১৮ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাত্রলীগ নেতার প্রধান হত্যাকারী এখন আওয়ামী লীগ নেতা

  • ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ;###;অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রশ্নবিদ্ধ

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল ॥ শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সারাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রণয়ন করছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে বরিশাল বিভাগে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা। ওই তালিকায় উঠে এসেছে মাত্র ৪৩৩ জনের নাম, ঠিকানা ও পূর্বে অন্যদলের পদ-পদবি। এদের মধ্যে ছয়জন এসেছে জামায়াতের রাজনীতি থেকে।

তবে বরিশাল মহানগরসহ দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশিত ওই তালিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হয়েছেন অনেকটা বিস্মিত। কারণ তালিকায় মহানগর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা মাত্র ছয়জন। তাছাড়া দুটি উপজেলা রয়েছে যেখানে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মাত্র দুইজনের নাম রয়েছে। তার মধ্যে একজন অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। আবার তালিকায় স্থান পায়নি বরিশাল জেলার সদর উপজেলাসহ পাঁচটি উপজেলার অনুপ্রবেশকারীদের নাম।

এমনকি ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বহুল আলোচিত সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বুলেটকে প্রকাশ্যে ইট দিয়ে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে নির্মম হত্যার ঘটনার মূলহোতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি থেকে যোগদান করে এখন আওয়ামী লীগ নেতা হয়েছেন। তার নামও আসেনি অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায়। অথচ নির্বাচনের পূর্বে জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে শুধু গৌরনদী উপজেলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকায় নাম এসেছে শুধু মৃত্যু এক ব্যক্তির নাম। এছাড়াও উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির পদ-পদবীতে থাকা সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা অনুপ্রবেশকারীদের নামও তালিকায় আসেনি। ফলে প্রকাশিত ওই তালিকা নিয়ে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সঠিকভাবে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করার জন্য দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জোরদাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকা কতিপয় নেতার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীরা আসন্ন সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় পদ-পদবী পেতে অত্যন্ত সুকৌশলে লবিং ও তদ্বির অব্যাহত রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব অনুপ্রবেশকারীদের কারণে এখনও কোনঠাসা হয়ে রয়েছেন দলের দুর্দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। এখনই ওইসব অনুপ্রবেশকারীদের রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে তারাই (অনুপ্রবেশকারী) দলের জন্য বিষফোড়া হয়ে দাঁড়াবে। সূত্রে আরও জানা গেছে, অধিকাংশ অনুপ্রবেশকারীরা দিনের আলোয় নিজেদের আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিলেও রাতের অন্ধকারে তারা পূর্বের (বিএনপি-জামায়াত) কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বলেন, আমরা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকার দায় নিব না। কারোর নাম তালিকা থেকে বাদ পরলে তার দায়ভার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাকে নিতে হবে।

প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় অনুপ্রবেশকারীর শীর্ষে রয়েছে বরিশাল ও ভোলা জেলা। এরমধ্যে বরিশালের পাঁচটি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা মাত্র ২৩১ জন এবং ভোলায় ১৩৬ জন। এর বাইরে পটুয়াখালীতে ২৫ জন, ঝালকাঠিতে ১৫ জন, পিরোজপুরে ১০জন, বরগুনায় ১০ জন ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী মাত্র ছয়জন। ওই তালিকায় ঝালকাঠির নলছিটিতে দুইজন, পিরোজপুর ও মঠবাড়িয়ায় দুইজন, ভোলায় একজন বরগুনার তলতলীতে একজন জামায়াত নেতা রয়েছেন।

অপরদিকে বরিশাল জেলার যে তালিকাটি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে মাত্র পাঁচটি উপজেলার নাম রয়েছে। জেলায় আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী তালিকার মধ্যে ২২৫ জনই মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার। অপর চারটি উপজেলার মধ্যে হিজলা উপজেলায় ২১ জন, উজিরপুরে সাতজন। গৌরনদী ও বাবুগঞ্জ উপজেলায় মাত্র একজন করে নাম এসেছে। তারা হলেন-বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন বাবুল এবং গৌরনদীর মাহিলাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ লোকমান হোসেন খান বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি (লোকমান খান) অনেকদিন পূর্বে মারা গেছেন। এদিকে ঘোষিত তালিকায় নেই বরিশাল সদর উপজেলা, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার নাম।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে প্রতিটি উপজেলায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। এরমধ্যে পেট্রোল বোমা হামলার আসামিও রয়েছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে থাকা কতিপয় নেতা ওইসব অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে দলের দুর্দিনের নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রেখেছেন। এখনই ওইসব অনুপ্রবেশকারী ও দলের সুদিনের কতিপয় সুবিধাভোগী নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব দলের ওপর পরবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলেন, আসন্ন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমরা নতুন নেতৃত্ব চাই। কারণ হিসেবে তারা বলেন, দীর্ঘদিন পদ পজিশনে থাকায় দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাঠালিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কো-কনভেনর কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে রাজাকার পুত্রসহ অনুপ্রবেশকারীদের কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে দলের বিভিন্ন স্তর থেকে শুরু করে ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলভারি করার প্রবণতায় নিজ বলয় ভারি করতে ফুলের তোড়ায় বরণ করে নেয়া হয়েছে বিএনপির বিতর্কিত নেতাদের। যাদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার একাধিক মামলা। সূত্রমতে, কো-কনভেনর কমিটির সদস্য এমএ জলিল উপজেলার চিহ্নিত রাজাকার আঃ ছোমেদ মিয়ার একমাত্র সন্তান। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন এবং শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পিচ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আরেক সদস্য ফাতিমা খানম বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কয়েক বছর আগে। কিন্তু ভাগিয়ে নিয়েছেন কো-কনভেনরের সদস্যপদ। তাদের নেতৃত্বে শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া ইউনিয়নে জামায়াত ও বিএনপি পন্থীদের দিয়ে আওয়ামী লীগের কমিটি করা হচ্ছে। উপজেলার চিহ্নিত রাজাকার শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পিচ কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদের পুত্র তরিকুল ইসলাম বুলবুল স্বপ্ন দেখছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবেন। চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নে জাকির হোসেন ফরাজী ও পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের আলাউদ্দিন আজাদ বাদল যোগ দিয়েছেন বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে। তাদের দাপটে এখন কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন উপজেলার ত্যাগী ও নির্যাতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জানান, বির্তকিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হলে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ গণমানুষের কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষের দখলে নয়, লুটেরা ও স্বাধীনতাবিরোধীদের দখলে চলে যাবে।

সরেজমিনে দলের তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে নদী বেষ্টিত মুলাদী উপজেলা সরগরম হয়ে উঠেছে। এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল বারীসহ সভাপতি হিসেবে প্রার্থী হবেন-বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান মিঠু খান এবং মুলাদী পৌরসভার দুইবারের মেয়র শফিকুজ্জামান রুবেল। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনার অগ্রভাগে রয়েছেন মুলাদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর হোসেন সুমন রাড়ী, কাজী মঈনুল আহসান সবুজ ও সালেহ হাওলাদার।

মুলাদীর তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলেন, বর্তমান কমিটির কতিপয় সিনিয়র নেতার নিকটাত্মীয়-স্বজন, শ্বশুর, ভায়রা বিরোধী পক্ষের প্রভাবশালী নেতা। তাদের হাত ধরেই বিতর্কিত অসংখ্য লোক আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। তারাই দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে রেখেছেন। তাই আসন্ন সম্মেলনে আমার নতুন নেতৃত্ব পেতে দলের হাইকমান্ডের কাছে জোর দাবি করছি। বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগে অনেক নেতাই রয়েছেন যারা ইতিপূর্বে বিএনপির দায়িত্বশীল পদে ছিলেন বা তাদের স্বজনরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এখনও রাজনীতি করছেন। অথচ বরিশাল মহানগরীতে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এসব নেতার নাম নেই। ফলে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ অনুসন্ধান জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে (২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে গৌরনদীর মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ শাজাহান মাতুব্বরের নেতৃত্বে শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী, দক্ষিণ বিজয়পুর এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ফারুক মোল্লার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক, মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা তোতা মিয়া হাওলাদারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী এবং সরিকল ইউনিয়নের দুই শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এর আগেরদিন ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য মাস্টার বজলুর রহমান ও একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদশার নেতৃত্বে বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মীরা। একইদিন আগৈলঝাড়ার রত্নপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ মোঃ আজিজুল ইসলাম ও তাঁতী দলের সভাপতি ইসাহাক আলী শাহর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় চার সমাজের সভাপতি শাহজাহান সরদারের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান সরদার, বজলুল হক সরদার, ছাত্তার শিকদার, আলতাফ হোসেন সরদার ও জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এর আগে ৩ ডিসেম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অতুল চন্দ্র সরকার, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিএনপি নেতা সবুজ বেপারীর নেতৃত্বে দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এছাড়াও উপজেলা যুবদলের সভাপতি আলী হোসেন ভূঁইয়া স্বপন এবং ছাত্রলীগ নেতা সফিকুল ইসলাম বুলেটের হত্যা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। একইভাবে ওই মাসে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি থেকে পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

দলের তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ এমন কোন দেউলিয়া দল হয়নি যে, একটি ভোটের জন্য ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের বহুল আলোচিত সরকারী গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রচার সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বুলেটকে প্রকাশ্যে ইট দিয়ে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে নির্মম হত্যার ঘটনার মূলহোতাকে দলে স্থান দিতে হবে। কতিপয় নেতার মদদে তাও করা হয়েছে। যারা দলকে দেউলিয়া বানাতে চায় তাদের চিহ্নিত করে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেতাকর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কাছে জোর দাবি করেছেন। অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, আমরা আগে থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। মহানগরীর ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগের চলমান সম্মেলনে অনুপ্রবেশকারী, মাদকাসক্ত, মামলার আসামিসহ কোন বিতর্কিতদের স্থান দেয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র থেকে অনুপ্রবেশকারীদের যে তালিকা প্রকাশ পেয়েছে তা এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। তাছাড়া তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে আমাদের কোন হাতও নেই। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী কেন্দ্র থেকেই এ তালিকা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ গত ৬ নবেম্বর বেলা ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছেন, আমার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় এত অনুপ্রবেশকারীর নাম। অথচ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক নিজেই দলে অনুপ্রবেশকারী। তার নাম কেন তালিকায় প্রকাশ পেল না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মেহেন্দীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা উদ্যানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন উপজেলা, পৌর এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল চেয়ারম্যানবৃন্দরা।