১৬ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসী দল আত্মসমর্পণ করছে

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ এবার কক্সবাজারে আত্মসমর্পণ করছে অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসী দল। অস্ত্রের কারিগর ও শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ প্রায় ১০০ জনকে সেফ হোমে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে আছে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অন্তত ২৫জন চিহ্নিত জলদস্যু সর্দার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া সময় সাপেক্ষে চলতি মাসেই সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণের এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, মহেশখালী কুতুবদিয়া দু’টি উপজেলা সাগরসংলগ্ন। সাগরের পানিতে ট্রলার রেখে চরাঞ্চলে বেড়ালেও তাদের ধরার পন্থা থাকেনা। সাগরে বোট ও মাছ ডাকাতি, উপকূলে অপহরণ করে দিনযাপন করেছে সেফ হোমে আসা সন্ত্রাসীরা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাগরে দুই গ্রুপের মধ্যে বহু ঘটনাও ঘটেছে। যুগ যুগ ধরে কালারমারছড়া ও ঝাপুয়া এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সন্ত্রাসী কর্মকা- ও খুনের ঘটনায় রুজু হওয়া মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বহুদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের মুখও দেখতে পায়নি অনেকে। বছরের পর বছর পলাতক জীবন কেটেছে তাদের। শীত-গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল কেটেছে সাগরে। তারা আর কখনও অপরাধ করবে না বলে শান্তির পথে ফিরে আসতে শপথ করেছে। ধরা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। আলোর পথে ফিরে আসতে আগ্রহী এসব ব্যক্তিদের প্রশাসনিকভাবে সেফ হোমে নিয়ে আসা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রোগ্রাম পেলেই সম্পন্ন হবে অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়ার অস্ত্রের কারিগর ও শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসীদের টার্গেট করে এবারের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, জলদস্যু, অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসীদের অনেকে নিরাপদ জীবনে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি সরকারের উর্ধতন মহলে জানানো হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হতে পারে।

জানা গেছে, গত জোট সরকারের আমলে জিয়াউর রহমান জিয়া বাহিনী ও ছৈয়দ নূরের (নিহত) বাহিনীর মধ্যে প্রায় সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। তাদের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে অন্তত ২০ জনের প্রাণ গেছে। ঘরছাড়া হয়েছে বহু যুবক। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জিয়া বাহিনীর সদস্যদের আধিপত্য অনেকটা কমে যায়। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে মহেশখালীর সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান সালাহ উদ্দীনকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, চারটি হত্যাকা-, ধর্ষণ, অস্ত্র আইনসহ অন্তত ২০ মামলা মাথায় নিয়ে সে আত্মসমর্পণের ধারে কাছেও যাবেনা বলে দম্ভোক্তি করে আত্মগোপনে চলে যায়। মহেশখালী চ্যানেলে অসংখ্য অপরাধের হোতা শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাহ উদ্দীনকে গ্রেফতার করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত ছিল। অবশেষে পুলিশের পাতানো জালে আটকা পড়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সালাহ উদ্দীন। কক্সবাজার এসে ছদ্মবেশে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। শহরের একটি হোটেল থেকে ফাঁদ পেতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাহ উদ্দীনকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। জলদস্যু, অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসীদের অনেকে নিরাপদ জীবনে ফেরার আগ্রহের কথা জানালেও কৌশলে বাহিনী পরিচালনা করে যাচ্ছিল এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। অবশেষে শেষ রক্ষা হলোনা আওয়ামী লীগ নেতা দেবাঙ্গাপাড়ার মোঃ ফোরকানের পুত্র দিদারের হত্যাকারী সালাহ উদ্দিনের। তবে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড মাহমুদুল করিম ও আনচারুল করিমসহ সন্ত্রাসীরা এখনও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি, অভিযান চালিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সেকেন্ডইনকমান্ড মাহমুদুল করিম, জলদস্যু সদস্য আবদুল মালেক ওরফে ভুলাইয়া ডাকাত ও বেলাল উদ্দিন প্রকাশ বেলাল ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি অস্ত্র ও বিপুল গুলি। তাদের বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ধৃতদের পরিবারের দাবি গ্রেফতার নয়, তারা আত্মসমর্পণ করেছে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, সরকারের এই নমনীয় মনোভাবে জলদস্যু সন্ত্রাসী কিংবা অস্ত্র কারিগররা চাইলে সুযোগটি নিতে পারে। আত্মসমর্পণকারীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়া হবে।