১৯ নভেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশী বিনিয়োগের লাগাম টানছে জাপান

  • এনামুল হক

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনাজো আবে ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জকে জাপানের কোমার বাজারের শেয়ার কেনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার জন্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের নিয়মনীতি শিথিল করেছিলেন। এতে কাজ হয়েছিল। আজ টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিদেশীরা। সেখানে দৈনিক যে পরিমাণ লেনদেন হয় তার প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য তারাই দায়ী। কিন্তু জাপান সরকারের নতুন বিধিনিয়ম এই ধারাকে বদলে দেয়ার হুমকি সৃষ্টি করেছে।

গত ৮ আগস্ট জাপানের বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য আইনে একটা পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে তালিকাভুক্ত অনেক জাপানী কোম্পানির ন্যূনতম শেয়ার সরকারের পূর্ণ অনুমতি ছাড়া কেনার সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যান্য পরিবর্তনের মধ্যে আছে জাপান ফার্মগুলোর বোর্ড মিটিংয়ে বসার আগে বিদেশী ডিরেক্টরদের সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা হলো তারা জ্বালানি ও অস্ত্র উৎপাদনের মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোকে রক্ষা করতে চায়। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের হুঁশিয়ারি হলো এসব নিয়মকানুনের ফলে বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের (টিএসই) প্রধান আকিরা কিয়োটা বলেন, এমন নিয়ম নিতান্তই নিবুর্দ্ধিতা। সমালোচনার মুখে পড়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৮ অক্টোবর ব্যাখ্যা দেয় যে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী যেমন ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও এ্যাসেট ম্যানেজাররা যতদিন প্রমাণ দিতে পারবেন যে ম্যানেজমেন্টকে প্রভাবিত করার কোন অভিপ্রায় তাদের নেই ততদিন তাদের আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রস্তাবিত আইনটি কেবিনেটে অনুমোদিত হয়েছে এবং ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে পার্লামেন্টে পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু এতসব ব্যাখ্যার পরও উদ্বেগ অব্যাহত আছে। একটি হচ্ছে আইনের সুবিস্তৃত পরিধি। পারমাণবিক শক্তি ও এশেনটিক্স ছাড়াও এর আওতার মধ্যে থাকবে কৃষি, পরিবহন, শিপিং, সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট সার্ভিস। হস্তক্ষেপ বলতে কি বোঝায় সে কথাটাও পরিষ্কার নয়। জাপানের কোন ফার্মের পরিচালকম-লীর কাছে দেয়া একজন বিদেশী বিনিয়োগকারীর কোন চিঠিকে কি ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা বলে গণ্য করা হবে সেটাও স্পষ্ট নয়। নতুন আইন চালু হলে বিনিয়োগের ব্যাপারটা অধিকতর জটিল ও সময় অপহারক হয়ে দাঁড়াবে। এক বিশ্লেষণে দেখানো হয় নতুন নিয়ম অনুযায়ী সরকারের কাছে আবেদনপত্রের দফা আটগুণ বাড়বে।

জাপানী কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা অন্যদের সঙ্গে এ ব্যাপারে সমকক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত এপ্রিল মাসে বিহারের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখার বিষয়টি কড়াকড়ি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। এমনকি দেশটি স্পর্শকাতর প্রযুক্তিতে চীনের বিনিয়োগ ঢুকতে না দেয়ার জন্য জাপানকে প্ররোচিতও করেছে। তবে টোকিও এক বিদেশী ব্যাংকার বলেছেন যে জাপানের আসল টার্গেট এ্যাকটিভিস্ট বিনিয়োগকারীরা। এরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানী কোম্পানিগুলোর অপ্রধান পরিসম্পদ বিক্রি করার এবং নগদ অর্থ মজুদ বন্ধ করার পক্ষে লড়েছে। সাম্প্রতিককালে দেশের কয়েকটি বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সংঘাত হয়েছে।

তবে যাই হোক অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী জাপান সরকারের সংস্কারের ঐকান্তিকতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে। গত বছর তারা ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের জাপানী শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এক সময় এবেনোমিক্স কিনে নিয়েছিল। এখন তারা সেটা বিক্রি করে দিতে চায়।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট