১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিত্যপণ্য নিয়ে কারসাজি

সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কিছুতেই। অবশ্য আদা, রসুন, গরম মসলার দামও চড়া। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এই মুহূর্তে নিত্যপণ্যের মধ্যে মানুষের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ লাগামহীন পেঁয়াজের দাম। ব্যাপক বন্যা ও অতিবর্ষণজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশে রাতারাতি অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। বিষয়টি এতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয় যে, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লী সফরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে গিয়ে তুলতে হয় পেঁয়াজের প্রসঙ্গটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জরুরী ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং সুদূর মিসর ও তুরস্ক থেকে। সেই পেঁয়াজ দেশে আসতেও শুরু করেছে। তবে মিয়ানমারের পেঁয়াজ অধিকাংশ ক্ষেত্রে পচা বেরিয়েছে। মিসরের পেঁয়াজের মানও আশানুরূপ নয়। ফলে ক্রেতাদের প্রধান আগ্রহ দেশী ও ভারতীয় পেঁয়াজ, যেগুলোর মজুদ কম। টিসিবি ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় বিক্রি শুরু করলেও বাজারে এর প্রভাব কম কিংবা নেই বললেই চলে। সেই অবসরে খোলা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৯০ থেকে ১১০ টাকা দরে। সত্যি বলতে কি, বাজারে নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজের দামে এই উল্লম্ফন চলতেই থাকবে। পেঁয়াজের এই অত্যধিক দামের পেছনে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর কারসাজি এবং দূুরভিসন্ধিও কাজ করছে। বাণিজ্য সচিবের মতে দেশে অন্তত ২/৩ মাস চলার মতো পেঁয়াজের মজুদ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যদি আন্তরিক হন এবং লাভ একটু কম করেন তবে আপাতত বাড়তি মজুদের পেঁয়াজ বাজারে ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। তারা সেই সদিচ্ছা ও সততার পরিচয় আদৌ দেবেন কিনা সে বিষয়ে বিস্তর সন্দেহ রয়েছে। কেননা অতীতেও তারা চাল, আটা, চিনি, ভোজ্যতেল, গুঁড়া দুধ, লবণ ইত্যাদি কোন না কোন নিত্যপণ্য নিয়ে এরকম কারসাজি করেছেন আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই অথবা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে।

নিত্যপণ্যের বাজারে গত কয়েকদিন ধরেই মূল্যবৃদ্ধির একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আপাত দৃশ্যমান কয়েকটি কারণ হতে পারেÑ মূল্যস্ফীতি, আকস্মিক প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ী ঢল, বন্যা, জলাবদ্ধতা, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সর্বোপরি একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কারসাজি। বাজেটে কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধিসহ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শাক-সবজি ও মৎস্য খামার। সবকিছু মিলিয়ে মূল্যবৃদ্ধির বেশি প্রভাব পড়েছে ভোজ্যতেল, লবণ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, গরম মসলা এবং গুঁড়া দুধসহ মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে। অথচ দেশে এসব প্রায় প্রতিটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। এমতাবস্থায় বাজার মনিটরিং ও দাম নিয়ন্ত্রণ জরুরী ও অত্যাবশ্যক।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, অকার্যকর টিসিবি, সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট তথা মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী চক্রের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নেয়ার কথা প্রায়ই উচ্চারিত হয়। এফবিসিসিআই, ঢাকা চেম্বার, মেট্রো চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো খুবই শক্তিশালী এবং সরকারের ওপর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তিও অস্বীকার করা যায় না। জাতীয় সংসদেও ব্যবসায়ীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ একরকম উপেক্ষিত এবং অনালোচিত থাকছে। এই প্রেক্ষাপটেই নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও দাম নিয়ন্ত্রণ অত্যাবশক হয়ে পড়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া