১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাসপোর্টে রঙের ভিন্নতা কেন?

কোন দেশ কোন রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করবে তা সেই দেশের সংস্কৃতির পাশাপাশি ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিবেচনা করেও নির্ধারিত হয়। সাধারণত বিশ্বের সব দেশের পাসপোর্ট চারটি রঙের ভিত্তিতে তৈরি হয়। রংগুলো হচ্ছে- নীল, কালো, সবুজ এবং লাল। কিন্তু লাল রঙের শেডগুলোর মধ্যেও আবার অনেকগুলো ধরন রয়েছে। সাধারণত কোন দেশের পাসপোর্ট কোন রঙের হবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা নেই।

পাসপোর্টগুলো যে চারটি রঙে তৈরি করা হয় সেগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকরী দেখায়। নিয়ন গোলাপীর মতো হাল্কা রঙের তুলনায় ওপরের চারটি রঙের পাসপোর্ট আরও বেশি সরকারী দেখায়। এ ছাড়া ওই গাঢ় রং হওয়ায় পাসপোর্টগুলো তার গায়ের ময়লা এবং পোশাকের চিহ্নগুলোও লুকোতে সক্ষম।

সাধারণত ধর্মীয় তাৎপর্যের জন্য ইসলামিক দেশগুলো যেমন মরক্কো, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের পাসপোর্টগুলোর রং সবুজ হয়। ইসলামে সর্বশেষ নবী হযরত মুহম্মদ (সা)-এর ‘সবুজ’ অনেক প্রিয় একটি রং। ইসলাম ধর্মে ‘প্রকৃতি এবং জীবনের’ প্রতীক সবুজ রং। এ কারণে আফগানিস্তান এবং ইরানের মতো অনেক ইসলামিক দেশের পতাকায় সবুজ রং ব্যবহার করা হয়। বারগেন্ডি অর্থাৎ- লাল রঙের পাসপোর্টগুলো সাধারণত ইউরোপীয় ইউনিয়ন অধিভুক্ত দেশ। ভারতের পছন্দ নীল হওয়ার কারণে সেই দেশের পাসপোর্টের রং নীল। তবে অনেক দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও স্বকীয়তা বোঝানোর উদ্দেশ্যে বিশেষ রং ব্যবহার করে। সুইজারল্যান্ডের পাসপোর্ট উজ্জ্বল লাল, সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট কমলা অথবা লাল, জরুরী প্রয়োজনে ভ্রমণের জন্য কানাডার পাসপোর্টের রং সবুজ। তবে পাসপোর্ট তৈরিতে সাধারণত কতিপয় নিয়ম সব রাষ্ট্রকে অবশ্যই মেনে চলতে হয়। সাধারণত পাসপোর্ট যেন বাঁকানো যায়, এমন উপাদানে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া রাসায়নিক বিক্রিয়া, তীব্র তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং আলো প্রতিরোধের বিষয়টিও পাসপোর্ট তৈরিতে খেয়াল করা হয়। আন্তর্জাতিক সিভিল এ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) প্রতিটি দেশের পাসপোর্টের টাইপফেস, টাইপ আকার এবং ফ্রন্ট সম্পর্কে সুপারিশ করে থাকে।

নির্বাচিত সংবাদ