০৯ নভেম্বর ২০১৯

সিঙ্গাপুর ॥ ইন্টেলিজেন্ট থেকে স্মার্ট

সারা দুনিয়ার অন্যতম ছোট একটি দ্বীপ দেশ সিঙ্গাপুর আমার কাছে বরাবরই খুব প্রিয়। সেই সত্তর দশকে ভারত, থাইল্যান্ডের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছিলাম। তখনই দেশটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমি দেশটির সব কিছুই পর্যবেক্ষণ করি বহু বছর থেকে। বিশ্বের যে ক’জন মানুষ আমার প্রিয় তার মাঝে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ অন্যতম। ৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে বিতাড়িত হওয়া এই দেশটির ঘুরে দাঁড়ানো সারা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে। মাথাপিছু ষাট হাজার ডলার মাথাপিছু আয়ের এই দেশটির দিকে না তাকিয়ে থাকা কঠিন। সেই সত্তর দশক থেকে এই দেশটিতে আসার কোন সুযোগ পেলে আমি কখনও সেই সুযোগ হাতছাড়া করিনি। কোথাও যাবার পথে স্টপঅভার হিসেবেও সিঙ্গাপুরকে ব্যবহার করে আসছি। সিঙ্গাপুর সফরের প্রথম অভিজ্ঞতাটি অসাধারণ। সেই বছর পকেটে অনেক ডলার নিয়ে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলাম। অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কেনাকাটা করা। তখন বাংলাদেশে প্রায় কিছুই পাওয়া যায় না। টুথপেস্ট বা সাবানও বাইরে থেকে কিনতে হতো। সেবারই একটি অত্যাধুনিক ক্যামেরা কিনেছিলাম। এক্সডি৭ মডেলের এই ক্যামেরাটি তখনকার দিনে ৪শ’ ডলার দিয়ে কিনে জুরং বার্ড পার্কে গিয়েছিলাম ছবি তোলা অনুশীলন করতে। পাখীদের প্রচুর ছবি তুলতে তুলতে একটি শিশুকে দেখে ওর ছবি তোলার ইচ্ছা হলো। ছবি তুললামও। শিশুটির সঙ্গে এমন গভীর বন্ধুত্ব হয়ে গেল যে সবুজ ঘাসে ওকে নিয়ে খেলতে শুরু করেছিলাম। তখন খেলার সুবিধার্থে ক্যামেরার ব্যাগটা মাঠের একটা কোনায় রেখেছিলাম। শিশুটির সঙ্গে খেলতে খেলতে পার্ক বন্ধ হওয়ার সময় হয়ে গেলে ক্যামেরা ফেলেই চলে এসেছিলাম। বাসে অর্ধেক পথ আসার পর মনে পড়ল ক্যামেরাটা পার্কে রেখে এসেছি। বাস থেকে নেমে উল্টো বাসে পার্কে গিয়ে গার্ডদের কাছ থেকে অক্ষত অবস্থায় ক্যামেরার ব্যাগটি ফেরত পেয়েছিলাম। সিঙ্গাপুর নিয়ে এমন অনেক গল্প আছে আমার।

১৯ সালে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে সিঙ্গাপুর ভ্রমণের সুযোগ আসে জীবনে প্রথমবারের মতো। ২০০৬-৭ সালের দিকে সিঙ্গাপুরের তৈরি করা একটি ভিডিও আমি দারুণভাবে আমার প্রেজেন্টেসনে ব্যবহার করতাম। যাদেরকে ভিডিওটা দেখাতাম তারাও অবাক হতো। সেটি এত জনপ্রিয় হয় যে এর বাংলা ধারাবিবরণী তৈরি করেও আমি ব্যবহার করেছি। ভিডিওটি ছিল আইএন১৫ নামের। এর সর্বাধিক ব্যবহার করেছি ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে সেমিনার করার সময়। ২০০৭ সাল থেকেই সেই ব্যবহার ব্যাপকভাবে করতে থাকি। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে লেখালেখি করার সময় সেই ভিডিও এবং সিঙ্গাপুরের ইনফোকম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির তথ্যাদি প্রভাব ফেলে থাকবে। স্বাধীনতার ৪০ বছর অতিক্রম করে স্বাধীনতার ৫০ বছরকে লক্ষ্য হিসেবে মনে রেখে আইএন২০১৫ ঘোষণা করা হয়। আইএন ১৫ এর ৬টি প্রধান লক্ষ্য ছিল। ১) তথ্যপ্রযুক্তিকে অর্থনীতি ও সমাজের উন্নয়নে অধিকতর মূল্য সংযোজন করা। ২) অর্থনীতিতে তথ্যপ্রযুক্তির অবদান দ্বিগুণ বা ২৬ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারে উন্নীত করা। ৩) তথ্যপ্রযুক্তির রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার বা তিনগুণে উন্নীত করা। ৪) ৮০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ৫) শতকরা ৯০ ভাগ বাড়িতে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছানো। ৬) বাড়ি ও স্কুলগামী সকল শিশুর সবার হাতে কম্পিউটার পৌঁছানো। ইনটেলিজেন্ট নেশন ১৫ এর সময়সীমায় পৌঁছানোর আগেই ২০১৪ সালের ২৪ নবেম্বর সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী শিয়েন লুং স্মার্ট নেশন সিঙ্গাপুর কর্মসূচী ঘোষণা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরের বিগত সময়ের অর্জনের কথা উল্লেখ করে জানান যে দেশটি এরই মাঝে স্মার্ট নেশন হয়েছে। তিনি বলেন যে, দেশটির ১০টি বাড়ির ৯টিতে ব্রডব্যান্ড রয়েছে। সহসাই বাড়ি বাড়ি ব্রডব্যান্ড পৌঁছাবে। তিনি জানান, বিশ্বের একমাত্র দেশ সিঙ্গাপুর, যার অধিবাসীদের শতকরা ৮৫ ভাগ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। তার মতে সিঙ্গাপুর বিশ্বে সেরা সরকারী সেবা প্রদান করছে। তিনি সিঙ্গাপুরের ছাত্র-ছাত্রীদের বিজ্ঞানমনষ্কতার প্রশংসা করেন। তার হিসাবে ছাত্র-ছাত্রীদের এক-তৃতীয়াংশ কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ে। সাধারণ মানুষের জীবন হয়েছে আরও সহজসাধ্য টেকসই ও ডিজিটাল। সেই দেশটি স্মার্ট নেশন কর্মসূচী ঘোষণা করে প্রতিটি নাগরিকের প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত জীবনের অঙ্গীকার করেছে। ১৪ সালেই তারা স্থির করেছিল যে, আইওটি, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স-এর মতো প্রযুক্তি পথচারী-গাড়িচালক-বাড়িঘরসহ সর্বত্র ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর জীবন যাপন করবে।

এমন প্রত্যয় নিয়ে যে দেশ ২০০৫ সালে পরিকল্পনা করতে পারে, সেই দেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ কি ছাড়া যায়? শুধু তাই নয়, এখন সেই দেশ স্মার্ট নগরী বা স্মার্ট জাতিতে পরিণত হবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে এমন একটি স্বপ্নের দেশে এশিয়া প্যাসিফিক টেলি কমিউনিটির অংশ হতে পারায় নিজের জানার পরিধি যে বহুগুণ বাড়াতে পারব, সে বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম।

বিমনাবন্দরে নেমেই সিঙ্গাপুর সরকারের আতিথেয়তা মুগ্ধ করে। যখন হোটেলে গেলাম তখন দেখলাম রুমের দরজার পাশে দু’জন সাদা কাপড়ের পুলিশ বসে আছে। যতদিন সেখানে ছিলাম ততদিন ওরা মূর্তির মতো সেই অবস্থানেই ছিল। যে বিএমডব্লিউ গাড়িটি ওরা আমার জন্য ব্যবহার করে, সেটিও ছিল শো রুম থেকে আনা। আমাদের দূতাবাসও চমৎকার যত্ন নেয় আমাদের। আমার স্ত্রী ও সন্তানের চিকিৎসার বিষয়ে ওরা দারুণ সহায়তা করে।

সিঙ্গাপুর পরিচিতি ও অবস্থান : সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। এর আনুষ্ঠানিক নাম সিঙ্গাপুর প্রজাতন্ত্র। সিঙ্গাপুর একটি ক্ষুদ্র ও ব্যাপকভাবে নগরায়িত দ্বীপরাষ্ট্র। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্তে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত।

সিঙ্গাপুরের স্থলভূমির মোট আয়তন ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার। ১৯৬০-এর দশকে দেশটির আয়তন ছিল প্রায় ৫৮২ বর্গকিলোমিটার, বর্তমান এটি ৬৯৯ বর্গকিলোমিটার। ২০৩৩ সাল নাগাদ এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে আরও ১০০ বর্গকিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্বে সিঙ্গাপুর ব্রিটিশদের অধীনে একটি ‘ক্রাউন কলোনি’ ছিল। এই দ্বীপটি পূর্ব এশিয়ায় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ছিল। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি থাকার কারণে সিঙ্গাপুরকে তখন ‘জিবরালটার অব দা ইস্ট’ বলা হতো। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ ক্যানাল খোলার পর ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে সমুদ্র বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়, ঠিক তখনই সিঙ্গাপুরকে বিশ্বের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে ব্যবহার করা শুরু হয়।

মাথাপিছু আয় : ১৯৬৫ সালে অর্থাৎ স্বাধীনতা লাভের বছরে এই দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৫১৬ মার্কিন ডলার। এই ৫১৬ ইউ.এস. ডলার ছিল তখন পূর্ব এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। স্বাধীনতার পরে ইউরোপ থেকে বিনিয়োগ আসার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হওয়া শুরু করে। আশির দশকের মাঝখান দিকে এই দেশটি উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে। জাতিসংঘের মানব উন্নয়নসূচকে সিঙ্গাপুরের অবস্থান বিশ্বে নবম। সিঙ্গাপুর আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের মধ্যে অন্যতম।

জনসংখ্যা : সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা প্রায় পাঁচ মিলিয়ন (প্রায় ৫৮ লাখ)। সিঙ্গাপুরের ৪টি দাফতরিক ভাষা রয়েছে। এগুলি হলো : ইংরেজী, মালয়, চীনা মান্দারিন এবং তামিল। সাধারণ ভাষা হিসেবে এখানে ইংরেজীই প্রচলিত। এছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সরকারী কর্মকা-ে প্রধানত ইংরেজীই ব্যবহৃত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রায় ৮০% লোক ইংরেজীতে, ৬৫% লো মান্দারিন, ১৭% লোক মালয় এবং ৪% লোক তামিল ভাষায় কথা বলে থাকে। মালয়ভাষী প্রতিবেশী রাষ্ট্র মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বৈপরীত্য এড়াতে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৬০ সালে সিঙ্গাপুর সরকার মালয়কে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় সঙ্গীতও মালয় ভাষাতে রচিত। শিক্ষার হার ৯৫.৪৫%। মাথাপিছু আয় : ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার

মন্ত্রীদের সম্মেলন : গত ২৪-২৭ জুন ২০১৯ তারিখে এশিয়া প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) এর সেক্রেটারি জেনারেলের সভাপতিত্বে এবং সিঙ্গাপুর রেগুলেটরি অথরিটির সঞ্চালনায় গরহরংঃবৎরধষ গববঃরহম সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হয়। মিনিস্টারিয়াল এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আমার নেতৃত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। বৈঠকে ভানুয়াতু প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী, কুক আইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ, ব্রুনেই, কোরিয়া, কম্বোডিয়া, ফিজি, ইরান, কিরিবাটি, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, সামোয়া, সিঙ্গাপুর, টুভালু-এর মন্ত্রী মহোদয়গণ এবং জাপান ও লাওসের ভাইস-মিনিস্টারগণ যোগদান করেন। এছাড়াও বৈঠকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেলিকম রেগুলেটর, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির উর্ধতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিপর্যায়ের এই সভায় ২ দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শেষ দিন সমন্বিত ঘোষণাপত্র ও প্রেস রিলিজ জারি করা হয়।

এই ফোরাম এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নকেন্দ্রিক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন। এই ফোরামে অংশগ্রহণকারীরা এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে আইসিটি ও টেলিকম খাত উৎকর্ষের দিকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত ও জাতীয় পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়। আমি আনন্দিত যে, এমন একটি সম্মেলনে আমি অংশ নিতে পারি।

অনুষ্ঠানের দিনভিত্তিক সারসংক্ষেপ : ২৪ জুন সকাল ৯.৩০টায় এপিটির সেক্রেটারি জেনারেলের সভাপতিত্বে এবং সিঙ্গাপুর রেগুলেটরি অথরিটির সঞ্চালনায় সিনিয়র অফিসিয়াল মিটিং শুরু হয়। গরহরংঃবৎরধষ গববঃরহম-এর জন্য সমন্বিত ঘোষণাপত্র খসড়া করার জন্য গঠিত ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফবহপব এৎড়ঁঢ় চেয়ারম্যান এ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে এ ঘোষণাপত্র খসড়া করার জন্য যে পদ্ধতি এবং চেষ্টা করা হয়েছে, তা এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, আমার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল খসড়া ঘোষণাপত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের পরবর্তী ৩টি সেশনে মূলত সমন্বিত ঘোষণাপত্র এবং প্রেস রিলিজ এর খসড়া পর্যালোচনা করা হয় এবং সদস্যদের মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হয়। মূলত ২-৩ টি বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া, ইরান এবং ভিয়েতনাম-এর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল, যা কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। দিনের শেষ সেশনে সকল সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমন্বিত ঘোষণাপত্র এবং প্রেস রিলিজের খসড়া গৃহীত হয়। এছাড়াও মন্ত্রিপর্যায়ের সভার অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়। ২৫ জুন সকাল ৯.৩০টা হতে ১০.১৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী সেশনের মাধ্যমে ০২ দিনব্যাপী মন্ত্রিপর্যায়ের সভা শুরু হয়। এ সেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওহভড়পড়স গবফরধ উবাবষড়ঢ়সবহঃ অঁঃযড়ৎরঃু (ওগউঅ), সিঙ্গাপুর-এর প্রধান নির্বাহী তান কিয়াত হো। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য এবং উদ্বোধনী ঘোষণা করেন সিঙ্গাপুরের আইসিটি বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এস. ইশ্বরন। বক্তব্য রাখেন মিসেস আরিওয়ান হাওরংসি, সেক্রেটারি জেনারেল, এপিটি, হাউলিন ঝো, সেক্রেটারি জেনারেল, আইটিইউ এবং মিসেস আর্মীদা সালসিয়া আলিসজাহানা, এক্সিউটিভ সেক্রেটারি, ঊঝঈঅচ ।

সকাল ১১.১৫ টায় ২য় সেশনে Ministerial Roundtable - 1 শুরু হয়। বিষয় ছিল Digital Transformation, Digital Innovation and Creativity. এতে সভাপতিত্ব করেন ভানুয়াতু’র প্রধানমন্ত্রী এইচ. ই. চার্লট সালওয়াই তবিমাসাস।

দুপুর ২.৩০টায় অনুষ্ঠিত হয় Ministerial Roundtable -2 । এ বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ছিল Digital Community, Digital Capacity Building and Partnerships. এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর নিচে উল্লিখিত বক্তাগণ গুরুত্ব¡পূর্ণ বক্তব্য রাখেন। এ সেশনে সভাপতিত্ব করেন সামোয়ার আইসিটি ও টেলিকম বিষয়কমন্ত্রী আফমাসগা লাপুইয়া রিকো তোপাআ।

বিকাল ৪.০০টায় শুরু হয় Ministerial Roundtable-3। আলোচ্য বিষয় ছিল Digital Trust. সকল উন্নয়নশীল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সেশনে সভাপতিত্ব করেন আইটিইউ-এর সেক্রেটারি জেনারেল হাউলিন ঝাও। এতে সকল দেশেই ডিজিটাল সমাজ গঠনে ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং এ বিষয়ে করণীয় আলোচিত হয়। রাত ৭.০০টায় সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে আমি রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশগ্রহণ করি। সাইডলাইনে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়গণের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এছাড়াও জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিষয় সংক্রান্ত সংস্থা টঘ-ঊঝঈঅচ এর শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে একটি ইনফর্মেশন হাইওয়ে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের পরিকল্পনা এবং এ বিষয়ক কনভেনশন নিয়ে আলোচনা হয়।

২৬ জুন সকালে বিভিন্ন দেশের বেসরকারি সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থাপনার মাধ্যমে Session 5: Roundtable Dialogue with Industry: Industry Contributions towards Co-creating a connected digital future in the Asia-Pacific অনুষ্ঠিত হয়। এতে একটি টেকসই ও আধুনিক আইসিটি ব্যাবস্থা গড়ে তুলতে সরকারী-বেসরকারী সমন্বিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্¡ারোপ করা হয় এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন বেসরকারী উদ্যোগের কথা আলোচিত হয়। এই দিন চা বিরতির পর অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে সমন্বিত ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হয়। এতে বাংলাদেশ থেকে ৩টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়:

(ক) এই অঞ্চলের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ডিজিটাল সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে শিশু শ্রেণী থেকে প্রোগ্রামিংসহ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা তৈরির ব্যবস্থা করা;

(খ) বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এই বিষয়ে সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা;

(গ) ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর অধিকতর গুরুত্বারোপ।

এ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবদান ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের সঙ্গে আঞ্চলিক উচ্চপর্যায়ের ঘোষণাপত্রও একমত পোষণ করেছে।

টেলিকমিউনিটির মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের অসাধারণ অর্জন নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় একদিকে প্রিয় শহরটা ছেড়ে আসার কষ্ট ছিল, অন্যদিকে স্বদেশের লাল-সবুজ পতাকাটা উড়ছিল মানসপটে।

ঢাকা ॥ ২৫ জুলাই ১৮, সর্বশেষ আপডেট ৮ নবেম্বর ১৯

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক