২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফোর্বসের ‘আন্ডার থার্টি’ লিস্টে মুনাফ কাপাডিয়া

সুমন্ত গুপ্ত

গুগলের মতো নাম করা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি পাওয়াটা যে কারও জন্য স্বপ্নের মতো। বিশ্বের সেরা এই আইটি কোম্পানিতে চাকরি করলে শুধু যে লাখ লাখ টাকার হাতছানি তা কিন্তু নয়, বরং আছে বিলাসবহুল জীবন, চাকরির নিরাপত্তা, আর ব্র্যান্ড ভ্যালু। কয়েক বছর চাকরি করলেই উঁচু পোস্ট আর কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এত সুযোগ সুবিধা আর এই রকম নাম করা কোম্পানির চাকরি ছেড়ে আপনি যদি সমুচা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তবে মানুষ আপনাকে পাগল ছাড়া আর কি বলতে পারে? কিন্তু এমন পাগলামির কাজ করেই আজকে সফলতার শিখরে আছেন ভারতের মুনাফ কাপাডিয়া। গরম ধোঁয়া ওঠা সোনালি খোল। তার ভেতর হরেক কিসিমের মসলায় মাখামাখি তুলতুলে মাটনের পুর। যার বাহারি নাম ‘স্মোকড মাটন কিমা সমুচা’। চলতি বাংলায় যাকে বলে ‘মাটন শিঙাড়া’। এই শিঙ্গাড়া বিক্রির ব্যবসা শুরু করার জন্যই টেক জায়ান্ট গুগলের আরামদায়ক চাকরি ছেড়েছিলেন মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ৩০ বছরের মুনাফ কাপাডিয়া। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ২০১৫ সালে তিনি ‘দ্য বোহরি কিচেন’ নামে একটি রেস্তরাঁ খুলে ফেললেন। মূলধন মায়ের পরামর্শ। মাত্র দু’বছরের মধ্যে মুনাফের ‘দ্য বোহরি কিচেন’ হয়ে উঠল মুম্বাইয়ের অন্যতম আলোচিত ফুড ডেস্টিনেশন। বছরে তার রেস্তরাঁর টার্ন ওভার ৫০ লাখ টাকা। মুম্বাইয়ের মুনাফ কাপাডিয়া নার্সি মনজি থেকে এমবিএ করে বছর খানেক দেশেই চাকরি করেন। এরপর ডাক পেয়ে চলে যান গুগলে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছর চাকরি করেন। কিন্তু সেখানে তার মন বসেনি। মায়ের হাতের রান্না মুনাফকে সব সময় টানত। আর বন্ধুদের সঙ্গে দোকানে আড্ডা দিতে দিতে চা-শিঙাড়া খাওয়ার সময়টাও মনে পড়ে। তাই আগপাছ না ভেবে ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই চিন্তা করলেন নতুন কিছু করার। চাকরিতে কিছুতেই তার মন বসছিল না। তাই তার ইচ্ছা ছিল ব্যতিক্রম কিছু করবে। মুনাফের মতে, ‘আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞেস করেন যে, তোমার হাতে তো বেশ কিছু টাকা আছে, এই টাকা দিয়ে তুমি কি করতে চাও? নব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে তার জবাব হবে সে একটা রেস্টুরেন্ট খুলতে চায় এই টাকায়। সেই পথেই পা বাড়ালেন। মুনাফের মা নাফিসাও রান্না করতে খুব ভাল বাসতেন। তিনি তার অবসরের বেশির ভাগ সময় টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠান দেখে কাটাতেন। তাই মুনাফ তার মায়ের পরামর্শে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি খেয়াল করলেন মুম্বাই শহরে সারা ভারতের লোকজন কাজের সন্ধানে আসেন এবং তারা সর্বদা তাদের বাড়ির খাবার খুব মিস করেন। তাই মুনাফ এই আইডিয়াকে পুঁজি করে তার ফুড চেনশপের ট্যাগ লাইন দিনে ‘ঘর কা খানা’ বা ‘ঘরের খাবার’। শুরু হলো মুনাফের রেস্টুরেন্ট ‘দ্য বোহরি কিচেন’। ৩ বছরের মধ্যেই বোহরি কিচেন পরিণত হয় একটি ব্র্যান্ডে। শুধু ব্র্যান্ড বললে কম বলা হবে, বলতে হবে একটি সফল ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে মুনাফের রান্নাঘর, বোহরি কিচেন। এখন প্রতিদিন গড়ে ৩০টি হোম ডেলিভারির অর্ডার বোহরি কিচেনের কাছে স্রেফ হাতের ময়লা। এছাড়াও ক্যাটারিং ব্যবসাতেও খ্যাতি অর্জন করেছেন মুনাফ। শিল্পনগরী মুম্বাইয়ের অনেক বড় বড় পার্টিতেও নিজেদের খাবার নিয়ে হাজির হয়েছে বোহরি কিচেন। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মুনাফের রেস্টুরেন্টের সামনে ভোজন প্রিয় মানুষের লাইন লেগে থাকত। এভাবে এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এই রেস্টুরেন্ট মুনাফা করেন পঞ্চাশ লাখ রুপীর অধিক। তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন এবং সাহসের সঙ্গে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন। আসলে ভাগ্য সমসময়ই সাহসীদের পক্ষেই থাকে। তাই তো তিনি এক বছরেই মুনাফা করেছেন প্রায় অর্ধ কোটি রুপী। মুনাফ তার এই ফুড চেনসপ ভারতের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে দিতে চান দেশের বাইরেও। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ‘আন্ডার থার্টি’ লিস্টে সম্প্রতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মুনাফের নাম। আসলে মুনাফ কাপাডিয়া শুধু ভারত নয় বরং সারা বিশ্বে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম।