১২ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে শশী থারুর যা বললেন

ভারতের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে শশী থারুর যা বললেন
  • একান্ত সাক্ষাতকার

গৌতম পাণ্ডে ॥ ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। ফিকশন এবং নন ফিকশন মিলিয়ে তার ১৬টির মতো বই রয়েছে। অগণিত সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও তিনি কমনওয়েলথ লেখক পুরস্কার অর্জন করেছেন। লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ভারতে প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিন যুগের কাছাকাছি সময় ধরে তিনি জাতিসংঘে কাজ করেছেন। ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় ও শেষ দিন শনিবার দুপুরে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট ইটসেলফ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন তিনি।

একান্ত সাক্ষাতকারে শশী থারুর ভারতের রাজনীতি ও সাহিত্য নিয়ে কথা বলেন। ভারতের কাশ্মীর ইস্যুতে তিনি বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেকটা কার্যকর উপায়ের কথা বলেছিলেন কয়েকমাস আগে। এটা হচ্ছে গুলি না করে, গালি না দিয়ে, বুকে টেনে নিয়ে কাশ্মীরীদের সমস্যার সমাধান হবে। নিজের এই প্রেসক্রিপশন তিনি হয়ত ভুলে গেছেন বলে আমার মনে হয়। আমি আশা করি আগামী সপ্তাহে সংসদে তাকে সেটা আমি মনে করিয়ে দেব।

কাশ্মূীরের ভবিষ্যত কী? এমন প্রশ্নের জবাবে কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, আমি জানি না কাশ্মীর ইস্যুতে লোকসভায় আমার ভাষণ শুনেছেন কিনা। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এটা কোন পন্থা হতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘরবন্দী করে রাখা গণতন্ত্রে এক ধরনের অগ্রহণযোগ্য চর্চা। কাশ্মীর ইস্যুতে এখন অনেক বিষয় আছে। সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। কাশ্মীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় গবর্নরকে। এর মানে তিনি যেমনটা চাইছেন তেমনটাই সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে, যা কিনা সংসদে আলোচনা করে নেয়া উচিত। আমি জানি না এই বিষয়ে কেউ সুপ্রীমকোর্টের শরণাপন্ন হবেন কিনা, যদিও প্রচুর মামলা ঝুলে আছে, এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে তারা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন। এভাবে গণতন্ত্র চলতে পারে না।

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে শশী থারুর বলেন, কাশ্মীরের বিষয় অনেক পুরনো, অপ্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা মানবতা ও গণতন্ত্রের বিরোধী।

ভারতের অন্য প্রদেশের মতো সমস্যা এখানে হলে তার একটা রাজনৈতিক সমাধান বের করা যেত। কিন্তু কাশ্মীরে পাকিস্তান অস্ত্র সরবরাহ দিচ্ছে অভিযোগ করে শশী থারুর বলেন, আমাদের প্রায় একই ধরনের সমস্যা পাঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায় নিয়ে আছে। কিন্তু এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না, পাকিস্তানও সেখানে ইন্ধন দিচ্ছে। কিছু সংখ্যক শিখ সেখানে অর্থ ঢালছে। সেখানকার আন্দোলন হয়ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, কিন্তু কাশ্মীরে সেটা সহজ নয়। সুতরাং চ্যালেঞ্জ হলো, আমরা কিভাবে এগিয়ে যাব?

ভারতের রাজনীতির ন্যারেটিভ পাল্টে গেছে, এমন মন্তব্য করে ভারতীয় এই রাজনীতিক আরও বলেন, ড. মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় বলে গেছেন, আশা করি ইতিহাস আমার প্রতি সদয় আচরণ করবে। এটি ব্যাপকভাবে তখন মিডিয়ায় এসেছিল, এখন তার কথাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

শশী থারুর বলেন, শুধু মনমোহন সিংয়ের সাম্প্রতিক লেখাটি পড়লেই বিষয়টি বোঝা যাবে। মানুষ যখন তাকে বিভিন্নভাবে হেয় করেছিল, তখন বোঝা যাচ্ছে যে ন্যারেটিভ পাল্টে গেছে।

বাবরি মসজিদের রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে। এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চান না জানিয়ে শশী থারুর বলেন, আমি আশা করি মানুষ এ নিয়ে আর প্রশ্ন না তুলে এটিকে একটি সমাপ্তি হিসেবেই দেখবে এবং উত্তরণের পথে হাঁটবে। কারণ, আমার কাছে মনে হয় আমরা সামাজিকভাবে অনেক ভুগেছি এ নিয়ে। আমাদের জন্য এর চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

নির্বাচিত সংবাদ