১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ারবাজারে সব ধরনের সূচক বেড়েছে

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টানা মন্দাবস্থা থেকে গত সপ্তাহে কিছুটা উর্ধমুখী প্রবণতায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। এ পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার। তবে জেড ক্যাটাগরির বা দুর্বল কোম্পানির দর বাড়লেও সার্বিকভাবে গত সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত চাপ ও ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন ঘোষণা শেষ পর্যায়ে চলে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমছে। ঘোষণা সংক্রান্ত চাপ কমে যাওয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে পোর্টফলিও সাজাচ্ছেন। সবমিলেও গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে শেয়ার কেনার আদেশ বেশি থাকায় সব ধরনের সূচকই ইতিবাচক ছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি স্থানই দখল করেছে দুর্বল বা জেড’ গ্রুপের কোম্পানি। এ ছাড়া বাকি ছয়টির মধ্যে তিনটি রয়েছে ‘বি’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। আর ভাল কোম্পানি বা ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রয়েছে তিনটি।

সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল হাক্কানি পাল্প এ্যান্ড পেপার। ফলে সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে এই কোম্পানিটির শেয়ার দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটেছে।

মূল্যে বড় ধরনের উত্থান হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হয়নি। ফলে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা। আর প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৬০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। টাকার অঙ্কে বেড়েছে ১২ টাকা ১০ পয়সা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৬০ পয়সা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।

শেয়ারের এমন দাম হলেও ২০০১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভাল না। শেয়ারহোল্ডাদের নামমাত্র লভ্যাংশ দেয়ার কারণে কোম্পানিটির বর্তমান স্থান ‘বি গ্রুপে। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদরে ৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিলেও ২০১৭ সালে কোন ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। এরপর ২০১৮ সালে কোম্পানিটি থেকে শেয়ারহোল্ডাররা ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পায়।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি অংশের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার আছে।

হাক্কানি পাল্পের পরেই গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ছিল জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ডেল্টা স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে এই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

এরপরেই রয়েছে জেড গ্রুপের আর এক প্রতিষ্ঠান জিবিবি পাওয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এর পরের স্থানটিতেও রয়েছে জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। ২২ দশমিক ২২ শতাংশ দাম বেড়ে সপ্তহটিতে দাম বাড়ার শীর্ষ চারে স্থান করে নিয়েছে সমতা লেদার।

সপ্তাহজুড়ে দাম বাড়ার শীর্ষ তালিকায় পঞ্চম স্থান দখল করেছে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হলেও এ কোম্পানিটির মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর নানা বিতর্কের সৃষ্টি করে কোম্পানিটি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা।

তালিকাভুক্তির বছরে ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিলেও পরের তিন বছর কোম্পানিটি থেকে শেয়ারহোল্ডাররা কোন লভ্যাংশ পায়নি। ফলে টানা তিন বছর জেড গ্রুপে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০১৮ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়ে কোম্পানিটি এ গ্রুপে উঠে আসে। অর্থাৎ ভাল কোম্পানির তকমা লাগালেও লভ্যাংশ হিসেবে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের নগদ টাকার পরিবর্তে শুধু কাগজ ধরিয়ে দেয়।

এছাড়া গত সপ্তাহে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা- মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ ২০ দশমিক ২৫ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সটাইলের ২০ শতাংশ, গোল্ডেন হারভেস্টের ১৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আলহাজ্ব টেক্সটাইলের ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ, জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ওয়েল্ডিংয়ের ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ দাম বেড়েছে।