১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার এবং র্টামিনেটর

  • অতনু রায়

দুনিয়াজুড়েই জনপ্রিয় হলিউড তারকা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার অভিনীত ‘টার্মিনেটর’ সিরিজের সিনেমাগুলো। আর এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ নবেম্বর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘টার্মিনেটর’ সিরিজের নতুন ছবি ‘টার্মিনেটর ডার্ক ফেইট’। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ্যাকশনধর্মী সিনেমাপ্রেমীদের কাছে এই সিরিজের সিনেমাগুলো দারুণ জনপ্রিয়। আর বিশ্বের তুমুল জনপ্রিয় এই এ্যাকশন ঘরনার সিরিজে শোয়ার্জনেগারের উপস্থিতি মানেই এক অন্যরকম উত্তেজনা। এই সিনেমার নায়ক চরিত্রের মধ্য দিয়েই কিন্তু, আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার তার ক্যারিয়ারে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করেছেন। তবে ‘টার্মিনেটর’ সিরিজের ছবিগুলোকে জনপ্রিয় করেছেন এই হলিউড তারকা, নাকি ‘টার্মিনেটর’ আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে মেগা স্টার বানিয়েছে, তা নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক। বড় অংশ বলছে, তাঁকে ছাড়া ‘টার্মিনেটর’ হতো কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ অনেকের। অবশ্য ‘টার্মিনেটর ডার্ক ফেইট’ মূল চরিত্রে থাকছেন না আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। তবে দর্শকদের হতাশ হবার কিছু নেই। টার্মিনেটর সিক্যুয়েলে আর্নল্ড না থাকলে কি হয়! তিনি কিন্তু উপস্থিত থাকবেন এই সিনেমায়। সিনেমাটিতে ৬০ বছর বয়সী এই তারকাকে আগের চেয়েও বেশি মারকুটে ভূমিকায় তুলে ধরা হয়েছে। ধুন্ধুমার মারামারি করেছেন তিনি শত্রুদের সঙ্গে। যা কিনা আগেই ট্রেলারে প্রকাশ পেয়েছে।

তবে ‘টার্মিনেটর- ডার্ক ফেইট’ শিরোনামের সিনেমাটি কিন্তু দর্শকদের জন্য দারুণ সব চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে। প্রযোজক জেমস ক্যামেরন এ্যাকশন হিরো শোয়ার্জনেগারের বিপরীতে দীর্ঘ বিরতির পর ফিরিয়ে আনলেন এ্যাকশন কুইন লিন্ডা হ্যামিল্টনকে। এবার প্রধান চরিত্রেই থাকছেন তিনি। বিখ্যাত সারাহ কনর চরিত্রে আবারও অভিনয় করবেন তিনি। টার্মিনেটরের প্রথম কিস্তিতে ছিলেন এই সুন্দরী তারকা লিন্ডা হ্যামিল্টন। তারপর এই সিরিজ থেকে দীর্ঘ বিরতি, আর এবার নতুন ঝাঁজাল মারকুটে ভূমিকায় প্রত্যাবর্তন। লিন্ডা হ্যামিল্টন বলেন, সেই ৯১ সালের জাজমেন্ট ডে-র পর ফের একবার টার্মিনেটরের স্বাদ এই সিনেমায়। আর এ্যাকশন দৃশ্যগুলো আগের চেয়ে দশগুণ বড়।

সিনেমাটি প্রসঙ্গে আর্নল্ড বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম কর এবং নিষ্ঠার সঙ্গে খেল।’ পুরো সিনেমাটি এই মূলনীতির ওপরেই দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন ‘আমার মতে এটি একেবারেই ভিন্ন গল্পের আরেকটি টার্মিনেটর সিনেমা। আর এর পুরোটা জুড়ে জিম ক্যামেরনের ছোঁয়া রয়েছে। আর লিন্ডা হ্যামিলটনেরও। তাই এটা সেই পুরনো টার্মিনেটরের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত যতগুলো টার্মিনেটর সিনেমা দর্শকরা পেয়েছেন, তার মধ্যে এটাতেই সবচেয়ে বেশি এ্যাকশন থাকছে। অসাধারণ সব এ্যাকশন। আর ভিজ্যুয়াল ইফেক্টগুলো একেবারেই অনন্য, যা আপনারা আগে কখনোই দেখেননি।’

ব্যক্তিগত জীবনেও কিন্তু শোয়ার্জনেগার এক হিসেবে টার্মিনেটর।না মারামারি করে নয় বরং পৃথিবীর পরবেশ রক্ষায় অবদান রেখে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক এই গবর্নর দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।

সম্প্রতি ‘টার্মিনেটর : ডার্ক ফেইট’ ছবির প্রচারণার সময় তিনি বলেন, ‘এক সময় আমরা ভাবতাম, বিদ্যুুত নাকি প্রাকৃতিক গ্যাস, কী ব্যবহার করে গাড়ি চালাব আমরা? মোটরযান চালানোর জন্য হাইড্রোজেন, গ্যাসোলিন বা ডিজেলকে বেছে নিলাম। কিন্তু আমার মনে হয়, আজ থেকে ১০০ বছর আগে ফিরে যাওয়ার যদি কোন উপায় থাকে, তাহলে আমরা বিদ্যুত দিয়েই শুরু“করব। তাহলে আজ পরিবেশের যতটা ক্ষতি হয়েছে, তা রক্ষা করা সম্ভব হতো।’

আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলছি না, আমি কেবল পরিবেশদূষণের কথা বলছি। তাই আমি যদি সত্যি সত্যিই টার্মিনেটর হতে পারতাম, তাহলে টাইম মেশিনে করে অতীতে চলে যেতাম। মানুষকে পরিবেশদূষণ না করতে উদ্বুদ্ধ করতাম। একটা সবুজ ভবিষ্যত নির্মাণের জন্য কাজ করতাম। কেননা ইতোমধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই কঠিন।’

ট্রেলার প্রকাশের আগেই এই সিনেমার প্রযোজক ও সহ-চিত্রনাট্যকার বিশ্বনন্দিত নির্মাতা জেমস ক্যামেরন বলেছিলেন, ‘আগের দুটি মূল টার্মিনেটরের চাইতে এটা আরও দীর্ঘ, আরও দারুণ। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘এটি আর-রেটেড (ভয়াবহ ভায়োলেন্সের জন্য রেস্ট্রিক্টেড রেটিং), এটি ভয়ানক, এটি বিস্ময়কর, এটি ক্ষিপ্র ও তীব্র।

এদিকে গণমাধ্যমে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে প্রযোজক জেমস ক্যামেরন ‘টার্মিনেটর’ ফ্র্যাঞ্চাইজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ আরও আসতে পারে ‘টার্মিনেটর’-এর সিক্যুয়াল। তবে তিনি এ-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তার পেছনে একমাত্র শর্ত হলো আসন্ন পর্ব ‘ডার্ক ফেইট’-এর সাফল্য।

ক্যামেরন জানান চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরুর আগে এর চিত্রনাট্য নিয়ে তারা বেশ কয়েক সপ্তাহ কাজ করেছেন তিনি এবং তার টিম এবং তার বিশ্বাস এটি থেকে নতুন ট্রিলজির সূচনা হবে। তিনি বলেন ‘আমরা ‘ডার্ক ফেইট’ দিয়ে যদি যথেষ্ট আয় করতে পারি তাহলে আমরা নিশ্চিতভাবে জানি পরের ফিল্মগুলোর কাহিনী কী এবং তার ভবিষ্যত কী হবে।’

মূলত ‘ডার্ক ফেইট’ ক্যামেরন পরিচালিত ‘টার্মিনেটর : জাজমেন্ট ডে’র (১৯৯১) সরাসরি সিক্যুয়েল। তবে তাতে শেষ তিন ফিল্ম –‘টার্মিনেটর থ্রি : রাইজ অফ দ্য মেশিন’ (২০০৩), ‘টার্মিনেটর স্যালভেশন’ (২০০৯) এবং ‘টার্মিনেটর জেনিসিস’-এর (২০১৫) অনেক যোগসূত্র থাকবে। ‘টার্মিনেটর’-এর শেষ তিন পর্বে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও সেগুলো থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান ক্যামেরন। প্রায় ২০০ মিলিয়ন বাজেটের ‘টার্মিনেটর : ডার্ক ফেইট’ ছবি পরিচালনা করেছেন টিম মিলার আর প্রযোজনা করেছেন জেমস ক্যামেরন ও ডেভিড ইলিসন।