামীদামী সব ব্র্যান্ডের গাড়িই এসেছে রাজীবের হাতে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, কাউন্সিলর রাজীবের বাবা তোতা মিয়া হাওলাদার মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদী হাউজিং সোসাইটি ও চান মিয়া হাউজিং এলাকায় তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। এর মধ্যে রাজীব মেজো। পেশায় রাজমিস্ত্রি বাবার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি রাজীব মোহাম্মদীয়া সুপার মার্কেটে টং দোকানও করেছেন। এই মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অবৈধভাবে প্লট ও জমি দখল করে বিক্রি করে টাকা কামিয়েছেন রাজীব। এ ছাড়া দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে বিত্তের মালিক হয়েছেন তিনি। যেখানেই যান, তাঁর গাড়িবহরের সামনে-পেছনে থাকে শতাধিক সহযোগীর একটি দল। এসব কারণে মোহাম্মদপুর এলাকায় এখন রাজীব যুবরাজ হিসেবেই পরিচিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৫ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে তাকে পেছন ফিরে থাকাতে হয়নি। কয়েক বছরে তিনি শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানা গেছে। রাজীবের সব অপকর্মের সঙ্গী যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবন, সিএনজি কামাল, আশিকুজ্জামান রনি, ফারুক ও রাজীবের স্ত্রীর বড় ভাই ইমতিহান হোসেন ইমতিসহ অর্ধশত ক্যাডার। জানা গেছে, কাউন্সিলর হওয়ার পর রাজীবের লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা পাইন আহমেদকে মারধর করে। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী জানার পর মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় রাজীবকে। কিন্তু পরে তাঁর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এমনকি তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানের মাধ্যমে এক কোটি টাকা দিয়ে পদটি নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে গ্রেফতারের ভয়ে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিব আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে গডফাদারসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ