০৮ ডিসেম্বর ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের নারীর অংশগ্রহণ

  • জেব-উন-নিসা (সবুজ)

কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায় নেই বললেই চলে। শুধু তাই নয়, যতই শিক্ষিত, সততা এবং যোগ্যতা থাক না কেন, কোন জেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে কোন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে আজ পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৮০% নারী ভোটার তৃণমূলে বসবাস করলেও বর্তমানে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এ দেশের নারীরা কতটুকু অগ্রসর হয়েছে, বাস্তব এই বিষয়টি বিবেচনায় নিলেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনে, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বা ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী, ১/১১-এর নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে এবং অতীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ সকল আন্দোলনে তৃণমূলের নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও সফল আন্দোলন শেষে তৃণমূলের নারী রাজনৈতিক কর্মীদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধুর পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্বে আসায় ধীরে ধীরে দলের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ফলে কেন্দ্রে বা জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তৃণমূলের নারী নেত্রীদের আসার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের নারীরা এগোলেই কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশ গড়া সম্ভব হবে।

বর্তমানে সংসদে ৫০ জন নারী সদস্য থাকলেও হাতেগোনা দু’-একজন ছাড়া তাদের যোগ্যতা এবং দক্ষতার অভাবে নিজেদের কখনই জাতীয় রাজনীতিতে মেলে ধরতে পারেননি তেমনভাবে। কারণ তাদের অধিকাংশই তৃণমূলের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাদের বড় অংশ বড় নেতাদের আত্মীয়-বান্ধব হয়ে থাকে। অন্যদিকে শুধু সুযোগের অভাবে তৃণমূলের প্রকৃত নারী নেতৃত্বের বিকাশ হয় না। এটাই বাংলাদেশের তৃণমূলের মহিলা রাজনীতির বাস্তবতা। কিন্তু এখন সময় এসেছে ঐ বাস্তবতা ভেঙ্গে নতুন বাস্তবতা তৈরি করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং জননেত্রী আপনি একজন নারী এবং দলের প্রধান হিসেবে আপনাকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে। তৃণমূলের মহিলাদের যোগ্যতা অনুসারে মূল দলে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব দিতে হবে। এবারকার কাউন্সিলে দলের নেত্রীত্বে অন্য সবার মতো আমিও আশা করি নেত্রী আপনার হাত ধরে তৃণমূলের যোগ্যতাসম্পন্ন মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

সাধারণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের তৃণমূল নারী নেত্রীদের দেখা করার কোন সুযোগ প্রায় নেই। সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান বিদেশ সফরে গেলে তৃণমূলে নারী নেত্রীদের সফরসঙ্গী করা হয় না সচরাচর। জেলায় কোন গুরুত্ব প্রায় বিষয়ে তৃণমূলের নারী কর্মীদের মতামত নেয়া হয় না। ফলে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কোন সুযোগ সৃষ্টি হয় না। যোগ্যতাসম্পন্ন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে কাজ করার সুযোগ দিন, তবেই দেশে দুর্নীতি কমবে এবং উন্নয়নের গতি বৃদ্ধি পাবে। শুরুতে কমপক্ষে ৫টি জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তৃণমূলের যোগ্য মহিলাকে নির্বাচিত করা হোক। কমপক্ষে ২/৩টি বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হোক। কমপক্ষে ১০ জন যোগ্য নারীকে তৃণমূল থেকে দলের প্রেসিডিয়ামে স্থান দেয়া হোক। প্রধানমন্ত্রী একজন নারীকে স্পীকার করেছেন। তিনি সফল। মতিয়া আপাকে মন্ত্রী করেছিলেন। তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে দেখিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত, সেনাবাহিনী, ডিসি, এসপিসহ অন্য সকল বিভাগে মহিলারা যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছেন। এমনকি যোগ্যতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দেশে ৪৫ লাখ মহিলা তৃণমূল পোশাক নারী কর্মী কাজ করে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল করেছে। যোগ্যতাসম্পন্ন নারীর হাতে পার্টির দায়িত্ব দিন। তারা আপনাকে হতাশ করবে না বলেই আমার বিশ্বাস। এটুকু বলতে পারি, তৃণমূলের নারীরা সরকারের উন্নয়নের সারথী হবে। উঁইপোকা হয়ে উন্নয়ন কর্মকা- ধ্বংস করবে না।

লেখক : সভানেত্রী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ, কুষ্টিয়া