১৬ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিরে আসছে ফুটবল

বাংলাদেশে ফুটবলের সুদিন বুঝি ফিরে আসার অপেক্ষায়। বাণিজ্যিক ও বন্দরনগরীতে তৃতীয়বারের মতো আয়োজিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং সাজসাজ রব দেখে অন্তত তাই প্রতীয়মান হচ্ছে। এবারের আসরে পাঁচটি দেশের আটটি ক্লাব দুই গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে দল বদলের অজুহাতে শেষ মুহূর্তে স্থানীয় একটি ক্লাবের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি কিছুটা হলেও হতাশাব্যঞ্জক। বলা আবশ্যক যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে দেশের একজন কৃতী খেলোয়াড়, ক্রীড়াপ্রেমিক ও সংগঠক শেখ কামালের নামানুসারের ফুটবলের উন্নয়ন এবং সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্ত এই আয়োজন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পরে হলেও ফুটবল নিয়ে প্রায় সর্বস্তরের দর্শক ও ক্রীড়ামোদীর মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ এবং উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে সমতা রেখে ড্র করলেও ভাল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলার কারণে দর্শকরা ফুটবল উন্মুখ হয়ে উঠেছে। তদুপরি দেশে ও দেশের বাইরে যুব বয়সী এবং কিশোর ফুটবল দল, বিশেষ করে মেয়েরা বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে অসাধারণ দক্ষতা ও ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করে। প্রভূত সম্মান ও গৌরব বয়ে এনেছে দেশের জন্য। সর্বশেষ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বাংলাদেশে ঝটিকা সফরসহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত এতে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা। তিনি ফুটবলকে বিশ্বের এক নম্বর খেলা হিসেবে অভিহিত করে এর উন্নয়নে বাংলাদেশকে সব রকম সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

নিকট অতীতে দেশের ফুটবলের শোচনীয় দুর্দশার জন্য কে বা কারা দায়ী ছিল তা তদন্ত করে দেখার সময় এসেছে। তবে সঠিক দায়-দায়িত্ব ও জবাবদিহি যে বাফুফেকেই করতে হবে সে বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। সার্বিক অর্থে কতিপয় কর্মকর্তার দিকে উঠেছে অভিযোগের আঙ্গুল। মুষ্টিমেয় যে ক’জন ফুটবল অন্তপ্রাণ অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন এবং এর বাইরে যারা সত্যি সত্যিই ফুটবল ভাল বাসেন তারা প্রায় সবাই বাফুফের কর্মকা-ে নাখোশ ও অসন্তুষ্ট। তাদের প্রধান অভিযোগ, বাফুফে কোন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে না, পৃষ্ঠপোষকতা তো দূরের কথা। বরং তারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েই সর্বাধিক ব্যস্ত থাকে। আরও রয়েছে ঘুষ, দুর্নীতি, দলাদলি, রাজনীতি, হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি। আর এর ফলেই ঘনিয়ে এসেছে ফুটবলের দুর্দশা।

বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ এখন একেবারে নিচের দিকে। এই অবনমনের কারণ কী? জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, অভিজ্ঞ ফুটবলার ও ফুটবল অন্তপ্রাণ দর্শক- প্রায় সবাই বাফুফের বর্তমান কমিটির ব্যাপারে বীতশ্রদ্ধ। ফুটবলের এহেন সমস্যা-সঙ্কট ও প্রায় মরণদশা থেকে রাতারাতি উত্তরণ সম্ভব নয়। তবে কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসম্পন্ন ও শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা অত্যাবশ্যক। এর পাশাপাশি অতীতের আগা খান গোল্ড কাপের ন্যায় সোহরাওয়ার্দী কাপ, শেরে বাংলা কাপ ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট চালু করতে হবে অবিলম্বে। তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষ্যে চালু করতে হবে আন্তঃস্কুল জেলা-উপজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে ভাল মানের খেলার মাঠ, ফুটবলসহ আনুষঙ্গিক খেলার উপকরণ। তা হলেই বাঁচবে ফুটবল। ফিফা প্রতিবছর ফুটবলের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশকে কয়েক লাখ ডলার অনুদান দেয়। জাতীয় বরাদ্দের পাশাপাশি এরও সদ্ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। বর্তমান সরকার সারাদেশে ৪৯২টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সহায়ক হতে পারে ফুটবলের উন্নয়নে।