১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহজে খোলা যাবে ব্যাংক হিসাব

  • সুমন্ত গুপ্ত

ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে এখন ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া আর কিছুই লাগবে না। দুই পাতার ফরমটি হবে খুব সহজ, যা স্কুলের শিক্ষার্থীরাও খুব সহজে পূরণ করতে পারবে। এখানে কোন বাহুল্য তথ্য থাকবে না। বর্তমান নিয়মে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একজন হিসাবধারীর প্রত্যয়ন ছাড়া হিসাব খোলা যেত না। এখন প্রত্যয়ন ছাড়াই এ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। এনআইডি না থাকলে সে ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের কপি থাকলেও খোলা যাবে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট। বর্তমানে কোন ব্যাংকে হিসাব খুলতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি ও এনআইডি লাগে। পাশাপাশি ব্যক্তির চাকরি বা ব্যবসাসংক্রান্ত পরিচয়পত্র, ওয়াসা, বিদ্যুত, টেলিফোন বিলের কপি এবং একজন পরিচয় প্রদানকারীর প্রত্যয়ন দিতে হয়। ব্যাংক ভেদে একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে ফরমে ৫০ থেকে ৭০টি প্রশ্নের জবাব দিতে হয়। এতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এবার সেই পরিস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরম হবে দুই পাতার। এর মধ্যে চাওয়া হবে না কোন বাহুল্য তথ্য। ফরমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীও খুব সহজে এটি পূরণ করতে পারে। বর্তমানে অনেক ব্যাংকে মাসে হিসাবধারী কত টাকা জমা বা উত্তোলন করবেন, তাঁর কী কী ব্যবসা আছে বা অন্য কোন ব্যাংকে এ্যাকাউন্ট আছে কি না, এসব তথ্যও দিতে হয়। আগামী জানুয়ারিতে ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি বা ই-কেওয়াইসি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের শাখা, এজেন্ট ও বুথগুলোতে হিসাব খুলতে এই সুবিধা পাবে। এরই মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৩ জেলার ৫০ এলাকায় ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-কেওয়াইসি ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে চালু আছে ডিজিটাল এ সেবা। ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক ই-কেওয়াইসি বিষয়ে কমিটি গঠন করে। মূলত সরকারী বিভিন্ন কর্মসূচীর ভাতা প্রদানের জন্য হিসাব খুলতে ই-কেওয়াইসির বিষয়টি সামনে আসে। মূলত চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে পুরো ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া। প্রথমে হিসাব খুলতে আসা ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ বায়োমেট্রিকের (আঙ্গুলের ছাপ, মুখমণ্ডলের ছবি বা আইরিশ) মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এ প্রক্রিয়া কোন ব্যাংকের শাখায় বা এজেন্টদের কাছে থাকা ট্যাবে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। তখন নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার থেকে তাৎক্ষণিক যাচাই হবে গ্রাহকের পরিচিতি। পরিচয় নিশ্চিত হলে গ্রাহকের নাম, মা-বাবার নাম, লিঙ্গ, পেশা, মোবাইল ফোন নম্বর, ঠিকানা, মনোনীত ব্যক্তির (নমিনি) পরিচয় উল্লেখ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেওয়াইসি ফরমে চলে আসবে। পরে গ্রাহকের ছবি তোলা হবে। এরপর হিসাব খোলার বিষয়ে গ্রাহককে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠাবে ব্যাংক।

গ্রাহক বার্তা পাওয়া মানেই হিসাব খোলা সম্পন্ন। কাগজপত্র ছাড়াই পুরো কাজটি হবে অনলাইনে। সারা বিশ্বে কতসংখ্যক মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় আছে, তা নিয়ে গত বছর গ্লোবাল ফিনডেক্স সূচক-২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক ৩০ শতাংশ মানুষের ব্যাংক হিসাব ছিল। ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪০ শতাংশ। তবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কারণে সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ মানুষ আর্থিক সেবার আওতায় এসেছে। ই-কেওয়াইসি চালু হলে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসবে বলে মনে করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। এতে ব্যাংকের বাইরে থাকা টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে চলে আসবে। ফলে টাকার অবৈধ ব্যবহারও কমবে। কারণ, অবৈধ লেনদেনের বড় অংশই নগদে হয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে এসব টাকা এলে বাড়বে অর্থনীতির গতিও।

নির্বাচিত সংবাদ