২৩ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চাপের ভেতর জয়

জিম্বাবুইয়ে আর আফগানিস্তান এই দুটি দলকে সমীহ করার কিছু ছিল না। তবু তাদের কাছে নিকট অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নাস্তানাবুদ হয়েছে। বিশ্বের বিস্ময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এমন ভেঙ্গে পড়া পারফরমেন্স দেশবাসীকে আশাহত করেছিল। সাকিব আল হাসান সম্পর্কেও না বললেই নয় যে, বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি এবং ধারাবাহিক অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে বিশ্বের সব বাঘা বাঘা খেলোয়াড়দের ওপরে তিনি নিজেকে উন্নীত করেছেন। সাকিবের আগে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের একই আসরে ৫০০ রান ও ১০ উইকেট কেউ কখনও নিতে পারেননি। তার মতো খেলোয়াড়ের মাঠের বাইরে থাকা দেশের ক্রিকেটের জন্য যেমন বড় আঘাত, তেমনি দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমীর আনন্দেও ঘাটতি পড়ার মতোই। সম্প্রতি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মাঠের বাইরে চলে গেছেন আইসিসির অজ্ঞাত নিষেধাজ্ঞায়। পরম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালও ভারত সফরে নেই। কিছুদিন আগেই অসন্তোষের ঢেউ উঠে গেছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে। এরকম একটা সময়কে দুঃসময় বললে অত্যুক্তি হবে না। টাইগাররা এমন চাপের মধ্যেই যেন গর্জে ওঠার বিশেষ প্রেরণা পান। ভারতের মাটিতে তাদের বিরুদ্ধে টি-২০ ম্যাচে দারুণ এক জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশবাসীকে স্বস্তি, তৃপ্তি আর গৌরব দানের জন্য টাইগারদের অভিনন্দন। নতুন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ দায়িত্ব পালন করেছেন সুচারুভাবে। আট-আটজন বোলারকে দিয়ে তিনি বল করিয়ে ভারতীয়দের উল্টো চাপের মধ্যে রেখেছিলেন। ফলে তারা রানসংখ্যা বাড়াতে পারেনি। অপরদিকে দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম ব্যাট চালিয়েছেন নির্ভীকচিত্তে, সম্পূর্ণ ক্রিকেটীয় রীতিতে। ফলে দল তথা দেশকে তিনি এনে দিতে সমর্থ হয়েছেন এক অবিস্মরণীয় জয়। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন জানিয়েছেন দলকে।

ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্বকাপে টাইগাররা যে আটটি ম্যাচ খেলেছে সেই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশকে সমীহের চোখেই দেখেছে। এটি টাইগারদের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্জন। এখন কোন দলই বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে তুচ্ছজ্ঞান করে না। তারা ভাল করেই জানে বাংলাদেশ যে কোন ম্যাচেই জ্বলে ওঠার ক্ষমতা রাখে। ভারতের মতো দলের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে গেছে আমাদের ক্রিকেটাররা। রবিবার ভারতের মাটিতেও টাইগাররা এক লড়াকু ম্যাচই উপহার দিয়েছে।

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আমরা সম্পাদকীয়তে বলেছিলামÑ এখন আমাদের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পালা। একই সঙ্গে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে উত্তরণের সুযোগ। বোলিংয়ে আমাদের উন্নতি করতে হবে। নতুন প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে হবে। ফিল্ডিংয়েও যথেষ্ট উন্নতি করতে হবে। সে জন্য প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের বিকল্প নেই। কর্তৃপক্ষ এ দিকটিতে বিশেষ দৃষ্টি দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা। সারা দেশেই ক্রিকেট খেলার চর্চা বাড়াতে হলে নতুন মাঠ তৈরি করতে হবে। নিজেদের মধ্যে বেশি বেশি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দক্ষ সেরা খেলোয়াড়দের শনাক্ত করা চাই। ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের মুহূর্তে আনন্দে ভাসার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকেও আমাদের চোখ রাখা চাই। যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছে বাংলার দামাল ছেলেরা, সেই একই মনোবল নিয়ে তারা পরবর্তী ম্যাচগুলোও খেলবে নিশ্চয়ই।