১৬ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গবর্নিং বডি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থার তদারকিসহ মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মোটামুটি চললেও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেহাল দশা। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকম-লী যদি ভাল হন এবং শিক্ষাদানে হন মনোযোগী ও আত্মনিবেদিত, তাহলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনাম অর্জনে সক্ষম হতে পারে। স্থানীয় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা স্বভাবতই সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। তবে এর পেছনেও অবশ্যই একটি সৎ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা কমিটি তথা গবর্নিং বডি থাকা আবশ্যক। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে বা যারা গবর্নিং বডির পদ-পদবী দখল করে আছেন, তাদের অনেকেরই যোগ্যতা, দক্ষতা, নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এর অবশ্য কারণও রয়েছে একাধিক। তবে প্রধান কারণ অবশ্যই, শিক্ষা বর্তমানে আর মানুষ গড়ার কারিগরের আপ্তবাক্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষা হয়ে উঠেছে নিছক বাণিজ্য। কাড়ি কাড়ি টাকা কামানোর হাতিয়ার। আর এই বাণিজ্য শুরু হয় গোড়া থেকেই। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য থেকে শুরু করে কোচিং বাণিজ্য, নোট ও গাইড বই, ইউনিফর্ম বাণিজ্যে এমনকি ফেল করেও পাস অর্থাৎ ফল বাণিজ্য পর্যন্ত। আর সর্বক্ষেত্রেই রয়েছে টাকা, বিপুল অর্থের লেনদেন। রাজধানীসহ বড় বড় শহর-নগরের নামী-দামী স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রে এ কথা বেশি প্রযোজ্য। স্বভাবতই একজন অভিভাবকের স্বপ্ন ও সদিচ্ছা থাকে তার সন্তানকে ভাল ও উপযুক্ত একটি স্কুল-কলেজে ভর্তি করার। আপাতদৃষ্টিতে এতে দোষের কিছু নেই। তবে এই ইচ্ছাপূরণের উপায় থেকেই শুরু হয় বাণিজ্যের সূত্রপাত। কাক্সিক্ষত স্কুল বা কলেজে ভর্তি করানোর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় শুরু হয় লবিং ও কোচিং। বিত্তশালী, ক্ষমতাশালী, প্রভাবশালী একে-ওকে ধরাধরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা এমপি হলে তো কথাই নেই। এসব ক্ষেত্রেই অশুভ আঁতাতসহ অর্থ লেনদেন এবং অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগ আছে। এর পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের পাশাপাশি গবর্নিং বডিও অবশ্যই অতি সক্রিয় একটি নিয়ামক শক্তি। অর্থের লেনদেনের বিপুল প্রাদুর্ভাব মূলত এ থেকেই।

অবশ্য সব স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডি তথা পরিচালনা কমিটি অসৎ বা খারাপ, তা বলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠনেই গবর্নিং বডিতে সৎ ও দক্ষ লোকজন আছেন, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে তা নেই অথবা থাকলেও জোড়াতালি দিয়ে চলছে, তা বলাই বাহুল্য। বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা সংশোধনের বিষয়ে সর্বশেষ ২২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০১৯ সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হলেও তা ঝুলে আছে। দাতা সদস্য হতে ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে একটি সংসদীয় সাব কমিটিও কাজ করছে। আবার বোর্ডের কমিটিও একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। সব মিলিয়ে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সরকার এক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করেছে। কেন, কে জানে?