১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাম্পকে ইমপিচ করার সম্ভাবনা ও বিপদাশঙ্কা

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পীকার ন্যান্সি পেলোসি ঘোষণা করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে। তার বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভাবমূর্তি নস্যাতে এক বিদেশী শক্তিকে সংশ্লিষ্ট করে নিজের প্রেসিডেন্ট পদের মর্যাদা ও জাতির নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের বরখেলাপ করার অভিযোগ আনা হবে। তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক বিপজ্জনক মোড় পরিবর্তন সূচিত হলো।

ইমপিচমেন্টের উদ্যোগের ব্যাপারে ডেমোক্র্যাটরা বিগত কয়েক মাস ধরে সংযত বক্তব্য দিয়ে আসছিল। তাদের অনেকেই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদের অনুপযুক্ত মনে করলেও ইমপিচমেন্টের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত ছিল। এখন পেলোসির ঘোষণার মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রাধান্যপুষ্ট প্রতিনিধি পরিষদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এক ঐতিহাসিক ও অতিমাত্রায় তীব্র সংঘাতের অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে অবশ্য ট্রাম্পকে ইমপিচ করা হবে এমন নয়। অভিশংসন হলো একটা সাংবিধানিক বিধান। একই সঙ্গে এটা এক রাজনৈতিক প্রচারাভিযানও বটে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক দলীয় সদস্যদের ট্রাম্পের অভিশংসনের শুনানি শুরুর জন্য পোলাসির নির্দেশদানের মধ্য দিয়ে সেই রাজনৈতিক প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। পেলোসি বলেন, ট্রাম্প এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার দ্বারা সংবিধান মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তার জন্য ট্রাম্পকে অবশ্যই জবাবদিহি হতে হবে। কারণ কেউই আইনের উর্ধে নয়। একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কংগ্রেস কঠিনতম যে পদক্ষেপটি নিতে পারে পেলোসির সেই পদক্ষেপটি নেয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মার্কিন জীবনে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষার সূত্রপাত হয়েছে। এর পরিণতিতে ইতোমধ্যে বিভক্ত হয়ে যাওয়া একটা জাতির বিভাজন আরও বৃদ্ধি পাওয়ার, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ও দেশের রাজনীতি পুনর্নির্ধারিত হওয়ার এবং ট্রাম্প ও তার প্রতিপক্ষ ডোমোক্র্যাট উভয়ে প্রবল ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

পেলোসি এসব জেনেশুনেই এমন এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছেন এই কারণে যে তিনি বিশ্বাস করেন ইউক্রেন সরকারের তাঁর আচরণ সীমা অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প বাহ্যত ইউক্রেন সরকারকে এটা জানতে দিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, এমনকি সাহায্য সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করছে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি রাজনৈতিক পরিবারের ব্যাপারে ওই সরকারের তথ্যানুসন্ধান চালানোর ওপর। এটা নিক্সন ও ক্লিনটনের ইমপিচমেন্টের সময় আনীত অভিযোগের চেয়েও মারাত্মক। এর অর্থ প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন।

মার্কিন সরকার অনেক সময় বিদেশী রাষ্ট্রবর্গকে কোন কার্যোদ্ধার করার বিনিময়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে ইউক্রেনের ব্যাপারটা এক্ষেত্রে ভিন্ন। রুশ আক্রমণের হাত থেকে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে সক্ষম করে তুলতে আমেরিকার স্বার্থ আছে এবং সে কারণে কংগ্রেস ওই দেশের নবনির্বাচিত সরকারকে প্রায় ৪০ কোটি ডলারের প্যাকেজ সামরিক সাহায্য দিতে এগিয়ে এসেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সেই সাহায্য স্থগিত রাখেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জোলনস্কিকে সে দেশে ব্যবসায়িক কারবার থাকা হান্টার বাইদেনের ব্যাপারে তদন্ত চালাতে চাপ দেন। হান্টার হলেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রথম দিকের মনোনয়ন প্রার্থীদের অন্যতম জো বাইদেনের ছেলে। ট্রাম্প শুধু চাপ প্রয়োগই করেননি, বার্তাটির পুনরাবৃত্তি করতে তিনি তাঁর এক ব্যক্তিগত আইনজীবীকে জেলেনস্কির এক উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতেও পাঠিয়েছিলেন।

ইউক্রেনের মতো দুর্নীতিতে আকীর্ণ একটি দেশে মার্কিন সাহায্য ও বাইদেন পরিবারের ব্যাপারে তথ্যানুসন্ধান চালানোর মধ্যে যোগসূত্রটা ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। যোগসূত্রের নির্গলিতার্থ হলো ‘তোমরা জো বাইদানের গায়ে কালিমালিপ্ত কর এবং আমরা তোমাদের অর্থ ও অস্ত্র দেব।’ এই ঘটনাটিকে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার হিসেবে দেখছে। সে জন্যই পেলোসি ইমপিচমেন্টের শুনানি শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

শুনানি শেষে প্রতিনিধি পরিষদ যদি ট্রাম্পকে ইমপিচ করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলেই সে তাকে ইমপিচ করা যাবে তা নয়। সেটা করতে হলে সিনেটে তাঁকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে যেটা হবার না হবার না হবারই বেশি সম্ভাবনা। কারণ সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে রিপাবলিকানদেরই দেখলে ৫৩ আসন। ইমপিচমেন্ট ব্যর্থ হলে ট্রাম্প বহাল তবিয়তে স্বপদে থাকবেন এবং তখন বলতে পারবেন যে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ‘উইচ-হান্টিং’Ñএ তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। মাঝখান থেকে এই হবে যে মার্কিন সমাজ আরও বিভাজনের দিকে ধাবিত হবে।

চলমান ডেস্ক

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

নির্বাচিত সংবাদ