১৫ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাঙ্গন ঠেকানোর সেই জিওব্যাগ নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, পটুয়াখালী, ৮ নবেম্বর ॥ তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙ্গনের হাত থেকে একটি প্রাইমারী স্কুল রক্ষা করতে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ফেলার পর, তিন মাস যেতে না যেতেই পাউবোর সেই ব্যাগগুলো ওই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদি সরকারী প্রাইমারী স্কুলটি নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে ২শ’ মিটার জায়গাজুড়ে গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বালু ভর্তি ১৩ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়।

জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙ্গন রোধে টেকসই প্রকল্প গ্রহণের দাবিতে স্থানীয় লোকজন মানববন্ধনসহ লাগাতার নানা কর্মসূচীর প্রেক্ষিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম চলতি বছর ১৮ মে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিমদি সরকারী প্রাইমারী স্কুল এলাকায় নদীর ২শ’ মিটারজুড়ে ১৩ হাজার জিওব্যাগ ফেলা হয়। এতে স্থানীয় লোকজনের মাঝে আশার সঞ্চার হলেও অব্যাহত ভাঙ্গনে এখন সেই জিওব্যাগগুলো নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে জিওব্যাগগুলো ফেলায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার লোকজন দাবি করেন, তেঁতুলিয়া নদীর ধানদী, ডালিমা, কচুয়া ও তাঁতেরকাঠী ভাঙ্গন কবলিত পয়েন্ট থেকে জিওব্যাগগুলো ফেলা হলে প্রকল্পটি টেকসই হতো। এখন ওইসব পয়েন্টে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নিমদি স্কুল পয়েন্টে এলাকায় ¯্রােতের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে চাপ পড়ছে জিওব্যাগের ওপরে। যার ফলে ব্যাগগুলো নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া মা ইলিশের প্রজননকালীন নিমদি পন্টুনে কোস্টগার্ডের জাহাজ নোঙ্গর করে রাখায় ঢাকাগামী দোতলা লঞ্চগুলো পন্টুনে না ভিড়তে পেরে জিওব্যাগের ওপর গিয়ে নোঙ্গর করায় বেশ কয়েকটি ব্যাগ ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, সঠিকভাবে প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। নদীর পাড়ের ভাঙ্গনের শিকার পাঁচ গ্রামের মধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হয় নিমদি প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন মাত্র ২শ’ মিটার জায়গায়। যে কারণে তিন মাস যেতে না যেতেই ওই প্রকল্পের সুফলতা এখন কুফল বয়ে এনেছে। বালুভর্তি ওই জিওব্যাগগুলো এখন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্কুল ভবনটিও আবার ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। অভিযোগ রয়েছে, জিও টেক্সটাইল নামে জিওব্যাগ উৎপাদনকারী ঢাকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ করেননি। জিওব্যাগে ৩শ’ কেজি বালুভর্তি করার কথা থাকলেও তা করেননি। সমপরিমাণ কাদাবালু মিশ্রিত অবস্থায় ব্যাগগুলো সেলাই দিয়ে নদীতে ফেলেছেন। এর ফলে পানিতে ঢিলেঢালা হয়ে যায় অধিকাংশ ব্যাগ। নদীর ২শ’ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় নদীর ৯ মিটার গভীরে জিওব্যাগগুলোর কথা থাকলে তীরের কাছাকাছি জায়গায় ব্যাগগুলো ফেলা হয়েছে। যা স্রোতেরটানে ব্যাগের নিচের অংশ থেকে মাটি সরে গিয়ে ব্যাগগুলো নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া