২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষ জনবল ই-কমার্সে সময়ের দাবি

ডিপ্রজন্ম : এই মুহূর্তে দেশের তরুণদের মাঝে ই-কমার্স নিয়ে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখেন?

সাঈদ রহমান : দেখুন প্রবণতা খারাপ কিছু নয়। প্রবণতা আমরা তখনি বলি যখন বেশিরভাগ মানুষ একমুখী হয়। আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন বলেই স্বাধীনতাযুদ্ধ ত্বরান্বিত করা সহজ হয়েছে। কথা হচ্ছে প্রবণতাকে আপনি কিভাবে ব্যবহার করেছেন। আমরা আমাদের দেশের কম্পিউটার শেখার প্রবণতাকে খারাপভাবে ব্যবহার করেছে। কম্পিউটারের কয়টা অপারেটিং শিখিয়ে দিয়ে বলেছি এটা আইটি শিক্ষা, শেয়ারবাজার প্রবণতার ভুল ব্যবহার করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ই-কমার্স প্রবণতা খারাপ কিছু নয়। এখন আমাদের এটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। তরুণদের ব্যবসাটা শেখাতে হবে, বোঝাতে হবে এবং সঠিক পণ্য সেবা দেয়ার মাধ্যমে ভোক্তার আস্থা অর্জন করার কথা ভাবতে হবে।

ডিপ্রজন্ম : আপনার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্প শুনতে চাই

সাঈদ রহমান : উদ্যোক্তা হলো একজন কবির মতো। যা প্রকৃত উদ্যোক্তার ভেতরে সুপ্ত থাকে। পরিবেশ পরিস্থিতিতে জেগে ওঠে। আমার আইটি জগতে আসা হয় ওয়েব ডিজাইন ফার্ম এর মাধ্যমে। তার আগে অবশ্য মিডিয়া বায়িং বিজনেস করেছি কিছুদিন। এবং সত্যিকার উদ্যোক্তা হিসেবে আমার যাত্রা শুরু তারও আগে। বলতে গেলে ট্রেনিং সেন্টার ছিল আমার প্রথম ব্যবসায়িক উদ্যোগ। যেটা আজও চালিয়ে রেখেছি। ২০১৩ সালের দিকে ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত হই। বর্তমানে ডিজিটাল হাব সলিউশনস লি. নিয়ে ব্যস্ত বা বেশি সময় দিতে হয় যেটাতে আমরা ই-কমার্সের বিভিন্ন রকম সেবা দিয়ে থাকি। যেমন ওয়েবসাইট, ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন ইত্যাদি।

ডিপ্রজন্ম : এ পর্যন্ত আসতে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে সে সময়? উদ্যোক্তা হবার পথে আপনি সবথেকে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি থেকে/কার থেকে?

সাঈদ রহমান : বাংলাদেশে কমন কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো আমাকেও মোকাবেলা করতে হয়েছে। যেমন ধরুন পরিবার থেকে বকাঝকা, বন্ধুবান্ধবের হাসাহাসি। আর সেইসঙ্গে পুঁজির সঙ্কট কিংবা কর্মীদের অসহযোগিতাতে রয়েছেই। এদেশে কিছু করতে হলে আপনি নানারকম বাঁধার সম্মুখীন হবেন। কোনকিছুই যেভাবে ছক করবেন সেভাবে আগাবে না এমনটা ধরে নিয়েই আপনাকে কাজ করতে হবে। বলতে পারেন এটো কাজের অংশ। মানে একজন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আপনি আপনার চারপাশের বাধা অতিক্রম করবেন এটাও আপনার কাজ।

ডিপ্রজন্ম : ট্রান্সফর্মেশন অব বিজনেস টু ই-বিজনেস বইটি মূলত কাদের জন্য লেখা? নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

সাঈদ রহমান : ট্রান্সফর্মেশন অব বিজনেস টু ই-বিজনেস বইটি মূলত দুই ধরনের লোকজনের জন্য লেখা প্রথমত যারা তাদের প্রচলিত ব্যবসার পাশাপাশি অনলাইনেও নিজের পণ্য ও সেবার পসরা সাজাতে চান তাদের জন্য বইটিতে ধারাবাহিক দিক নির্দেশনা রয়েছে। অন্যদিকে যারা ই-কমার্সের সঙ্গে জড়িত কিন্তু পরিকল্পনা করে ই-কমার্স বিজনেস করতে পারছেন না বা করছেন না। তাদেরও এটা কাজে লাগবে। ই-কমার্স ব্যবসাটাই তরুণদের ব্যবসা। তরুণদের কাছে আমার পরামর্শ থাকবে। এ ব্যবসায় তারা অবশ্যই আসবে তবে সেটা কোন হুজুগে বা কারও প্ররোচনায় নয়। নিজের ভালবাসায় এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত থাকতে হবে। লেগে থাকলে সফলতা আসবে।

ডিপ্রজন্ম :আপনার মতে সফল ই-উদ্যোক্তার সংজ্ঞা কি?

সাঈদ রহমান : আমার মতে উদ্যোক্তার কোন সংজ্ঞা হয় না। সফলতা একটা চলমান প্রক্রিয়া। এটা অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত চলতে থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে জীবনভর চলতে থাকে। আপনি সফল হতে পারলেন কিনা এটা বড় কথা নয়। আসল কথা আপনি ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে ঠিক কাজটি করতে পারলেন কিনা? আর আমি মনে একজন উদ্যোক্তাকে সফল হওয়ার জন্য ভাগ্যে কি আছে সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। বরং একজন প্রকৃত উদ্যোক্তা নিজেই নিজের ভাগ্য রচনা করেন। আর যিনি তার ভাগ্যের পথ ঘুরিয়ে দিতে পারেন তিনি সবসময় সফল হবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে এটা বলতে পারি একজন সঠিক ই-উদ্যোক্তাকে যথেষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি নলেজ থাকতে হবে। আর প্রতিদিন নিজেকে আপডেট থাকতে হবে এবং নিজেকে তথ্যে সমৃদ্ধ রাখতে হবে।

ডিপ্রজন্ম : আমরা জানি আপনি ই-ক্যাবের সঙ্গে রয়েছেন একটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি হিসেবে। জানতে চাইব ই-ক্যাবের সঙ্গে মিলে ই-কমার্সের উন্নয়নে কি ধরনের পরিকল্পনা করছেন?

সাঈদ রহমান : আপনি একটি সময়োপযোগী প্রশ্ন করেছেন। আপনি জানেন গত কয়েক বছরে আমরা সরকারের সঙ্গে ডিজিটাল কমার্স পলিসিসহ বিভিন্ন ব্যাপারে একাধিকবার বসেছি। কিভাবে ই-কমার্সে ক্রেতা এবং ভোক্তাদের নিরাপত্তা বিধান করা যায় এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। সরকার যেমন কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তেমনি আমরাও বিভিন্ন ট্রেনিং ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছি। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে চাই। ডিপ্রজন্ম : শোনা যাচ্ছে বিশ্বের জায়ান্ট ই-কমার্স কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের বিজনেস সম্প্রসারিত করতে পারেন। আপনার কাছে জানতে চাইব বিদেশী কোম্পানির সরাসরি বিনিয়োগ না করে সরাসরি এদেশের বাজারে বিজনেস অপারেশন করাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

সাঈদ রহমান : দেখুন প্রতিটি জিনিসের ভাল এবং মন্দ দুটো দিক থাকতে পারে। আমাদের বাজারে বিদেশী কোম্পানি আসলে আমাদের একদিকে ইকোসিস্টেম ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি হবে। তেমনি ই-কমার্সে ভোক্তাদের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে। হয়ত বর্তমানে যেসব দেশীয় কোম্পানি বাজারে ভাল অবস্থানে রয়েছে তাদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে সরকারী নীতিমালায় সরকার চাচ্ছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশী বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য। সেক্ষেত্রে কৌশলটা কেমন হবে তার ওপর বিষয়টা নির্ভর করছে। আপনাকে মনে রাখতে হবে। বিদেশী কোম্পানি না আসলেও আপনার বাজারে কিন্তু তাদের হাত রয়েছে। বেশির ভাগ পণ্যই আমাদের চীন থেকে আসা। সুতরাং দেশের স্বার্থরক্ষা করে বিদেশী বিনিয়োগ স্বাগত জানানো যেতেই পারে।

ডিপ্রজন্ম : তারুণ্যের কাছে কি প্রত্যাশা করেন?

সাঈদ রহমান : আসলে তারুণ্য এবং প্রতিষ্ঠিত প্রজন্ম আমরা যদি কেউ কারও কাছে প্রত্যাশা করে বসে থাকি তাহলে সেটা সঠিক নয়। তারুণ্য এবং প্রাপ্তপ্রজন্ম সবাই হাতে হাত রেখে কাজ করবে। সফল মানুষেরা পথ দেখাবে তরুণ নতুন নতুন স্বপ্নের সংযোজন করবে। দুয়ের সম্মিলনে দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাবে। এটাই হবে সমাজের গতি। পৃথিবীর সবদেশ এভাবেই এগিয়েছে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো নেতৃত্ব বা লিডারশিপ। যার নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা আছে সে আসল চেঞ্জমেকার। যেমন ধরুন মাহাথির মুহাম্মদ ৯২ বছর বয়সী নেতা এখনও আমাদের পথ দেখাচ্ছে তেমনি মার্ক জাগারবার্গের মতো উদ্যোক্তাও আমাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সুতরাং স্বপ্ন এবং পথ দুটোই থাকা চাই।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া