১৩ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আর মাত্র ২২ লাখ সংযোগ দিলেই শতভাগে বিদ্যুত

  • আগামী জুনের মধ্যেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ বিদ্যুত বিভাগের

রশিদ মামুন ॥ ২২ লাখের ঘরে বিদ্যুত গেলেই শতভাগে পৌঁছবে বিদ্যুত প্রাপ্তি। সরকার বলছে দেশের বিদ্যুত সংযোগ পৌঁছেছে ৯৫ ভাগ মানুষের ঘরে। এখনও পাঁচ ভাগ মানুষ রয়েছে বিদ্যুত সেবার বাইরে। এই পাঁচভাগে গ্রাহক সংখ্যার পরিমাণ নির্দিষ্ট করেছে সরকার। সম্প্রতি বিদ্যুত বিভাগের তরফ থেকে এই সংখ্যা জানানো হয়েছে।

বিদ্যুত বিভাগ বলছে সরকার শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছে দিতে চায়। এজন্য ২০২১ সালকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করা হচ্ছে। সরকারের এই পরিকল্পনা এক বছর আগেই বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুত বিভাগ। সম্প্রতি শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিদ্যুত বিভাগ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে আর মাত্র ২২ ভাগের ঘরে বিদ্যুত সংযোগ পৌঁছে দিতে হবে। আগামী জুনের মধ্যেই সেই কাজ শেষ করতে চায় বিদ্যুত বিভাগ।

এ বিষয়ে বিদ্যুত বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস জানিয়েছেন, শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে হলে এখনও ৪৮ হাজার কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করতে হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজের বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করছে বিদ্যুত বিভাগ। আরইবি বলছে, ২১১ উপজেলাকে ইতোমধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর বাইরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে আরও ১৪৩ উপজেলা। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৫৪ উপজেলা আসবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায়। এর বাইরে ৫০ উপজেলা আগামী বছরের মধ্যে আসবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায়।

সরকারী হিসাব মতে ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুত গ্রাহকের সংখ্যা ছিল এক কোটি আট লাখ। এখন যার সংখ্যা তিন কোটি ৫৫ লাখ। অর্থাৎ গত দশ বছরে দেশে বিদ্যুত গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ। শতভাগ বিদ্যুতায়নে বিতরণ কোম্পানিগুলো দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে বলে মনে করছে সরকার। বিশেষ করে নতুন নতুন বিতরণ এলাকা সম্প্রসারিত হয়েছে। বলা হচ্ছে ১০ বছর আগে দেশে বিতরণ লাইন ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার কিন্তু দ্রুত বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ করায় এখন যার পরিমাণ ৫ লাখ ৪৬ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ এর মধ্যেই দুই লাখ ৮৬ হাজার কিলোমিটার লাইনের সম্প্রসারণ হয়েছে। বিগত ১০ বছর আগে যেখানে বিদ্যুতের সুবিধা প্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ছিল ৪৭ ভাগ এখন তা ৯৫ ভাগ। অর্থাৎ ৪৮ ভাগ মানুষ নতুন করে বিদ্যুত সুবিধার আওতায় এসেছে।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে সব থেকে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে অফগ্রিড এলাকাকে। অর্থাৎ যেখানে বিদ্যুতের গ্রিড পৌঁছায়নি সেখানের মানুষকে আলোকিত করাই এখন সব ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। হাওড়, পাহাড়, দুর্গম চরাঞ্চল এবং উপকূলীয় এলাকার অনেক গ্রামই অফগ্রিড এলাকায় রয়েছে। এসব অফগ্রিড এলাকার মানুষের ঘরেও আলো জ্বালাতে চাইছে সরকার। এজন্য সোলার মিনি গ্রিড করা হচ্ছে। সোলার মিনি গ্রিডের পাশাপাশি যেখানে একেবারে মিনি গ্রিডও নেই সেখানে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করা হচ্ছে।

বিদ্যুত বিভাগ সারাদেশের বিদ্যুত বিতরণকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। একটি হচ্ছে গ্রিড এবং অন্যটি অফগ্রিড। অর্থাৎ সরকারী গ্রিড থেকে বিদ্যুত সরবরাহ পান যারা তারা গ্রিডের আওতাভুক্ত। আর গ্রিডের বিদ্যুত নেই যাদের তারা অফগ্রিড এলাকার। অফগ্রিড এলাকার বিদ্যুত বিতরণে সরকার দুটি পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি হচ্ছে সোলার মিনি গ্রিড অন্যটি হচ্ছে সোলার হোম সিস্টেম। সরকার বলছে ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৫৮ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করা হয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্রেডা বলছে, দেশের অফগ্রিড এলাকার মধ্যে ২৬ ভাগ অংশে মিনি গ্রিড নির্মাণও সম্ভব নয়। এসব এলাকায় সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বিদ্যুত বিভাগের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পৃথক তিন জেলার অফগ্রিড এলাকায় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য তিন জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় ৩০ ভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। আরও ৭০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুত দিতে প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।

স্রেডার চেয়ারম্যান মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে এক হাজার ৬৯টি অফগ্রিড গ্রাম চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২০টিকে আগামী জুনের মধ্যে সোলার হোস সিস্টেমের মাধ্যমে আলোকিত করা হবে। অবশিষ্ট ৪৪৯ গ্রামে কিভাবে বিদ্যুতের সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে একটি সমীক্ষা করছে স্রেডা। এই জরিপের কাজ শেষ হলেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।