১৮ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাদলের লাশ ঢাকায় ॥ বোয়ালখালীতে আজ দাফন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের মরদেহ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার পর ভারত থেকে বিমানযোগে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আজ শনিবার মুক্তিযোদ্ধা বাদলের প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে মরদেহ কিছুক্ষণ রাখা হবে। বিকেলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর নিজ গ্রাম সারোয়াতলীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিককে।

জাসদের সভাপতি শরিফ নূরুল আম্বিয়া জানান, রাত আটটা ৩৫ মিনিটের পর মইন উদ্দীন খান বাদলের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ চট্টগ্রামে নেয়া হবে। চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে দুপুর ২টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় জানাজা আছরের নামাজ শেষে চট্টগ্রাম বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর অন্যসব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মইন উদ্দীন খান বাদলকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। চট্টগ্রামে জানাজার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরের নারায়ণ হৃদরোগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চট্টগ্রাম-৮ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বছর দুই আগে ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই অসুস্থ ছিলেন বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি বাদল। ছোট ভাই মনির জানান, দুই সপ্তাহ আগে নিয়মিত চেকআপের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন বাদল। সেখানে প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মইন উদ্দীন খান বাদল। তার বাবা আহমদ উল্লাহ খান ও মা যতুমা খাতুন। ষাটের দশকে ছাত্রলীগের ‘নিউক্লিয়াসে’ যুক্ত বাদল একাত্তরে ভারতে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্র বোঝাই জাহাজ সোয়াত থেকে অস্ত্র খালাস প্রতিরোধের অন্যতম নেতৃত্বদাতা ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন বাদল। জাসদ হয়ে বাসদ এবং পরে আবারও জাসদে ফেরেন। এরশাদের সামরিক শাসনের সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়।

২০১৬ সালের ১২ মার্চ হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের জাতীয় কাউন্সিলে আবার দুই ভাগ হয় দলটি। হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার নেতৃত্বাধীন অংশটি ইসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান নেতৃত্বাধীন অংশটি বাংলাদেশ জাসদ নামে আলাদা দলের স্বীকৃতি চায়। তবে ইসি তাদের নিবন্ধন দেয়নি। এই অংশের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মইন উদ্দীন খান বাদল। মূলত নেতৃত্ব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ ইনুর জাসদ ছেড়ে আলাদা প্লাটফরম গড়ে তোলেন তিনি।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে ২০০৮ সালে মহাজোটের মনোনয়ন পান শরিক দল জাসদের নেতা বাদল। নৌকা প্রতীকে তার বড় জয়ের মধ্য দিয়ে ওই আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটে।

এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে আরও দুইবার তিনি আসনের এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে দৃপ্ত বক্তব্য দেয়া বাদল সমাদৃত ছিলেন একজন দক্ষ পার্লামেন্টেরিয়ান। উগ্রসাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলেন তিনি। কথা বলেছেন. সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জনপ্রিয় এই নেতা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল গঠনেও তার ভূমিকা ছিল।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বাদলের মরদেহ দেশে আনা এবং শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে পরে তা জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মনির। একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

বাদলের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। দ্বিতীয় দিনেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন ভক্ত অনুরাগীরা। চট্টগ্রামের বোয়ালখালীজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদলের লাশ সময় পেলে ঢাকার দলীয় কার্যালয়ে নেয়া হতে পারে।