১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পটিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

  পটিয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটিয়া, চট্টগ্রাম ॥ পটিয়া উপজেলার শ্রীমাই খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বালু মহাল ইজারা নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল শর্ত ভঙ্গ করে স্ক্যাবেটর দিয়ে বালু ও ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসানের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাব্বির রহমান সানি অভিযান চালিয়ে ১টি স্ক্যাবেটর জব্দ করেছে এবং আরো একটি স্ক্যাবেটর উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও রাজাঘাটা ব্রীজ এলাকায় শ্রীমাই খাল এলাকায় নষ্ট করে দিয়েছে। শ্রীমাই খালের হাইদগাঁও, বাহুলী ও পারিগ্রাম এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের ইজারা নেওয়া হলেও সরকারি নির্দেশনা না মেনে বালু উত্তোলনের কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি খালের পাশে যেসব মানুষের ফসলি জমি রয়েছে তাও দিনে রাতে কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

বর্ষা মওসুমে পাহাড়ি ঢল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে শ্রীমতি খালের ভাঙনে অসংখ্য নিরীহ মানুষের বসতঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমি বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু পটিয়াতে কোনভাবে বন্ধ হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রীমাই খাল থেকে একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি নির্দেশনা না মেনে সম্প্রতি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু করেছে। বালু উত্তোলন ও পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে উপজেলার বাহুলী, পারিগ্রাম, শ্রীমাই, হাইদগাঁও, ভাটিখাইন ও ছনহরা এলাকার কয়েকশ একর ফসলি জমি বিভিন্ন সময় বিলীন হয়ে গেছে। বিওসি রোড, পটিয়া-বোয়ালখালী সড়ক পুন: সংস্কার উন্নয়ন কাজে বালু ব্যবহারের কথা বলে স্ক্যাবেট দিয়ে দিনে রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বালু মহাল ইজারা নিয়ে শ্রীমাই খাল থেকে অবৈধভাবে স্ক্যাবেট দিয়ে বালু, ফসলি জমির মাটি লুট করে নিচ্ছে। অথচ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের বালু মহাল ইজারা শর্তে শ্রমিক দিয়ে বালু উত্তোলনের নির্দেশনা রয়েছে। এই শর্ত ভঙ্গ করে হাইদগাঁও রাজঘাটা ব্রীজ এলাকা, বাহুলী ও পারিগ্রাম এলাকায় স্ক্যাবেটর দিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন চলছে। দক্ষিণ হাইদগাঁও চন্দ্র পাড়া এলাকার বাসিন্দা শম্ভু চন্দ্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, শ্রীমাই খালের বালু মহাল ইজারা নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল প্রতি বছরই বালু ও ফসলি জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছে। গত বছর তাদের ফসল আলু ক্ষেতসহ ৪০ শতক জায়গার মাটি নিয়ে গেছে। এই ধরনের শ্রীমাই খালের দু’পাড়ের প্রায় শতাধিক মানুষের জমির মাটি ও বালু নিয়ে যাওয়ার জমি এখন খালে পরিনত। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করারও সাহস পায়না। চলতি অর্থ বছরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক থেকে বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন মো: হাসান নামের একব্যক্তি। ৩টি পয়েন্ট থেকে স্ক্যাবেটর দিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪ গাড়ি বালু উত্তোলন করা হয়।

পটিয়া সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি জানিয়েছেন, সরকারি নীতিমালা না মেনে অবৈধভাবে শ্রীমাই খাল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের যেমনি ক্ষতি হচ্ছে তেমনি এলাকার মানুষের ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি (ম্যাজিষ্ট্রট) অভিযান চালিয়ে হাইদগাঁও রাজঘাটা ব্রীজ ও বাহুলী এলাকা থেকে ১টি স্ক্যাবেটর জব্দ ও ১টি স্ক্যাবেটর নষ্ট করে দিয়েছেন। বালু মহালের ইজারা নিয়ে একটি মহল খালের পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে ও মানুষের ফসলি জমি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নির্দেশনা না মেনে বালু উত্তোলনের কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং সর্তক ইজারাদারকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।