১৮ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরামবাগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন কোচ মারুফুল!

আরামবাগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন কোচ মারুফুল!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন কোচ মারুফুল হক। শেখ কামাল ক্লাব কাপে চট্টগ্রাম আবাহনীর খণ্ডকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করলেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে-নতুন মৌসুমে তা স্থায়ী হতে চলেছে। ভালোমানের ফুটবলারের সঙ্গে ডাগআউটে হাই-প্রোফাইল কোচদের লড়াইও জমে উঠেছে বলে স্বীকার করেছেন মারুফুল। তার ফল জাতীয় দলের ভাল পারফরম্যান্স।

অনিশ্চয়তা ঝেড়ে আসন্ন ফুটবল মৌসুমকে কেন্দ্র করে আবারও সরব হতে শুরু করেছে ক্লাবপাড়া। অধিকাংশ ক্লাব গুছিয়ে ফেলেছে দল। কিন্তু অনিশ্চয়তা কাটেনি আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের। অথচ এই ক্লাবে খেলেই সাধারণ ফুটবলার থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়েছেন সুফিল, রবিউল, আরিফরা।

ছোট দলের বড় তারকা ছিলেন মারুফুল হক। স্বপ্ন দেখেছিলেন, শতভাগ না হোক, বাস্তবায়নও করেছিলেন অনকটাই। তবে হঠাৎই স্বপ্নভঙ্গ। আরামবাগের সঙ্গে দুই মৌসুমের সম্পর্ক ছিন্ন করছেন তা নিশ্চিত। গুঞ্জন শেখ কামাল ক্লাব কাপে চট্টগ্রাম আবাহনীর দায়িত্ব পালন করা মারুফুল হককে নতুন মৌসুমে দেখা যাবে ব্লু পাইরেটসেদের ডাগ আউটে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে পেশাদার লিগে। কর্পোরেট দলগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে বিপিএলে দেখা যায় হাই- প্রোফাইল কোচদের। তাতে দেশীয় কোচদের জন্য কাজ হয়েছে আরও চ্যালেঞ্জিং, সাথে ফল পেতে শুরু করেছে জাতীয় দল, বলছেন মারুফুল হক।

২০০৮ সালে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু মারুফুলের। দুই বছরে ক্লাবটির হয়ে জেতেন দুবার ফেডারেশন কাপ ও একবার সুপার কাপ। প্রিমিয়ার লীগে দল হয় অপরাজিত রানার্সআপ! এরপর ২০১০ সালে চলে যান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রে। লীগে দল হয় রানার্সআপ। ২০১২ সালে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে কিছু জিতলে না পারলেও ২০১৩ সালে ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ (লীগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ) জেতার স্বাদ পান। এর আগে ১৯৮২ সালে মোহামেডান এমন ট্রেবল জয়ের নজির গড়েছিল। চতুর্থ শিরোপাটিও জিততে পারতো রাসেল। কিন্তু সুপার কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে গেলে আর ইতিহাস গড়তে পারেনি মারুফুলের শেখ রাসেল। ২০১৪ সালে শেখ জামাল ধানমণ্ডির হয়ে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জেতার পর ভুটানে গিয়ে জেতেন কিংস কাপের শিরোপা। জেতেন ফেডারেশন কাপও। তারপর শেখ রাসেল এবং সবশেষে ছিলেন আরামবাগ। আরামবাগের হয়ে জেতেন স্বাধীনতা কাপের শিরোপা। আর চট্টগ্রাম আবাহনীর খণ্ডকালীন কোচ হিসেবে জেতেন শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টের রানার্সআপ ট্রফি।

২০০৭ সালে প্রতীতি ফার্মা ভিক্টরি ফুটবল টুর্নামেন্টের সেরা কোচ, ২০০৯ ও ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির রায়ে সেরা কোচ এবং ২০১১ সালে কোচ অব দ্য ইয়ার হিসেবে লাভ করেন বাংলাদেশ স্পোর্টস এ্যাওয়ার্ড।

বুয়েটের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মারুফুল ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার না গড়লেও ফুটবল কোচ হিসেবে গড়ছেন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া মারুফুলের কোন আদর্শ কোচ না থাকলেও পছন্দ করেন জোসে মরিনহোর ট্রেনিং, পেপ গার্ডিওলার ডেডিকেশন, আর্সেন ওয়েঙ্গারের ট্যাকটিক্স ও স্যার এ্যালেক্স ফার্গুসুনের মোটিভিশন। বাংলাদেশের সাইফুল বারী টিটু, আবু ইউসুফ ও শফিকুল ইসলাম মানিকের কোচিংও ভাল লাগে তাঁর। তিনি কি পারবেন আরামবাগ ছেড়ে চট্টগ্রাম আবাহনীতে যোগ দিয়ে ক্লাবটিকে কোন ট্রফি এনে দিতে?

এই মাত্রা পাওয়া