১৪ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্রেক্সিট পেছাল ॥ ব্রিটেনে ১২ ডিসেম্বর নির্বাচন

  • তৌফিক অপু

গোড়াতে যেমন পরিকল্পনা করা হয়েছিল সে অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট শেষ পর্যন্ত ঘটল না। মানে ব্রেক্সিট আবার পেছাল। নতুন সময়সীমা ধার্য হয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। এর আগে ২৮ অক্টোবর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক ঘোষণা করেন ব্রেক্সিটের মেয়াদ আরেক দফা বাড়ানোর জন্য ব্রিটেন যে প্রস্তাব দিয়েছিল ইইউ তাতে রাজি হয়েছে।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্রেক্সিট পেছাল। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে এটাই যে শেষবার পেছানো হচ্ছে তা নয়। সামনে আগাম সাধারণ নির্বাচন। এমন সম্ভাবনাই প্রবল যে সেই নির্বাচনে রক্ষণশীল দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিরঙ্কুশ হবে না। তার ফলে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হবে এবং সেই পার্লামেন্টও ব্রেক্সিট প্রশ্নে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারবে না বলে মনে করার সমূহ কারণ আছে।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে অচলাবস্থা বিরাজ করায় কয়েকদিন আগে পার্লামেন্ট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোটে বড় দিনের আগেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পক্ষে রায় দেয়া হয় এবং তারিখটা ধার্য হয় ১২ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে চূড়ান্ত রায় দেশের জন্য এক নতুন ও পুনরুজ্জীবিত পার্লামেন্টের প্রয়োজন আছে। জনসন নির্বাচনে জয়লাভ করার ও শেষ পর্যন্ত নতুন সময়সীমার মধ্যে ব্রিটেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনার অঙ্গীকার করলেও স্বীকার করেছেন।

যে নির্বাচনটা কঠিন হবে। তথাপি তিনি ও তার দল যথাসাধ্য করার করবেন। তিনি বলেন আজ দেশবাসীকে একজোট হয়ে ব্রেক্সিট সম্পন্ন করার ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। রাজনীতিবিদরা যদিও ব্রিটিশ জনগণকে বিশ্বাস করাতে চাইছেন যে নির্বাচনই একমাত্র উপায় যার সাহায্যে ব্রেক্সিট সংক্রান্ত অচলাবস্থার অবসান ঘটানো যাবে। তথাপি সেটা আদৌ সম্ভব হবে কিনা প্রশ্ন আছে। কারণ এতদিন ধরে ব্রেক্সিট বিষয়ে কমন্সসভা কোন ধরনের সমাধানেই পৌঁছতে পারেনি। এখন নতুন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নতুন পার্লামেন্ট সমাধানে পৌঁছবে তেমন আশা করা বাতুলতা মনে হয়। এ জাতীয় বক্তব্য জনগণকে বহুবার শোনানো হয়েছে। বাস্তব অবস্থা হচ্ছে পার্লামেন্ট ব্রেক্সিট বিষয়ক কোন প্রসঙ্গেই যেমন একমত হতে পারেননি তেমনি কোন ধরনের নন-ব্রেক্সিটেও মতৈক্যে পৌঁছতে পারেনি। সেই অচলাবস্থা ভাঙ্গার দায়িত্বটা এখন দেয়া হয়েছে জনগণের ওপর। তারাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোন একটি দলকে এমনভাবে ক্ষমতায় আনবেন যাতে সেই দলটি পার্লামেন্টে এই প্রশ্নে একটা চূড়ান্ত কথামালায় পৌঁছতে পারে। নির্বাচনের আর মাত্র দেড় মাসেরও কম সময় বাকি। এই সময়টিতে জনগণকে নির্বাচনও ব্রেক্সিট নিয়ে এতদিনের কেচ্ছা কাহিনী গলধকরণ করতে হবে। কিন্তু তা থেকে কোন সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে মনে হয় না।

এ অবস্থায় কি কি হতে পারে? কোন্ কোন্ পথ খোলা আছে ব্রিটেনের সামনে? একাধিক পথ আছে। আরেক গণভোট হতে পারে। অবশ্য তার জন্য ব্রেক্সিট নিঃসন্দেহে আরেক দফা পেছাতে হবে। নতুন গণভোটের জন্য আইনও করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে ন্যূনতম ২২ সপ্তাহের সময় দিতে হবে। শ্রমিক দল, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপ ফর চেঞ্জ, গ্রীন পার্টি এরা সবাই আরেক গণভোট অনুষ্ঠান সমর্থন করবে। আরেক অপশন হলো চুক্তিহীন ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়া। পার্লামেন্টে কোন চুক্তি পাস না হলে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি কোন রকম চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবে। আর সেটা হলে যুক্তরাজ্য তৎক্ষণাৎ কাস্টমস ইউনিয়ন ও অভিন্ন বাজার থেকে বেরিয়ে যাবে। অথচ বাণিজ্যকে সহজতর করার উদ্দেশ্যেই ওগুলো উদ্ভাবিত হয়নি।

আরও একটি অপশন হলো সংবিধানের ৫০নং অনুচ্ছেদ রহিত করে ব্রেক্সিট একেবারেই বাতিল করে দেয়া। তবে স্পষ্টতই এমনটা বর্তমান সরকার ভাবছে না। অবশ্য লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বলেছে কর্মসভায় তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ব্রেক্সিট বাতিল করে দেবে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে তারা আরেক গণভোট সমর্থন করবে। সুতরাং ব্রিটেনের সামনের দিনগুলোতে অনেক ঘটনাবহুল অধ্যায় অপেক্ষা করছে।

সূত্র : ইন্টারনেট

নির্বাচিত সংবাদ