২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তারুণ্যের অহঙ্কার আহসান রনি

  • মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

তিনি একজন সফল সংগঠক, সাংস্কৃতিককর্মী, বিতার্কিক, লেখক, ট্র্যাভেল বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। চোখ মুখ জুড়ে তার তারুণ্য। ভিন্ন কিছু করার চেষ্টা, ছোটবেলা থেকেই। তার ভাষায়, গতানুগতিক মানুষের মতো নয়। আমি একটু ভিন্ন কিছু করতে চাইতাম। ব্যতিক্রমী কিছু। ছাত্র অবস্থায়ই তার অনেক কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে হয়েছেন সম্মানিত। বলছিলাম আহসান রনির কথা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র। তিনি ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের জন্য গড়ে তুলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ। যেটা হয়ে উঠল ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি ইত্যাদি চর্চার প্লাটফর্ম। তবে এর আগে তিনি সক্রিয় ছিলেন সংগঠন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ডিবেটিং ক্লাবের কর্মকা-ে। নিজে বিতর্ক করেছেন, বিতর্ক কর্মশালার আয়োজন করেছেন। দক্ষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রনির ব্যাপক সুখ্যাতি। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আইটি সোসাইটি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, বাঁধনসহ একাধিক সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছেন। ভাল সংগঠকদের সঙ্গে রনির আড্ডা। ছোট-বড় সবার কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করতেন। রনি বললেন, আমি মনে করি সবার থেকে শেখার আছে। ২০১৫ সালের পাঁচ সেপ্টেম্বর ঢাকা ইউনিভার্সিটি কালচারাল সোসাইটি (ডিইউসিএস)’র জন্ম হলো। এর নেপথ্য নায়ক আহসান রনি। সংগঠনটির প্রথম সভাপতি ছিলেন ওয়াসেক সাজ্জাদ । আহসান রনি সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। দেশ তো বটেই। দেশের বাইরে ডিইউসিএস ভারতের ও পিজিন্দাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সারা বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘বিশ্বমিল’-এ অংশ নিয়েছে। সেখান থেকে তারা জয় করে এনেছে তিনটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও তিনটি বিভাগে রানারআপ ট্রফি। শুরুর দিকের কথা। ডিইউসিএস তখন এত সাফল্যের মুখ দেখেনি। ছাত্রছাত্রীদের এত সক্রিয়তাও ছিল না। রনি বলেছিলেন, এতদূর আসার এই পথটি মোটেও সহজ ছিল না। নিজে ছাত্র, টাকা-পয়সার অভাব, লেখাপড়ার প্রচ- চাপ সামলে আমাকে সংগঠন গড়ে তোলার কাজ করতে হয়েছে। হার না মানা তরুণ রনি। কাজ করতে গিয়ে দুঃখ কষ্ট পেয়েছেন। তবে তিনি থেমে যাননি। সে কথাই শোনা যাক রনির মুখে, ‘কাজ করতে গিয়ে আসলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন স্মৃতি তৈরি হয়। এরমধ্যে বেশির ভাগই আমি বলব আনন্দের। কারণ কোন কাজে অসফল হলে আমি দুঃখ পাই না। প্রতিটি কাজ করতে গিয়েই বিভিন্ন সময় কষ্ট পেতে হয়; কিন্তু সেই কষ্টগুলো পরেরদিন ভুলে গিয়ে আবার নতুন করে কাজ শুরু করে দেই। ফলে সেই স্মৃতি আমাকে তেমন কষ্ট দেয় না। মামা খুশি হলেই রনির ভাললাগে। কারণ মামাই যে তার মেন্টর। মামার কাছে থেকেই তিনি বড় হয়েছেন। এছাড়া সহপাঠী, শিক্ষক, শুভ্াকাক্সিক্ষদের প্রতি রনির অনেক কৃতজ্ঞতা। তিনি বলেন, চেনা অচেনা অনেক মানুষ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সমর্থন ও সহযোগিতা করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি রনির এত এত স্বেচ্ছা শ্রমমূলক কাজ। সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা। পড়াশোনার ক্ষতি হয় না? এ প্রশ্নের জবাবে রনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি নিজের মধ্যে যদি সত্যিকারের স্বপ্ন দেখার শক্তিটা থাকে তাহলে কোন বাধা সামনে দাঁড়াতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি আমি সারাদেশ থেকে সারা বিশ্বকে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করেছি, নতুন নতুন প্লান নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি, কোন কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখলে সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য সবসময় কাজ করে গিয়েছি। নিজের মধ্যে তাড়না থাকার কারণে সময় নিয়ে কখনও সমস্যা হয়নি। বরং এখন মনে হয় আরও অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল; করতে পারিনি সময়ের সঠিক ব্যবহার না করার কারণে। স্বেচ্ছা শ্রমভিত্তিক কাজ তো করেছেনই। পাশাপাশি রনির লেখালেখি রয়েছে সর্বত্র। তার লেখা বই ‘দেখা হবে বিজয়ে’ পাঠকপ্রিয়তা অর্জনে সক্ষম হয়। ২০১৭-এর বই মেলায় সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের মধ্যে এই বইটি ছিল। দেশের হয়ে অংশ নিয়েছেন ভারতের হায়দরাবাদের মুন, দিল্লীর কালচারাল, নেপালের ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন লিডারশিপ, ইন্দোনেশিয়ার রিয়াও ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিটে। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে ২০১৭ সালে রনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ট্রাভেল বাংলাদেশ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে আছে দেশের প্রতিটি জেলার ওপর আলাদা পেজ ও তথ্যভা-ার। স্থানীয় পর্যায়ের সঠিক তথ্য, ইতিহাস তুলে আনার জন্য রনি বিভিন্ন জেলায় ৪০ জন লেখক কে বেছে নিয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট-িি.িঃৎধাবষনফ.ীুু

ট্রাভেল বাংলাদেশ নিয়ে রনি বললেন, ‘যতক্ষণ জেগে থাকি, ট্রাভেল বাংলাদেশ নিয়ে ভাবি। সাইট ও আরও নতুন কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ভ্রমণপিয়াসীদের ভ্রমণের সব ধরনের সহযোগিতা করতে চাই। ‘ট্রাভেল বাংলাদেশ মূলত এমন একটি ট্রাভেল প্লাটফর্র্ম যা বাংলাদেশের ৬৪ জেলার প্রতিটি স্থানের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, দর্শনীয় স্থান, স্থানীয় খাবার, উৎসব, ভ্রমণগল্প, থাকার জায়গাসহ দেশের বাইরের ভ্রমণ বিষয়ক সকল তথ্য দিয়ে থাকে। দেশ, মা, মাটি, মানুষের কল্যাণের কথা রনি ভাবেন। সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ লিডারশিপ এ্যাওয়ার্ড ২০১৯’ পেয়েছেন তিনি। নিজ নিজ সেক্টরে অবদানের জন্য সাউথ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর সেরা তরুণদের মাঝে এই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করে গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট ও গ্লোবাল ল থিংকার্স বাংলাদেশ। ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে রনি বললেন, ‘এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই যেটি মানুষের ভ্রমণের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে। প্রতিটি দেশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে চাই।’