২০ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষটাও ঝলমলে বার্টির

  • আয়ান আব্রাজ

বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে থেকে নতুন মৌসুম শুরু করেছিলেন এ্যাশলে বার্টি। এর পরের গল্পটা শুধুই এগিয়ে চলার। টেনিস কোর্টে এই বছরটা দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম প্রিমিয়ার ম্যানডেটরি শিরোপা, স্বপ্নের গ্র্যান্ডস্লাম ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়, বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল। সর্বশেষ ডব্লিউটিএ ফাইনালসেও বাজিমাত করেছেন অস্ট্রেলিয়ান টেনিসের এই প্রতিভাবান এই খেলোয়াড়।

বহুল প্রচলিত প্রবাদ, শেষ ভালো যার সব ভালো তার। এ্যাশলে বার্টির ক্ষেত্রেও এই প্রবাদটা দারুণ কার্যকরী। দারুণভাবে রাঙিয়ে নিলেন মৌসুমের শেষটা। দুর্দান্ত খেলেই বছরের শেষ টুর্নামেন্ট ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা জিতলেন তিনি। রবিবার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভাবান এই খেলোয়াড় ৬-৪ এবং ৬-৩ সেটে পরাজিত করেন এলিনা সিতলিনাকে। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেলেন এ্যাশলে বার্টি। অথচ, এর আগে মুখোমুখি পাঁচ লড়াইয়ের সবকটিতেই অস্ট্রেলিয়ান তারকার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেয়েছিলেন সিতলিনা। কিন্তু শেনঝেনে আর পারলেন না তিনি। বরং এদিন দাপট দেখালেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের চ্যাম্পিয়ন। অষ্টম বাছাইকে হারাতে এদিন বার্টির সময় লাগে ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট।

সিতলিনার বিপক্ষে জিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন এ্যাশলে বার্টি। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়লেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইভোন গোলাগং কাউলি। ১৯৭৪ সালে। এই আসরের দ্বিতীয় শিরোপা জেতেন তিনি ১৯৭৬ সালে। শুধু তাই নয়, ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক আসরেই ডব্লিউটিএ ফাইনালসের চ্যাম্পিয়ন হলেন বার্টি। সেইসঙ্গে ২০১৯ সালে চতুর্থ শিরোপা জিতলেন ২৩ বছরের এই তরুণী। এ বছরে তার সমান চারটি শিরোপার দেখা পেয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভাও। শেনঝেনে মৌসুমের শেষ শিরোপা উঁচিয়ে ধরার ফলে প্রমীলাদের পেশাদার টেনিসের সবচেয়ে বড় ৪.৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলারের চেক পেয়েছেন বার্টি।

সেরেনা উইলিয়ামস, মারিয়া শারাপোভা, পেত্রা কেভিতোভা, এ্যাঞ্জেলিক কারবার, ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা কিংবা ভেনাস উইলিয়ামসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের খুব বাজেভাবে কেটেছে ২০১৯ সাল। কিন্তু এই মৌসুমটা স্বপ্নের মতো কেটেছে বার্টির। এ মৌসুমেই ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট জয়ের স্বাদ পান তিনি। ফ্রেঞ্চ ওপেনের শিরোপা জিতে গড়েন নতুন ইতিহাস। তবে মিয়ামি ওপেনে প্রথম শিরোপার দেখা পান এ্যাশলে বার্টি। শিরোপার লড়াইয়ে সেবার ক্যারোলিনা পিসকোভাকে হারান তিনি। এরপর বার্মিংহ্যাম ক্ল্যাসিকও জেতেন এ্যাশলে বার্টি। রবিবার শেনঝেনে জিতলেন চলতি মৌসুমের চতুর্থ শিরোপা। চার গ্র্যান্ডস্লামের পর এটাই সেরা টুর্নামেন্ট। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা ৮জন খেলোয়াড় নিয়েই অনুষ্ঠিত হয় এই টুর্নামেন্ট। এখানেও নিজেকে মেলে ধরলেন দারুণভাবে। শিরোপা জিতে মৌসুম শেষ করতে পেরে দারুণ খুশি এ্যাশলে বার্টি। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটা বছর কেটেছে আমার। কোর্টে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে। এখানকার কোর্ট ছিল ধীর গতির। যে কারণে আমাকে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমার এবং টিমের জন্য গর্বিত। বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের সেরাটা ঢেলে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছি আমরা। এবং সেটা করতে সক্ষমও হয়েছি।’

অথচ, ২০১৪ সালে হঠাৎ করেই টেনিস থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এ্যাশলি বার্টি। েেছাটবেলাই যে টেনিসে হয়েছিল তার হাতেখড়ি সেই টেনিস ছেড়েই নতুন করে ক্যারিয়ার গড়েন ক্রিকেটে। কিন্তু দুই বছর ক্রিকেট খেলে আবারও ফিরলেন টেনিসে। পরের সিদ্ধান্তটা যে মোটেও ভুল হয়নি তা আরও আগেই প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ফরাসী ওপেনে। সেই টুর্নামেন্টের ফাইনালে চেক প্রজাতন্ত্রের মারকেতা ভন্দ্রওশোভাকে উড়িয়ে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো গ্র্যান্ডস্লাম শিরোপা জিতেন এ্যাশলে বার্টি। সেই সময়েই তিনি জানিয়েছিলেন টেনিসে এমন সাফল্য আশা করেননি। তবে বলেছিলেন ক্রিকেট ছেড়ে টেনিসে আসাটা জীবনের সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত ছিল। বার্টি বলেছিলেন, ‘ওই সময় আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমার মনে হয় এটা সেরা সিদ্ধান্ত। এমনকি সামনে যেসব সিদ্ধান্ত নিবো ঐগুলো থেকেও এটা সেরা সিদ্ধান্ত।’

ধীরে ধীরে যেন সেটাই প্রমাণ করে চলেছেন এ্যাশলে বার্টি। চীনের শেনঝেনে ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে যে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। গত জুনে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিলেন এ্যাশলে বার্টি। ৪৩ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। সোমবার সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে তার নাম। অর্থাৎ সবার উপরে থেকেই ২০১৯ সাল শেষ করছেন এ্যাশলে বার্টি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই রেকর্ড এখন শুধুই বার্টির! সামনের সময়টা যে ঘোরের মধ্যে থাকবেন সেটা নিজেই স্বীকার করেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনের চ্যাম্পিয়ন। বার্টির উত্থানটা সত্যিই চমকপ্রদ। পাঁচ বছর বয়সে টেনিসে হাতেখড়ি। জুনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে ২০১১ সালে উইম্বলডনে গার্লস সিঙ্গলস জেতেন তিনি। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বরেও উঠে এসেছিলেন সেই সময়। সিনিয়র হিসেবে যদিও তার প্রথম সাফল্য আসে ডাবলসে। কেসি ডেলাকুয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনটি গ্র্যান্ড স্লামের ডাবলসের রানার্স-আপ হন তিনি। যার মধ্যে অস্ট্রেলীয় ওপেনও ছিল। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৬। এর পর ২০১৪ সালের শেষ দিকে বার্টি ঠিক করেন টেনিস থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ছুটি নিয়ে ক্রিকেট খেলবেন। কারণ হিসেবে বার্টি বলেছিলেন, টেনিস খুব ‘এক কেন্দ্রিক’ খেলা। অথচ এখন টেনিসটাই যেন তার ধ্যান-জ্ঞ্যান!

নির্বাচিত সংবাদ