০৯ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল

বিশ্ববিদ্যালয় হলো উচ্চ শিক্ষার সর্বোচ্চ পাদপীঠ, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা তাদের ভবিষ্যত গড়ার আকাক্সক্ষা নিয়ে পাঠক্রমে নিজেদের নিঃশর্ত নিবেদন করে। আর শিক্ষকরা হলেন পিতৃপ্রতিম অভিভাবক, যাদের সস্নেহ শাসন আর শিক্ষাদানে নতুন প্রজন্ম তার ভবিষ্যত জীবনের লক্ষ্যকে গন্তব্যে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এটাই যে কোন স্বাধীন ও সভ্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ামক শক্তি। এমন ধারায় এগিয়ে যাওয়ার কারণে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরাও এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে আদর্শ, মেধা ও মননে নিজেদের যোগ্যতম বিবেচনায় দেশ ও দশের কল্যাণে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিতে পারে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সূচকের অন্যতম হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। এখানে সামান্যতম অধোগতি পুরো কার্যক্রমকে বেসামাল করে দিতে পারে। আবার এখান থেকেই তৈরি হয় দেশের উপযুক্ত ভাবী কর্ণধার। সমাজ যখন হরেক রকম অসঙ্গতির বিপাকে পড়ে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে এই পবিত্র শিক্ষাঙ্গনটিতে। কারণ উদীয়মান সময়ের প্রজন্ম সমাজের উৎকর্ষ আর অবক্ষয়কে যত তাড়াতাড়ি ধারণ করে নেয়, যা অন্য কোথাও সম্ভব হয় না। বর্তমানে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, শিক্ষক থেকে আরম্ভ করে সম্ভাবনাময় ছাত্রছাত্রীরা কোন এক অদৃশ্য অপশক্তির কালো ছায়ায় জীবন ও ভবিষ্যত গড়ার মূল্যবান সময়কে হেলায় হারাতে বসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে সর্বোচ্চ আসনে বসা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়েও সাম্প্রতিককালে হরেক রকম আপত্তি ও অভিযোগ ওঠে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে। অরাজক পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাকার্যক্রমও থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ শেখ মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের নিয়ে যে মাত্রায় ক্যাম্পাস উত্তাল হয়ে উঠেছে তা সত্যিই দেশের জন্য মঙ্গলজনক কিছু নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ভিসির অবর্তমানে প্রোভিসি প্রশাসন চালানোর ব্যাপারটিও গ্রহণযোগ্য নয়। আশঙ্কা করা অমূলক নয় সুস্থ রাজনীতির ইতিবাচক প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে যেভাবে শান্ত পরিবেশ কলুষিত করা হচ্ছে, সেখান থেকে পরিত্রাণের সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশ করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে অর্থ প্রদানের কেলেঙ্কারি নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার নিরসন এখন অবধি হয়নি। পক্ষ-বিপক্ষ এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে পরিস্থিতি জটিল হতেও সময় নিচ্ছে না। ইতোমধ্যে ক্লাস, পরীক্ষা সবই বর্জন অবস্থায় ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে বিক্ষুব্ধ পরিবেশ। ভিসিকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ছাত্রলীগ উপাচার্যের সমর্থনে আন্দোলনকারীদের ওপর ন্যক্কারজনকভাবে চড়াও হয়েছে। এমন বেসামাল অস্থির পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে অনির্দিষ্টকালের জন্য খুলনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে ছাত্রছাত্রীরা হল ত্যাগে বাধ্য হয়। উচ্চ শিক্ষার পবিত্র অঙ্গনের সমূহ সঙ্কট সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষক ভিসি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কোথায় এর মূল সমস্যা তা খতিয়ে দেখতে ব্যর্থ হলে অরাজক অবস্থা ঠেকানো মুশকিল হবে। নষ্ট রাজনীতি না ষড়যন্ত্র কিংবা ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ার বহিরাগত অপশক্তির প্রভাবÑ সবই কঠোর নজরদারিতে এনে সমস্যা চিহ্নিত এবং দূরীকরণে আরও বেশি দেরি করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি লাগামহীন হয়ে যেতে পারে।