০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিট ফেস্ট ও রবীন্দ্রনাথ

সাহিত্য আর সংস্কৃতিচর্চা কোন নির্দিষ্ট দেশের সীমাবদ্ধ আলোয়ে আটকে থাকে না। বিশ্ব পরিসরে মনন ও শিল্পচর্চার সর্বজনীন দ্যোতনায় সংস্কৃতির সম্প্রসারিত অবয়ব দৃশ্যমান হলেই এর গতি ত্বরান্বিত হয়, সর্বজনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। সর্বোপরি সংস্কৃতির আদান-প্রদান পারস্পরিক সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করে। সেই লক্ষ্যে ঢাকার লিট ফেস্ট উৎসবও এক শিল্প-সাহিত্য-সঙ্গীত ও নৃতকলার এক শৈল্পিক কর্মপ্রবাহের অনবদ্য মিলন শোভা। বৃহস্পতিবার ৭ নবেম্বর শুরু হওয়া এই সাংস্কৃতিক উৎসব তিনদিন ধরে তার আকর্ষণীয় কর্মদ্যোতনায় ৯ নবেম্বর যবনিকাপাত করে। বিশ্বজনীন এক অপার সম্ভাবনায় সৃজন ও মননশীল ব্যক্তিদের অভূতপূর্ব সম্মেলন উৎসবের আকর্ষণকে যে মাত্রায় নিয়ে যায় তা যেমন আনন্দাবেগে পূর্ণ, পাশাপাশি সর্বমিলনের এক আবশ্যকীয় গতি প্রবাহ। দেশের বরেণ্য শিল্পী-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের একীভূত হওয়া কম উপভোগ্য নয়। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সাহিত্য সম্মিলন অন্য নামে ব্রিটিশ কাউন্সিল চত্বরে অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৬ সাল থেকে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্বখ্যাত ও বাংলাদেশের যশস্বী লেখকদের গ্রন্থ উন্মোচন, পর্যালোচনা এবং উচ্চমান বিবেচনায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের বর্ণাঢ্য আয়োজন একে সমৃদ্ধ করে বৈকি। তিন দিনের এই সাংস্কৃতিক মিলনশোভা শেষ হয় শনিবার রাতে বুলবুলের দুর্যোগের কবলে পড়ে কিছুটা অতৃপ্তির মধ্য দিয়ে। আন্তর্জাতিক এই উৎসবের মূল বার্তা সব মানুষের অবারিত মিলনধারার সঙ্গে বিভিন্ন দেশের শিল্পকলা, মনন ও সৃজনচর্চার অবিস্মরণীয় যোগসাজশ।

এছাড়াও সিলেটে শতবর্ষ আগে রবীন্দ্রনাথের আগমনের সময়কে উপলক্ষ করে বছরব্যাপী মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন সম্পন্ন হয় শুক্রবার এর সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে। সিলেটের শতবর্ষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই বৃহদাকার সাংস্কৃতিক উৎসব তৈরি করেন সিলেটের বিশিষ্টজনেরা। কবিগুরুর শ্রীহট্ট আগমনের শতবর্ষ উদযাপনই এর লক্ষ্যমাত্রাকে আরও ব্যাপকভাবে সর্বজনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এই মহতী কর্মযোগের উৎসব শুরু হয়। সুরমা নদীর তীরবর্তী সিলেট অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা ১৯১৯ সালে সেভাবে এগিয়ে যায়নি। তাই বজরা করে সুরমা নদীর তীরে কবিগুরুর বজরা নোঙর ফেললে স্থানীয় গুণীজন থেকে আরম্ভ করে অসংখ্য উৎসাহী রবীন্দ্রভক্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন সে সময়। কলকাতার নবজাগরণের সুবর্ণ সময়ের কবিই শুধু নন, এশিয়ায় প্রথম নোবেল জয়ের কৃতিত্বও যাঁর, তিনি নদীপথে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর একটি অঞ্চল পরিদর্শন করতে চলে এলেন! সেও কবির অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আর সর্ব মানুষের মিলন আকাক্সক্ষায় এক অনবদ্য সফর ভাবনা। কবির আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে সিলেটবাসীর যে আন্তরিক নিবেদন নোবেল জয়ীর প্রতি, তাও এই অঞ্চলের মিলন আর সম্প্রীতির এক অভাবনীয় উপস্থাপন বৈকি।