১২ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পিপলস লিজিং কোম্পানি অবসায়ন না করে আমানতকারীদের সঞ্চয় ফেরত দেয়ার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন অথবা অন্য যেকোন উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয় ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা।

শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো-১. পিপলস লিজিং এ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন (রি-কনস্ট্রাকশন) অথবা অন্য যেকোন উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দ্রুত ফেরত দেয়া। ২. চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ। ৩. অবিলম্বে পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া। বিশেষ করে তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তাদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা, তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিযে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

‘আমাদের আকুল আবেদন, এখনই পিপলস লিজিং-কে অবসায়ন না করে ব্যক্তি আমানতকারীদের আমানত দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে সরকার যেভাবে ফারমার্স ব্যাংককে অবসায়ন না করে পদ্মা ব্যাংক নামে পুনর্গঠন করে গ্রাহকদের আমানত ফিরিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি পিপলস লিজিং-কে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন করে নতুন নামে চালু এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

আতিক বলেন, আমাদের সকল সঞ্চয় লুট করে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকসহ অন্যান্যরা আরাম-আয়েশি জীবন-যাপন করছে, বিদেশে গিয়ে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এমন দুর্নীতি তিনি কখনওই প্রশ্রয় দেবেন না বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

আমরা পিপলস লিজিংয়ের প্রতারণার শিকার। আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের বাঁচানোর পথ সুগম করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করছি। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আমাদের মতো অসহায় আমানতকারীদের জীবন বাঁচাবে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রায় ছয় হাজার আমানতকারী সরল বিশ্বাসে আমাদের সঞ্চিত ও কষ্টার্জিত অর্থ আমানত হিসাবে পিপলস লিজিংয়ে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে আমরা, পিপলস লিজিংয়ের ক্ষুদ্র আমানতকারীরা কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাচ্ছি না।

আতিক বলেন, ছয় হাজার আমানতকারীর আমানত ফেরতের ব্যবস্থা না করে বাংলাদেশ ব্যাংক একতরফাভাবে পিপলস লিজিং-কে গত জুলাই মাসে অবসায়ন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পূর্ণ দায়ভার, দ্রুত ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া। কিন্তু বাস্তবে প্রায় পাঁচ মাস চলছে এখনও বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়া শুরু করেনি। তাই তারা দুশ্চিন্তায় দিনযাপন করছে।

নির্বাচিত সংবাদ